জাবিতে আবারও র‍্যাগিংয়ের অভিযোগ

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পাবলিক হেলথ এন্ড ইনফরমেটিক্স বিভাগের পর এবার সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম অধ্যায়ন বিভাগে র‍্যাগিং এর ঘটেছে। গতকাল সোমবার রাত আটায় উক্ত বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের কয়েকজন শিক্ষার্থী প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদেরকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মাঠে নিয়ে ম্যানার শিখানোর নামে এই নির্যাতন করে বলে অভিযোগ করেছেন র‍্যাগিং এর শিকার কয়েকজন শিক্ষার্থী।

এবিষয়ে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা মৌখিক অভিযোগ করেছেন বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর সহযোগী অধ্যাপক আ স ম ফিরোজ উল হাসান।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে জানা যায়, সোমবার বিভাগের আয়োজনে ক্রিকেট টুর্নামেন্ট হলে খেলা দেখার জন্য প্রথম বর্ষের সকল শিক্ষার্থীকে মাঠে যেতে বলেন উক্ত বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীরা।

কিন্তু প্রথম বর্ষের মাত্র ২০-২৫জন শিক্ষার্থী মাঠে যায়। সকলে মাঠে না যাওয়ার কারনে রাত ৮টায় তাদেরকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে ডাকেন দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীরা। এসময় প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের অকথ্য ভাষায় গলিগালাজ ও কান ধরে দাড় করিয়ে রাখাসহ ও হাত পা মুড়িয়ে বসিয়ে রাখেন তারা। এসময় দ্বিতীয় বর্ষের রাইসুল ইসলাম রাজু নামের এক শিক্ষার্থী উত্তেজিত হয়ে প্রথম বর্ষের এক শিক্ষার্থীর দিকে জুতা নিক্ষেপ করে। এছাড়া অনেক শিক্ষার্থীকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয় বলেও অভিযোগ করেন তারা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রথম বর্ষের এক শিক্ষার্থী বলেন, ’বড় ভাইয়েরা আমাদের সংশোধনের জন্য বিভিন্ন উপদেশ ও পরামর্শ দিবেন এজন্য তাদের ডাকে আমরা কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে গিয়েছিলাম। কিন্তু তাদের এধরনের ব্যবহার আমাদের প্রত্যাশিত ছিল না’।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা আরো জানান, শহীদ সালম বরকত হলের তানভীর হোসেন, হারুনুর রশিদ, বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলের এনামুল হক তামীম, মওলানা ভাসানী হলের রাইসুল ইসলাম রাজু, তাওসিফ আব্দুল্লাহ, স্টিব সলগা রেমা, জাকির হোসেন জীবন, মাহবুবুর রহমান, বেগম খালেদা জিয়া হলের সারা বিনতে সালাহ, প্রীতিলতা হলের সায়মা লিমা, ফাবিয়া বিনতে হক সহ আরও ৩-৪ জন এ সময় র‍্যাগিং এর ঘটনায় জড়িত ছিলেন।

এদের মধ্যে জাকির হোসেন জীবন সময়ের আলো পত্রিকার বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি বলে জানা যায়। এদিকে র‍্যাগিং করার পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন করার বিষয়ে কোন অভিযোগ করতে নিষেধ করে রাত পৌনে দশটার দিকে দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীরা সেখান থেকে চলে যায়।

খবর পেয়ে রাত ১০টায় ঘটনাস্থলে যান বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর। এ সময় প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীরা প্রক্টরের কাছে ঘটনা বর্ণনা করে মৌখিকভাবে অভিযোগ দেন।

এ বিষয়ে বিশ্বদ্যিালয়ের প্রক্টর আ স ম ফিরোজ উল হাসান বলেন, ”রাত ১০টার দিকে প্রথমবর্ষের এক শিক্ষার্থী ও বিভাগের সভাপতির কাছ থেকে কল পেয়ে আমরা ঘটনা স্থলে যাই। তখন দ্বিতীয় বর্ষের কোন শিক্ষার্থীকে আমরা সেখানে পায়নি। তবে প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে জেনেছি যে তাদেরকে বিভিন্ন ভাবে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হয়েছে। এর মধ্যে কয়েকজনকে কান ধরে উঠবস করানো, জুতা ছুড়ে মারা, অশ্লীল গালাগালি করা সহ মুরগী বানানো হয় (হাত- পা মুড়িয়ে বসানো, এক প্রকার শাস্তি)।”

তিনি আরো বলেন, ‘আমরা তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের বক্তব্য রেকর্ড করেছি। কাল তারা লিখিত অভিযোগ দিবে যেহেতু র‍্যাগিংয়ের ঘটনা সেহেতু সবসময় লিখিত অভিযোগ লাগে না। আমরা আমাদের কার্যক্রম শুরু করে দিয়েছি।’

এব্যাপারে সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম অধ্যায়ন বিভাগের সভাপতি সহযোগী অধ্যাপক শেখ আদনান ফাহাদ বলেন, ‘গতকাল রাতের ঘটনা সত্য। আমরা আজ ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদেরকে নিয়ে বসবো এবং এই বিষয়ে যথাযথ ব্যাবস্থা গ্রহন করা হবে ’।

শাকিল ইসলাম, জাবি প্রতিনিধি