‘এইচএসসি পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের কোনো আশঙ্কা নেই’

সোমবার (১ এপ্রিল) সকালে রাজধানীর সিদ্ধেশ্বরী গার্লস কলেজ পরীক্ষা কেন্দ্র পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের কাছে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেন, প্রশ্নফাঁস ছাড়াই এইচএসসি পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হবে বলে আশা করছি।

এরআগে, গতকাল রবিবার (৩১ মার্চ) চট্রগ্রামে একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে দীপু মনি বলেন, এইচএসসি পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের কোনো আশঙ্কা নেই। সদ্য শেষ হওয়া এসএসসি পরীক্ষার মতো এইচএসসি পরীক্ষাও সুষ্ঠুভাবে শেষ হবে।

প্রশ্নপত্র ফাঁস ও গুজব ছড়ানোর বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, প্রতারক চক্র বিভিন্নভাবে মানুষকে প্রতারিত করতে গুজব ছড়ায়। কোনো রকমের গুজবে কান না দিতে এবং অনৈতিক কোনো লেনদেন না করতে তিনি পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের আহ্বান জানান।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, যারা অনৈতিক কাজের সাথে জড়িত থাকবে তাদের কঠিন শাস্তির আওতায় আনা হবে। সব গোয়েন্দা সংস্থা ও আইন শৃঙ্খলা বাহিনী সচেতন রয়েছে বলেও তিনি জানান।

উল্লেখ্য, প্রশ্নফাঁসসহ সব ধরনের অব্যবস্থাপনা রোধে ইতোমধ্যে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। পরীক্ষাকে নির্বিঘ্ন করতে কোচিং সেন্টার বন্ধসহ অন্তত ২২ ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার।

সারা দেশে এবার ১৩ লাখ ৫১ হাজার ৫০৫ পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করছে। গত বছরের চেয়ে এবার পরীক্ষার্থী বেড়েছে ৪০ হাজার ৪৮ জন।

এইচএসসি ও সমমানের মোট পরীক্ষার্থীদের মধ্যে ছাত্রীর সংখ্যা বেশি। মোট ১৩ লাখ ৫১ হাজার ৫০৫ পরীক্ষার্থীর মধ্যে ছাত্র ৬ লাখ ৬৪ হাজার ৪৯৬ জন, বাকি ছয় লাখ ৮৭ হাজার ৯ জন ছাত্রী। এর মধ্যে এইচএসসি পরীক্ষার্থী ১১ লাখ ৩৮ হাজার ৭৪৭ জন।

এবার এইচএসসি সমমানের মোট ৫১টি বিষয়ে ১০১টি পত্রের পরীক্ষা হবে। বিভিন্ন সিলেবাসে পত্রের সংখ্যা ১৫১টি। সারা দেশে মোট ২ হাজার ৫৮০টি কেন্দ্রের প্রায় ৪০ হাজার কক্ষে পরীক্ষা শুরু হয়। প্রতিদিন কমপক্ষে ১ লাখ শিক্ষক পরীক্ষার কাজে নিয়োজিত থাকছেন। পরীক্ষা নিতে বাংলা ও ইংরেজি ভার্সন ও ব্যবহারিক পরীক্ষার জন্য মোট ৩ হাজার ৯৩২ ধরনের প্রশ্ন ছাপা হয়েছে।

এবারও পরীক্ষা শুরুর ৩০ মিনিট আগে পরীক্ষা কক্ষে প্রবেশ করে নির্ধারিত আসনে বসতে হবে। অনিবার্য কারণে কোনো পরীক্ষার্থীর দেরি হলে রেজিস্ট্রারে নাম, ক্রমিক নম্বর ও দেরির কারণ উল্লেখ করতে হবে। দেরিতে আসা পরীক্ষার্থীদের তালিকা প্রতিদিন কেন্দ্র সচিব সংশ্লিষ্ট বোর্ডকে পাঠাবেন। কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ছাড়া অন্য কেউ পরীক্ষা কেন্দ্রে মোবাইল ফোন বা অননুমোদিত ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহার করতে পারবে না।

ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এমন একটি ফোন ব্যবহার করবেন, যা দিয়ে ছবি তোলা বা ইন্টারনেট ব্যবহার করা যায় না। ট্রেজারি বা থানা থেকে প্রশ্নপত্র গ্রহণ ও পরিবহন কাজে নিয়োজিত কর্মকর্তা-শিক্ষক-কর্মচারীরাও কোনো ফোন ব্যবহার করতে পারবেন না। প্রশ্নপত্র বহনের কাজে কালো কাচের মাইক্রোবাস বা এ ধরনের কোনো যানবাহন ব্যবহার করা যাবে না। কোন সেটের প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেয়া হবে তার কোড পরীক্ষা শুরুর ২৫ মিনিট আগে এসএমএসের মাধ্যমে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে জানিয়ে দেয়া হবে।

এছাড়া পরীক্ষা চলাকালীন কেন্দ্রের ২০০ গজের মধ্যে শিক্ষক, ছাত্র ও কর্মচারীদের মোবাইল ফোনের সুবিধাসহ ঘড়ি, কলমসহ ইলেট্রনিক্স ডিভাইস ব্যবহার নিষিদ্ধ থাকবে। ট্রেজারি বা থানা থেকে প্রশ্ন কেন্দ্রে পৌঁছানোর জন্য দূরত্ব অনুযায়ী বেশি সময় আগে প্রশ্ন বিতরণ না করে প্রয়োজনীয় সময় নির্ধারণ করে প্রশ্নপত্র বিতরণ করতে হবে।

প্রত্যেক কেন্দ্রের অভ্যন্তরে একটি ফটোকপি মেশিন রাখার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বোর্ড কর্তৃপক্ষ প্রত্যেক কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশনা প্রদান করেছে।

যদি কোনো মোবাইল নম্বরে একাধিকবার একই অঙ্কের টাকার সন্দেহজনক লেনদেন করা হয় তাহলে সংশ্লিষ্ট এজেন্টকে নিকটস্থ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে অবহিত করতে হবে। অনিবার্য কারণে পরীক্ষা শুরু করতে বিলম্ব হলে প্রশ্নে উল্লেখিত নির্ধারিত সময় শিক্ষার্থীদের দিতে বলা হয়েছে।