কালীগঞ্জে মোবাইল কোর্টের হানায় চা প্রতিষ্ঠান সিলগালা

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে একটি চা বিক্রয় প্রতিষ্ঠান সিলগালা করেছে বিজিবি ও পুলিশ। ট্যাক্স ফাঁকি দিয়ে অবৈধ ভাবে ভারতীয় চা এনে প্যাকেটজাত করে বিক্রি করার অভিযোগে এ প্রতিষ্ঠানটি সিল করা হয়। বৃহস্পতিবার দুপুরে কালীগঞ্জ পৌর শহরের নিশ্চিন্তপুর ফুড গোডাউন পাড়ায় বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আক্কাচ আলীর বাড়িতে এ অভিযান চালায় বিজিবি ও পুলিশ।

গোডাউনে প্রায় ১০ হাজার কেজি গুড়া চাপাতি মজুদ রয়েছে। এসময় তাদের সাথে ছিলেন ঝিনাইদহ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট হেদায়েত উল্লাহ। তিনি ১৫ বছর ধরে এ ব্যবসা করে আসছেন। বেশির ভাগ চা তে ভারতীয় গুড়া চা রং মিশিয়ে বিক্রি করতো। এটা অতি নিম্নমানের চা। চা খেলে নানা ধরনের রোগ হতে পারে। চা গুড়াতে কোন প্রকার টেম্পার নাই।

চুয়াডাঙ্গা বিজিবির সিও লেফটেনেন্ট কর্নেল ইমাম হাসান জানান, আমরা বেশ কিছুদিন আগে থেকে সংবাদ পায় আক্কাচ আলী নামের একজন ব্যবসায়ী ভারত থেকে অবৈধ ভাবে গুড়া চাপাতি এনে প্যাকেটজাত করে বাজারে বিক্রি করছেন। এছাড়া সরকারের ট্যাক্স ফাঁকি দিয়ে তিনি ব্যবসা করে আসছেন। আমরা নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট ও পুলিশের সহযোগীতায় এই গোডাউনে অভিযান চালিয়ে সত্যতা পেয়েছি।

তিনি আরো জানান, চা এর ব্যবসা করতে হলে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের তিনটি লাইসেন্সে থাকতে হয়। কিন্তু তার একটি লাইসেন্সও নাই। এখন প্রতিষ্ঠানটি সিলগালা করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় শর্ত পূরন করে তিনি ব্যবসা করতে পারবেন বলেও জানান এই বিজিবি কর্মকর্তা।

তবে অভিযুক্ত ব্যবসায়ী আক্কাচ আলী বিজিবির অভিযোগ নাকচ করে দিয়ে বলেন, আমি সিলেটের শেতাবগঞ্জ থেকে টেন্ডারের মাধ্যমে চাপাতি এনে প্যাকেটজাত করে বিক্রি করি। টেন্ডারের সময়ই সরকার ট্যাক্স কেটে রাখে বলে তিনি দাবি করেন।

তিনি বলেন, আমার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সব কাগজপত্র আছে বলে যোগ করেন এই চা ব্যবসায়ী।

ঝিনাইদহ নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট হেদায়েত উল্লাহ বলেন, তিনি ট্যাক্স ফাঁকি দিয়ে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে পিউলি চা নামে প্যাকেট করে বাজারে বিক্রি করেন। তাছাড়া তিনি টেন্ডারের চা ক্রয় করেন বলে দাবি করলেও কোন লাইসেন্স দেখাতে পারেননি। সিলগালা করা এই গোডাউনে প্রায় ১০ হাজার কেজি গুড়া চাপাতি রয়েছে।

তিনি আরো বলেন, আমাদের দেশীয় চাপাতির প্রসার বাড়াতে এ অভিযান চালানো হয়েছে বলে দাবি করেন।

জাহিদুর রহমান তারিক, ঝিনাইদহ প্রতিনিধি