ডিএমপির নিষেধাজ্ঞার পরেও পুরান ঢাকায় বিক্রি হচ্ছে আতশবাজি

প্রতি বছরের ন্যায় এবারো আরবি মাসের চাঁদের উপরে ভিত্তি করে রবিবার সারাদেশে ধর্মীয় ভাবগম্ভীর্যের মধ্যদিয়ে ধর্মপ্রাণ মুসুল্লীরা পবিত্র শবেবরাত পালন করবেন। আর ইতিমধ্যে শবে বরাতের রাতে পটকা ও আতশবাজি নিষিদ্ধ করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। কিন্তু বাস্তব চিত্র উল্টো। পুরান ঢাকার বিভিন্ন স্থানে বিক্রি হচ্ছে নিষিদ্ধ আতশবাজি।

শরিবার (২০ এপ্রিল) ডিএমপির পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে মাধ্যমে জানানো হয়েছে, শবে বরাতের পবিত্রতা রক্ষার্থে এবং দিনটি সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে উদযাপন করতে রবিবার (২১ এপ্রিল) সন্ধ্যা ছয়টা থেকে পরদিন সোমবার (২২ এপ্রিল) সকাল ছয়টা পর্যন্ত বিস্ফোরকদ্রব্য, আতশবাজি, পটকাবাজি, অন্যান্য ক্ষতিকারক ও দূষণীয় দ্রব্য বহন এবং ফোটানোর উপরে নিষিদ্ধ জারি করেছে।

কিন্তু প্রশাসনের নির্দেশনা উপেক্ষা করে পুরান ঢাকার চকবাজার-মৌলভীবাজা ও তাঁতীবাজার এলাকায় পবিত্র শবে বরাতকে সামনে রেখে একটি সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেট চক্র পাইকারি ও খুচরা দুই ভাবেই বিক্রি করে যাচ্ছে নিষিদ্ধ বিস্ফোরক সামগ্রী। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিত থাকলেও থেমে নেই কেনা-বেচা।

নাম না প্রকাশের শর্তে লক্ষীবাজারের একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, এসব প্রতি বছরের খেলা। আপনাদের (মুসলমানদের) শবেবরাতের ঠিক আগের দিন একটি ঘোষণা আসবে কোনো আতশবাজি ও বিস্ফোরক সামগ্রী বিক্রি করা যাবে না। তার পরে কয়েক দফা পুলিশ এসে লোক দেখানো কিছু টোহল দিবে। আসলে এতে কোনোই লাভ নেই। কারণ আর আগেই পুরান ঢাকার পাইকারী ব্যবসায়ীরা নিষিদ্ধ এসব বিস্ফোরক রাজধানী ছাপিয়ে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের খুচরা দোকানিদের কাছে পৌঁছিয়ে দেন।

এ সময় তিনি আরো বলেন, এখানে তো ছোট ছোট চালান বিক্রি হচ্ছে। কিন্তু আর মূল চালান কিন্তু চকবাজার থেকেই আসে।

তার দেওয়া তথ্যের সূত্র ধরে চকবাজারের শাহী মসজিদ সংলগ্ন জরি মার্কেট এলাকায় গেলে সত্যতা পাওয়া যায়। জরি মার্কেটসহ আশপাশের কয়েকটি মার্কেটের নামসর্বস্ব দোকানে ভারত ও চীনের গুয়াংজু প্রদেশ থেকে পটকা-আতশবাজি ও তার কাচামাল আমদানি করে এখানে ব্যবসা চলছে।

তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছেন, পবিত্র শবেবরাতের রাতে ধর্মীয় এ উৎসব নির্বিঘ্ন করতে পটকা-আতশবাজি ফোটানো ও বিস্ফোরক বহন নিষিদ্ধ। কেউ যদি এসব বিস্ফোরক সামগ্রী বিক্রি, বহন ও ফোটানোর চেষ্টা করে, তাহলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পুরান ঢাকার এক ব্যবসায়ী জানান, শুধু মাত্র শবে বারাত এর জন্য এগুলো আনা হয় না। হিন্দুদের পুজাতেও এর বেশ চাহিদা থাকে। তা ছাড়া বিভিন্ন উৎসবে ভালো বিক্রি হয়। এককথায় প্রায় সারা বছর বিক্রি হচ্ছে এগুলো।

কি কি পণ্য বিক্রি করছেন?- মূলত পটকা, চকলেট বোমা, আতশবাজি, তারাবাতি, র্সোরা, মরিচবাতি বেশি বিক্রি হয়। এছাড়া বর্তমানে রকেট বোমার বেশ চাহিদা আছে।

নিষেধাজ্ঞার পরেও কেন বিক্রি করছেন?- আসলে ভাই আমরা বিক্রি আরো ৭ দিন আগে থেকে বন্ধ করে দিয়েছি।

তাহলে বাজারে যে বিক্রি হচ্ছে?- আসলে সেগুলো কে বা কারা বিক্রি করছে তা আমরা জানি না। আর তা দেখাও আমার বা আমাদের কাজ না।

এ সময় অন্য এক ব্যবসায়ী বলেন, এখন যে মাল গুলো বাজারে পাওয়া যাচ্ছে সেগুলো লালবাগের শহীদনগর বৌবাজার-আমলীগোলা মোড়ে বেড়িবাঁধ সংলগ্ন জামাল কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ নামে একটি কারখানার। এই কারখানার মালিক মো. সিরাজ। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ম্যানেজ করেই তারা এ ব্যবসা চলছে দীর্ঘদিন ধরে।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক (গোয়েন্দা) মো. নজরুল ইসলাম সিকদার সাথে এবিষয়ে জানতে চাওয়া হয় কেন এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে না?

তিনি বলেন, আসলে আমরা তাঁদের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযান দিয়েছি। আর আমাদের অভিযানের কারণেই এখন আগের চেয়ে অনেক অংশেই কমেয়েছে তাদের কার্যক্রম। আর এখন যারা ব্যবসা করছে তাঁদের ধরার জন্য আমাদের একটি বিশেষ টিম কাজ করছে। আশা করছি দ্রুত তাদের কেউ আইনের আওতায় আনতে পারবো।

এ বিষয়ে ডিএমপির মিডিয়া এন্ড পাবলিক রিলেশনস বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মো.মাসুদুর রহমান পিপিএম বলেন, প্রকাশ্যে নয় গোপনে চলছে তাদের কার্যক্রম। কিন্তু আমরা তাদের ধরার জন্য আমাদের বিশেষ কার্যক্রম চলছে। কিন্তু খুব দ্রুততার সাথে আমরা নিশ্চিত করবো যাতে ঢাকায় যে কোনো প্রকার বিস্ফোরকদ্রব্য বিক্রি বন্ধ হয়।