বনানীর অগ্নিকাণ্ড, হাসপাতালগুলোতে ভর্তি ৫৯ জন

বনানীর এফ আর টাওয়ারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এ পর্যন্ত ২৫ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গুলশান বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) মোস্তাক আহমেদ। ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় মোট ১২০ জন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে বর্তমানে ৫৯ জন রাজধানীর বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। প্রাথমিক চিকিৎসা গ্রহণের পর বাকিরা হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র নিয়ে ফিরে গেছেন।

শুক্রবার (২৯ মার্চ) রাজধানীর মহাখালীর স্বাস্থ্য অধিদফতরে ন্যাশনাল হেলথ ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট সেন্টার ও নিয়ন্ত্রণ কক্ষ সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. বোরহান উদ্দিন জানান, বর্তমানে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের মধ্যে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি সাতজন, ঢামেক বার্ন ইউনিটে ছয়জন, কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে ১১ জন, সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে পাঁচজন, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তিনজন, ইউনাইটেড হাসপাতালে ১৫ জন, অ্যাপোলো হাসপাতালে ছয়জন, শাহাবুদ্দিন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঁচজন ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে একজন চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এদের মধ্যে কারোর অবস্থা আশঙ্কাজনক নয়। বেশিরভাগই শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।

এদিকে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে জানিয়েছেন ফায়ার সার্ভিসের ঢাকা বিভাগীয় উপ-পরিচালক দেবাশিষ বর্ধন। তিনি বলেন, ভবনের ভেতরে উদ্ধার কাজ চলছে, সেখানে আরও কিছু মৃতদেহ আছে।

নিহতদের মধ্যে পরিচয় পাওয়া গেছে, শ্রীলংকান নাগরিক নিরস (কুর্মিটোলা হাসপাতাল), গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার বালুগ্রামের নজরুল ইসলামের ছেলে পারভেজ সাজ্জাদ (৪৭), দিনাজপুর জেলার বালিয়াকান্দি উপজেলার আবুল কাশেমের ছেলে মামুন (ইউনাইটেড হাসপাতাল), আমিনা ইয়াসমিন (৪০), আবদুল্লাহ ফারুক (ঢাকা মেডিকেল), মাকসুদুর (৬৬) ও মনির (৫০)।

সন্ধ্যার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। এরপর ভবনটির বিভিন্ন ফ্লোরে প্রবেশ করেন ফায়ার সার্ভিসকর্মীরা। এরপরই বের হতে থাকে একের পর লাশ। ইউনাইটেড হাসপাতালের ডিউটি ম্যানেজার জানান, সেখানে যে তিনজনের মৃতদেহ রয়েছে, তাদের সবাই পুরুষ। তাদের একজনের মৃত্যু হয়েছে আগুনে পুড়ে, বাকিদের অন্য ইনজুরি ছিল। নিহতদের একজনের নাম মনির।

পুলিশের দেয়া তথ্য অনুযায়ী আহতের সংখ্যা ৭০। যাদের নাম পাওয়া গেছে তারা হলেন- লুৎফুর রহমান ভুঞা (৭৪), কাজী জাবির উদ্দিন (৫৪), ফজলুল হক (৬১), ফজলুল হক (২৮), মির্জা আহসানুল হাবিব (৮১), রিয়াজ মাহমুদ আনসার (৩১), খন্দকার মাঈনউদ্দিন (৪৫), আহসানুল হক মামুন (২৮), মো. মুসফিকুর (৭৪), সুশান্ত (৩৫), বাদল ফয়সার (৩২), সোহাগ (২২), আল-ফয়সাল (৩৫), ফরহানুর রহমান (২৮), ফয়েজ আহমেদ (৪০), হাসান (১৮), রাশেদ (৪২), নূর আলম (১৫), রায়হান (৩০), নজরুল ইসলাম (২৯), বি সরকার (৪১), আবদুস সবুর খান (৪২), রায়হান হোসেন মজুমদার, তাহারিম (২৮), নাজমুল হক (৩৫), মহিউদ্দিন (২৩), নূর হোসেন (২৮), রেজাউল আহমেদ (৪০), ইকবাল (৪০), রেজাউর রহমান রিজন (৪৭), ইউসুফ (১৯), মহিন (৪২), রিপন (৩০), রোমানা (২৬), মাজেদ, আতিকুজ্জামান (২৫), আতিকুল (২৭), মিরাজ (৩৯), মেহেদী নাহিয়ান (৩২), হাসানুজ্জামান (৪২), বাবুল (৩৮), মইনুল রিংকু (৪০), জসিম (২৮), মিঠু (২৫), সাব্বির (২২), রেদোয়ান আহমেদ (৩৫), আবু হোসেন (৩০), আনোয়ারুল ইসলাম (৪০), এটিএম জাহাঙ্গীর (৬৪), সোহরাব হোসেন, পলি, স্মৃতি, স্বর্ণা, নীলিমা মাহমুদ, আবরারুল আলম, মহিউদ্দিন, নাইমুল হোসেন, রেজোয়ান আহমেদ, ফজলুল হক, রিফাত, মশিউর, ফাহিম, মুরাদ, মামুন, ইশতিয়াক, ফজলু, এবিএম আবুল হোসেন, মাহবুব আলম ও রশিদ প্রমুখ।

এছাড়া নিখোঁজদের মধ্যে যাদের নাম পাওয়া গেছে তারা হলেন- মির্জা আতিকুর রহমান, জেবুন্নেসা, আরকে জেবিন বৃষ্টি, রেজাউল করিম রাজু, জসিম উদ্দিন, জাফর আহমেদ, নজরুল ইসলাম, আনজির সিদ্দিক আবির, মোস্তাফিজুর রহমান, হিরু, রেজাউল করিম রাজীব।

কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কাজী রশিদ-উন-নবী বলেন, বেশির ভাগেরই শ্বাস-প্রশ্বাসজনিত সমস্যা।