‘আদর্শ বিসর্জন দেইনি বলেই সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেইনি’

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল কেন শপথ নেননি তার কারণ তুলে ধরে বলেন, আদর্শ বিসর্জন দেইনি বলেই সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেইনি। বেসরকারি একটি টিভির সঙ্গে আলাপকালে দলটির নেতারা দাবি করেন, তাদের প্রত্যাশা সংসদের বাইরে থেকে দলকে সুসংগঠিত করে দাবি আদায়ে নতৃত্ব দেবেন বিএনপি মহাসচিব।

এ দিকে গণস্বাস্থ্যকেন্দ্রের প্রতিষ্ঠিতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, বিএনপি মহাসচিবের শপথ না নেয়ার পেছনে রয়েছে আদর্শের দ্বন্দ্ব। দুর্ভাগ্যজনক কথা হলো, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সংসদে যেতে পারলেন না। এখানে একটা আদর্শিক ব্যাপার আছে। স্থায়ী কমিটি সদস্যরা শপথ নেয়ার জন্য একজনকে বহিষ্কার করলো এবং বলা হলো কোনোভাবেই তারা শপথ নেয়ার পক্ষে না। সেসব আদর্শগত কারণেই তিনি শপথ নিলেন না।

বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তাকেও শপথ নিতে বলেছিলেন। কিন্তু, তিনি তারেক রহমানকে সার্বিক অবস্থা বর্ণনা করে বোঝাতে সক্ষম হয়েছেন যে, উনি শপথ নিলে দলে কার্যকর ভূমিকা রাখায় অসুবিধা হবে। সংসদ এবং দল, দুটি একসঙ্গে দেখা কঠিন হবে। তাই তিনি শপথ নেননি।

দলটির ভাইস-চেয়ারম্যান মেজর (অব) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, মহাসচিব শপথ নেননি ভালোই করেছেন। এটি তার ব্যক্তিগত ইগোর বহিঃপ্রকাশ। তিনি যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তাতে অন্তত এটা প্রকাশ পাবে, উনি অন্তত সংসদে যাওয়ার জন্য অস্থির হয়ে যাননি।

মহাসচিব শপথ না নিয়ে দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করেছেন মন্তব্য করে স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করার পর আমরা একটা সিদ্ধান্ত নিলাম, যে আমরা সংসদে যাব। সেটা আমাদের ইচ্ছায় হোক আর অনিচ্ছায় হোক। কিন্তু, সিদ্ধান্ত হলো আমরা সংসদে যাব। সে সিদ্ধান্ত নেয়ার সময় মহাসচিবও ছিলেন। তাহলে তিনি কেন সে সিদ্ধান্ত গ্রাহ্য করলেন না। এটাই এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দেখা দেবে।

প্রসঙ্গত, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মির্জা ফখরুল শপথ না নেয়ায় বগুড়া-৬ আসনটি শূন্য ঘোষণা করা হয়েছে।