আগামীকাল আসবে শ্রীলঙ্কায় নিহত শেখ সেলিমের নাতির মরদেহ

শ্রীলঙ্কার রাজধানী কলম্বোয় ভয়াবহ সিরিজ বোমা হামলায় আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিমের নাতি জায়ান মারা গেছে বলে নিশ্চিত করেছেন শিল্পমন্ত্রী নুরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুন। একই সঙ্গে শেখ সেলিমের জামাতা মশিউর হক চৌধুরী আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি আছেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

সোমবার (২২ এপ্রিল) বেলা সাড়ে ১১টায় শেখ সেলিমের বনানী বাসা থেকে বের হয়ে এসে সাংবাদিকদের সঙ্গে এসব কথা বলেন শিল্পমন্ত্রী।

শিল্পমন্ত্রী নুরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুন বলেন, শ্রীলঙ্কার ঘটনা খুব মর্মান্তিক। এটা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। তারপরও আমরা এসেছি শেখ সেলিমকে সান্ত্বনা দিতে।

তিনি বলেন, শেখ সেলিমের নাতি জায়ান মারা গেছে কিন্তু জামাতা আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি আছেন। তবে তার দুটি পা ড্যামেজ হয়ে গেছে।

আগামীকাল (মঙ্গলবার) মধ্যে জায়ানের লাশ দেশে এসে যাবে বলে জানান তিনি।

এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, শেখ সেলিমের মেয়ে সনিয়াও এখন পর্যন্ত জানে না যে তার ছেলে নেই। প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি দেখছেন। শ্রীলঙ্কার সরকারের সঙ্গে কথা হচ্ছে। আমাদের অ্যাম্বাসির লোকজন যোগাযোগ করছেন।

আজ সকালে শেখ ফজলুল করিম সেলিমের বনানীর ২/এ রোডের ৯ নম্বর বাসায় যান শিল্পমন্ত্রী। মন্ত্রীর পর সাবেক নৌপরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান, সাবেক স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন, অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম ও শেখ সেলিমের ভাই শেখ মারুফ বাসায় প্রবেশ করেন।

এর আগে সকালে ১০-১২ জন হাফেজ বাসার নিচ তলায় বসে কোরআন খতম দিয়েছেন।

বাসা থেকে শেখ সেলিম বা অন্য কেউ সকাল সাড়ে ১১টা পর্যন্ত নাতি জায়ান চৌধুরীর মৃত্যুর কথা নিশ্চিত করেননি। তবে নাম প্রকাশ না করা শর্তে বাসার স্টাফরা বলেছেন, নাতি জায়ান চৌধুরী আর নেই।

শ্রীলঙ্কায় হামলার পর পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম গতকাল দুপুরে এক ব্রিফিংয়ে বলেছিলেন, বোমা হামলার ঘটনার পর থেকে এক শিশুসহ দুই বাংলাদেশির খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। তবে তাদের নাম-পরিচয় সে সময় প্রকাশ করেননি তিনি।

এরপর ব্রুনেই সফররত শেখ হাসিনা সেখানে প্রবাসীদের দেয়া এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তার বক্তব্যে নিজের স্বজনদের বোমা হামলার শিকার হওয়ার কথা প্রথম জানান। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ফুপাতো ভাই শেখ সেলিম।

প্রসঙ্গত, শ্রীলঙ্কায় রেবিবার (২১ এপ্রিল) খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের ইস্টার সানডে চলাকালে গির্জা এবং বিলাসবহুল হোটেল ও অন্যান্য স্থাপনায় ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলায় নিহত বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৯০ জনে। পুলিশের বরাত দিয়ে ব্রিটিশ সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এর আগে গতকাল রাত পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা ছিল ২০৭ জন।