ফণীর প্রভাবে উপকূলীয় নয় জেলায় ৭ নম্বর বিপদ সংকেত

ভারতে চলছে ফণীর তাণ্ডব। দেশটির উত্তর প্রদেশে ঘূর্ণিঝড় ফণীর প্রভাবে সৃষ্ট বজ্রপাতে ও গাছ উপড়ে অন্তত ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। ভারতে তাণ্ডব চালিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করছে ঘূর্ণিঝড় ফণী। এ দিকে ‘ফণী’র প্রভাবে উপকূলীয় নয় জেলায় ৭ নম্বর বিপদ সংকেত দেখাতে বলেছে আবহাওয়া অফিস। শুক্রবার (৩ মে) বিকেলে আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক শামছুদ্দিন আহমেদ সাংবাদিকদের সামনে এক ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান।

তিনি জানান, উপকূলীয় জেলা ভোলা, বরগুনা, পটুয়াখালী, বরিশাল, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, বাগেরহাট, খুলনা, সাতক্ষীরা এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহ ৭ নম্বর বিপদ সংকেতের আওতায় থাকবে।

এ ছাড়া চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দরকে ৬ নম্বর বিপদ সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। উপকূলীয় জেলা চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ফেনী, চাঁদপুর এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহ ৬ নম্বর সংকেতের আওতায় থাকবে। পাশাপাশি কক্সবাজার সমূদ্র বন্দরকে ৪ স্থানীয় হুঁশিয়ারি সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।

ফণীর প্রভাব বাংলাদেশে পড়েছে। বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার ঘূর্ণিঝড় ‘ফণী’র প্রভাবে বেড়িবাঁধ ভেঙে লোকালয় প্লাবিত হয়েছে। অনেকেই ঘরবাড়ি ছেড়ে গুরুত্বপূর্ণ মালামাল নিয়ে আশ্রয় নিতে শুরু করেছেন পার্শ্ববর্তী নিরাপদ স্থানে।

শুক্রবার (০৩ মে) সকাল থেকে বলেশ্বর নদীর পানি বাড়তে থাকে। স্রোতের চাপে উপজেলার পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) ৩৫/১ ফোল্ডারের বেড়িবাঁধ ভেঙে বগী, সাতঘর এলাকার লোকালয়ে পানি ঢুকে ঘরবাড়ি প্লাবিত হয়েছে।

অনেকেই ঘরবাড়ি ছেড়ে সন্তান-সন্ততি ও মূল্যবান জিনিসপত্র নিয়ে পার্শ্ববর্তী এলাকায় অবস্থান নিয়েছেন। পরিস্থিতির অবনতি হলে আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ারও প্রস্তুতি রয়েছে তাদের।

এ দিকে ফণীর প্রভাবে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টি শুরু হয়েছে। আজ শুক্রবার সকাল থেকেই আকাশে মেঘ ছিল। তবে মেঘের আড়ালে সূর্যও উঁকি দিচ্ছিল। তবে সকাল ১০টার দিকে শুরু হয় বৃষ্টি।

রাজধানীজুড়ে থেমে থেমে চলছে এই বৃষ্টি। কখনও প্রবল্ভাবে কখনও ধীরে ধীরে হচ্ছে বৃষ্টি। বেলা সাড়ে ৩টার পর থেকে সূর্যের মুখ দেখা যাচ্ছে না।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের সর্বশেষ আপডেটে জানানো হয়, বাংলাদেশের খুলনা এলাকায় সন্ধ্যা ছয়টা নাগাদ ঘূর্ণিঝড় ফণী আঘাত করতে পারে। এসময় বাতাসের গতিবেগ থাকবে ১৪০ থেকে ১৫০ কিলোমিটার। এটি অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ের রূপ নিয়েছে। ঝড়ের সময় বাতাসের সর্বনিম্ন গতিবেগ থাকবে ৮০ থেকে ৯০ কিলোমিটার।