বাবার বাড়িতে বেড়াতে এসে ধর্ষণের শিকার পাকিস্তানি কিশোরী

টাঙ্গাইলের গোপালপুরে বাবার বাড়িতে বেড়াতে এসে অপহরণ ও ধর্ষণের শিকার হয়েছে পাকিস্তানি এক কিশোরী। আর ধর্ষণের শিকার মেয়ের সুচিকিৎসা-নিরাপত্তা পেতে এখন দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন পাকিস্তানি মা। শনিবার দুপুরে টাঙ্গাইলের উত্তর গোপালপুর গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল ওয়াদুদের মেয়ে মর্জিনার সহায়তায় ধর্ষণের শিকার কিশোরীকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে আসেন মা। টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে বর্তমানে চিকিৎসা চলছে কিশোরীর।

এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় একজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গত বুধবার রাতে ধর্ষিতার মা বাদী হয়ে তিনজনকে আসামি করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে গোপালপুর থানায় মামলা দায়ের করলে অভিযান চালিয়ে ঘটনার প্রধান আসামির মাকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

গ্রেফতার ওই নারীর দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার ভোর রাতে জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার মহিষাকান্দির এক বাসা থেকে বন্দিদশা থেকে ধর্ষিতাকে উদ্ধার করা হয়।

জানা যায়, ভিসা নিয়ে মায়ের সঙ্গে বাংলাদেশে বেড়াতে এসে প্রথমে অপহরণ ও পরে ধর্ষণের শিকার হয় ওই কিশোরী। সে পাকিস্তানের নিউ করাচির সুপার হাইওয়েজ রোডের নাগরিক ও স্থানীয় একটি স্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্রী। তার বাবা টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার উত্তর গোপালপুর গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। তিনি প্রায় ২৫ বছর আগে পাকিস্তানের নিউ করাচিতে গিয়ে বিয়ে করে বসবাস শুরু করেন। এরপর সেখানেই মারা যান।

পাঁচ মাস আগে ওই নারী ছয় মাসের ভিসা ও কন্যাকে সঙ্গে নিয়ে স্বামীর বাড়িতে বেড়াতে আসেন। ওঠেন উত্তর গোপালপুর গ্রামের বাসিন্দা ভাসুর আব্দুল ওয়াদুদের বাড়িতে। সেখানে ওঠার পর থেকেই আরেক ভাসুর আবুল হোসেনের বখাটে ছেলে আল-আমিন ওই কিশোরীকে উত্যক্ত করতে থাকে। বেশ কয়েকবার শ্লীলতাহানির চেষ্টা করেও সে। তবে সে সময় পারিবারিকভাবে বিষয়টির ফয়সালার চেষ্টাও হয়।

তবে তাদের ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে আসার খবর পেয়ে বখাটে আল-আমিন ক্ষুব্দ হয়ে ওঠে। গত ১৬ এপ্রিল রাতে একদল সন্ত্রাসীর সহযোগিতায় ওই কিশোরীকে চাচার বাড়ি থেকে কৌশলে অপহরণ করে। পরে আটকে রেখে একাধিকবার ধর্ষণ করে।

কিশোরীর মা জানান, তিনি ও তার মেয়ে ঠিকমতো বাংলা বলতে পারেন না। শখ করে বাবার দেশ দেখতে এসে নিজের পরিজনের হাতেই সর্বনাশের শিকার হলো তার কিশোরীকন্যা। নির্যাতনে কন্যাটি মুষড়ে পরেছে। তিনি এ ঘটনার সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেন।

পুলিশ জানায়, ১৭ এপ্রিল আল-আমিনসহ তিনজনকে আসামি করে গোপালপুর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন পাকিস্তানি কিশোরীর মা। মামলার পরপরই অভিযান চালিয়ে ঘটনায় জড়িত প্রধান আসামির মা আনোয়ারা বেগমকে (৪৭) গ্রেফতার করা হয়। আসামির মায়ের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার ভোরে জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার মহিষাকান্দি মোড়ের একটি বাসা থেকে ধর্ষণের শিকার কিশোরীকে উদ্ধার করা হয়। পরে কিশোরীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

ধর্ষণের শিকার কিশোরীর মা বলেন, মেয়েকে ধর্ষণের আলামত সংগ্রহের পরীক্ষা বা হাসপাতালে ভর্তি-সংক্রান্ত কোনো তথ্য আমি এখনো জানি না। ধর্ষণের ঘটনার পাঁচদিন পেরিয়ে গেলেও ধর্ষক গ্রেফতার না হওয়ায় বিচার প্রাপ্তি নিয়ে শঙ্কা রয়েছে। পাশাপাশি আমাদের ভিসার মেয়াদ প্রায় শেষ হওয়ার পথে। কিন্তু এখনো মেয়ের সুচিকিৎসার ব্যবস্থা না হওয়ায় পুনরায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। হাসপাতালেও চরম নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছি আমরা। পাকিস্তান গিয়ে মেয়ের বাবাকে কী জবাব দেব আমি। এমন জানলে বাংলাদেশে আসতাম না আমরা।

কিশোরীর চিকিৎসা প্রাপ্তির বিষয়ে সহায়তাকারী মর্জিনা বলেন, আমার চাচাতো বোনকে ধর্ষণ করেছে আল-আমিন। আল-আমিনকে না পেয়ে তার মা আনোয়ারা বেগমকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। কিন্তু তাকে এখনো গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। চাচাতো বোনকে চিকিৎসায় সহায়তা করায় আমার বাবা এবং পরিবারের সদস্যদের হত্যার হুমকি দিচ্ছে ধর্ষক আল-আমিন ও তার পরিবারের লোকজন।

গোপালপুর থানা পুলিশের ওসি হাসান আল মামুন বলেন, ধর্ষক আল-আমিনকে এখনো গ্রেফতার করা যায়নি। তাকে ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন পাকিস্তানি কিশোরী ও তার পরিবারের নিরাপত্তায় নিয়োজিত রয়েছে পুলিশ।

টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায় ডা. নারায়ণ চন্দ্র সাহা বলেন, কিশোরীর ধর্ষণের আলামত নেয়া পরীক্ষার ফলাফল এখনো আমরা পাইনি। ধর্ষণের শিকার কিশোরীর সুচিকিৎসায় সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।