হাতিরঝিলের বিজিএমইএ ভবন ভাঙার প্রক্রিয়া শুরু

আদালতের রায়ে অবৈধ বিবেচিত রাজধানীর হাতিরঝিলের বিজিএমইএ ভবন ভাঙার প্রক্রিয়া শুরু করেছে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)।

সর্বোচ্চ আদালত ভবন ভাঙার রায় দেওয়ার পর কয়েক দফায় সময় নিয়েছিলেন তৈরি পোশাক রপ্তানিকারকরা। সবশেষ আদালতের দেওয়া সাত মাস সময়সীমা গত ১২ এপ্রিল শেষ হয়। ওই সময়সীমা অতিক্রান্ত হওয়ার পর মঙ্গলবার সকালে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর বিপুল সংখ্যক সদস্য নিয়ে ১৫ তলা ওই ভবনের সামনে অবস্থান নেন রাজউক কর্মকর্তারা। ভবন ভাঙার আধুনিক সব যন্ত্রপাতিও রয়েছে তাদের সঙ্গে।

রাজউকের পরিচালক (প্রশাসন) খন্দকার অলিউর রহমান বলেছেন, ‘এই ভবনের বিভিন্ন তলায় ১৯টি প্রতিষ্ঠানের অফিস রয়েছে। আমরা আপাতত এসব প্রতিষ্ঠানের মালামাল সরিয়ে নিতে বলছি। এটা ভবন ভাঙার কাজেরই একটা অংশ। যেহেতু অনেকগুলো প্রতিষ্ঠান তাদের অনেক মালামাল, সেগুলো সরাতেও কিছুটা সময় লাগবে। এরপর আমরা ভবন ভাঙার কাজ শুরু করব।’

১৯৯৮ সালে সরকারের কাছ থেকে জমি বরাদ্দ নিয়ে হাতিরঝিলে বিজিএমইএ ভবন নির্মাণ শুরু করেছিলেন দেশের রপ্তানি আয়ের প্রধান খাত তৈরি পোশাক শিল্পের উদ্যোক্তারা, যার কাজ শেষ হয় ২০০৭ সালে।

কিন্তু জলাশয় ভরাট করে ভবন তুলতে মানা করা হয়েছিল বলে সম্প্রতি জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। জমি দেওয়ার সময়ও তিনিই প্রধানমন্ত্রী ছিলেন।

বিভিন্ন পরিবেশবাদী সংগঠন শুরুতেই অভিযোগ তুলেছিল, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অনুমতি না নিয়ে এবং উন্মুক্ত স্থান ও প্রাকৃতিক জলাধার সংরক্ষণ আইন-২০০০ ভঙ্গ করে বেগুনবাড়ি খালের একাংশ ভরাট করার মাধ্যমে ওই ভবন তোলা হয়েছে।

সংবাদপত্রে প্রতিবেদন নজরে আনা হলে ২০১০ সালের ৩ অক্টোবর হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে রুল দেয়। চূড়ান্ত শুনানি শেষে ২০১১ সালের ৩ এপ্রিল বিজিএমইএ ভবন অবৈধ ঘোষণা করে রায় দেয় হাই কোর্ট।

রায়ে বলা হয়, রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের অধিগ্রহণ করা ওই জমি ১৯৯৮ সালে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো যেভাবে বিজিএমইএকে দিয়েছে, তা ছিল বেআইনি।

হাই কোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে বিজিএমইএ কর্তৃপক্ষ আপিল করলে ২০১৬ সালের ২ জুন তাও খারিজ হয়ে যায়। সর্বোচ্চ আদালতের রায় পুনর্বিবেচনার আবেদনও খারিজ হয়ে গেলে ভবনটি ছেড়ে দেওয়া ছাড়া আর গত্যন্তর ছিল না বিজিএমইএর।

তখন তারা ভবন থেকে কার্যক্রম সরিয়ে নিতে সময় চায় আদালতের কাছে। গত বছরের অগাস্টে সময় দেওয়ার সময় আদালত বিজিএমইএর কাছ থেকে মুচলেকা নিয়েছিল যে তারা আর সময় বাড়ানোর আবেদন করবে না।

হাতিরঝিলের ভবনটি রাখতে না পারার পর এখন ঢাকার উত্তরায় ১১০ কাটা জমির উপর ১৩ তলা নতুন ভবন তৈরি করছে বিজিএমইএ; গত সপ্তাহে তা উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।