ফরিদপুরে নির্মমভাবে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যার প্রতিবাদে মানববন্ধন

ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার ডুমাইন পশ্চিমপাড়ার জিলাল মৃধার পুত্র আতর আলীকে (২৭) নির্মমভাবে পিটিয়ে ও কুপিয়ে জখম করে হত্যার প্রতিবাদ ও হত্যাকারীদের গ্রেফতার দাবীতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছে নিহতের পরিবার, স্বজন এলাকাবাসী। শনিবার (৩০ মার্চ) বিকাল ৬ টায় উপজেলার ডুমাইন বাজারে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে বিভিন্ন শ্রেণী পেশার কয়েকশ নারী পুরুষ অংশ নেন।

মানববন্ধনে ডুমাইন ইউনয়নের চেয়ারম্যান মো. খুরশীদ আলম মাসুম, সাবেক চেয়ারম্যান মো. আলতাফ হোসেন, শফিকুল হক মিয়া, রওশন ইসলাম গরীব, সাকির আহএমদ, মতিয়ার রহমান মোল্লা, মো. মহসিন আলী বিশ্বাস বক্তব্য রাখেন। তারা এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা জ্ঞাপন করে অবিলম্বে দোষীদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিত করার দাবী জানান।

নিহতের পরিবারের দাবী, গত ২৩ মার্চ সন্ধ্যায় ডুমাইন মাঠ থেকে বাড়ী ফেরার সময় বড় দোয়াল এলাকায় পৌঁছালে প্রতিপক্ষের ১৫-২০জন হামলা চালিয়ে বেধড়ক পিটিয়ে ও কুপিয়ে আতর আলীকে আহত করে। আহতাবস্থায় তাকে প্রথমে মধুখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে ২৫ মার্চ তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর কর হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৯ মার্চ সন্ধ্যায় আতরের মৃত্যু হয়।

নিহতের স্ত্রী রুনা বেগম জানান, তার দুই শিশুপুত্র ও এক শিশু কন্যা রয়েছে। অসহায় পরিবারটির একমাত্র উপার্জনক্ষম আতরের মৃত্যুতে পুরো পরিবারটি নিরাপত্তাহীন হয়ে পড়েছে বলে দাবী করেন তিনি। এসময় তিনি স্বামী হত্যাকারীদের গ্রেফতার ও বিচারের দাবী জানান।

এ বিষয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও মধুখালী থানার উপ-পরিদর্শক মাহাবুল করিম জানান, হামলার পর ২৪ মার্চ আব্দুর রাজ্জাক বাদী হয়ে থানায় অভিযোগ দেন, যার ভিত্তিতে আটজন নামীয় আসামী ও ১০-১২জনকে অজ্ঞাত আসামী করে মামলা রুজু হয়েছে। তিনি জানান, আহত আতরের মৃত্যুর পর আদালতের অনুমতি সাপেক্ষে ওই মামলাটির সাথে হত্যা মামলার ৩০২ ধারা সংযুক্ত করা হবে। তিনি দাবী করেন, এ ঘটনায় পুলিশি তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে, এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি তবে পুলিশের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালানো হচ্ছে।

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর প্রতিনিধি