জৈনপুরী পীর আব্বাসীর ভাইকে অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের গার্মেন্টসে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের মামলায় মঙ্গলবার গভীররাতে পাঠানটুলী এলাকার নিজ বাড়ি থেকে জৈনপুরী পীর এনায়েত উল্লাহ আব্বাসীর ভাই নেয়ামত উল্লাহ আব্বাসীকে অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় তার কাছ থেকে একটি দো নলা বন্দুক ও কয়েকটি গুলির খোসা জব্দ করা হয়। পুলিশ জানিয়েছেন, নেয়ামত উল্লাহ আব্বাসীর বিরুদ্ধে জঙ্গি সম্পৃক্তার অভিযোগ রয়েছে এবং তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

আজ দুপুরে জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ বিপিএম, পিপিএম (বার) তার কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে গণমাধ্যমকে জানান, গত ২৫শে এপ্রিল এনায়েত উল্লাহ আবাসীর নেতৃত্বে জঙ্গি কায়দায় পাঠানটুলী এলাকায় এইচএন এ্যাপারেলস নামে একটি গার্মেন্টস কারখানার দেয়াল ভেঙ্গে ভেতরে প্রবেশ করে হামলা। এ সময় তারা ভাঙচুর ও লুটপাট করে সন্ত্রাসীরা। এ ঘটনায় গার্মেন্টস কর্তৃপক্ষ ওই রাতেই সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় নেয়ামত উল্লাহ আবাসীকে প্রধান আসামী করে ১১ জনের নামোল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও দেড়শ’ জনকে আসামী করা হয়।

এই মামলায় পুলিশ পরদিন চার আসামীকে গ্রেপ্তার করলেও নেয়ামত উল্লাহ আব্বাসীসহ অন্যান্য আসামীরা আত্মগোপনে থাকেন।

এরইমধ্যে রিভলবার হাতে ও সঙ্গে এসএমজি নিয়ে জঙ্গি আদলে তোলা এনায়েত উল্লাহ আব্বাসীর একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে ভাইরাল হলে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। এরপরই এনায়েত উল্লাহ আব্বাসী আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরে আসেন।

পুলিশ সুপার আরও জানান, জঙ্গি আদলে তোলা ছবিটির কারণে গ্রেপ্তারকৃত নেয়ামত উল্লাহ আবাসীর চালচলন ও গতিবিধি নিয়ে জঙ্গি সম্পৃক্ততার সন্দেহ সৃষ্টি হয়েছে। কোন জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে বাস্তবে তার সম্পৃক্ততা আছে কিনা সে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একইসঙ্গে উদ্ধারকৃত গুলির খোসাগুলো কোথায় ব্যবহৃত হয়েছে এবং কি উদ্দেশ্যে তিনি অস্ত্র হাতে জঙ্গি স্টাইলে ছবি তুলে ফেসবুকে প্রচার করেছেন সে বিষয়টিও পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

গ্রেপ্তারের পর নেয়ামত উল্লাহ আব্বাসীকে জিজ্ঞাসাবাদসহ তার বিষয়ে তদন্ত চলছে উল্লেখ করে নারায়ণগঞ্জে মাদক, জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে জড়িতদের পর্যায়ক্রমে আইনের আওতায় আনা হবে বলে জানান পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ।

প্রসঙ্গত, এনায়েতুল্লাহ আব্বাসী জৈনপুরীর ভক্তরা তাকে চেনেন পীরে কেবলা এনায়েতুল্লাহ আব্বাসী জৈনপুরী হিসেবে। ওয়াজে যাওয়ার ক্ষেত্রে এনায়েতুল্লাহ আব্বাসীর হেলিকপ্টার-প্রীতি সম্পর্কে অবগত অনেকে তাকে ‘হেলিকপ্টার হুজুর’ হিসেবে অভিহিত করছেন।