দীর্ঘ ৭০ বছর পর ‘স্বপ্নের নদীপথে’ ঢাকা-কলকাতা যাত্রা

দীর্ঘ ৭০ বছর পর ক্রুজ শিপে ‘স্বপ্নের নদীপথে’ ঢাকা-কলকাতা যাত্রা শুরু হলো আজ। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সম্পাদিত সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) আলোকে কোস্টাল ও প্রটোকল রুটে প্যাসেঞ্জার ও ক্রুজ সার্ভিস পরিচালনার লক্ষ্যে যাত্রা শুরু করলো ক্রুজ শিপ।

শুক্রবার (২৯ মার্চ) বিকেল ৫টা ৫০ মিনিটে রাজধানীর ঢাকার সন্নিকটে নারায়ণগঞ্জের পাগলাস্থ ভিআইপি ঘাটে (মেরিএন্ডারসন) এক অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল এ ক্রুজ শিপ উদ্বোধন করেন।

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশ এবং ভারতের মধ্যে ২০১৫ সালের ১৬ নভেম্বর কোস্টাল এবং প্রটোকল রুটে প্যাসেঞ্জার ও ক্রুজ সার্ভিস চালুর জন্য সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। পরে ২০১৮ সালের ২৫ অক্টোবর এ বিষয়ে দু’দেশের মধ্যে স্ট্যান্ডার্ড অপারেটর প্রসিডিউর (এসওপি) স্বাক্ষরিত হয়।

প্রথম যাত্রায় ৮৩ জন যাত্রী নিয়ে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্পোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসি) ক্রুজ শিপ এমভি মধুমতি নারায়ণগঞ্জের পাগলা থেকে রওনা দিয়ে বরিশাল-মোংলা-সুন্দরবন-খুলনার আন্টিহারা এবং ভারতের হলদিয়া রুট হয়ে ৩১ মার্চ আনুমানিক দুপুর ১২টায় কলকাতায় পৌঁছাবে।

আইডব্লিউএ কাস্টমস ও ইমিগ্রেশনের কাজ সম্পাদন করবে। এরপর সেখানে সংবধনা দেয়া হবে। একই দিনে ভারতের ক্রুজ শিপ মেসার্স আর ভি. বেঙ্গল গঙ্গা কলকাতা থেকে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে আসবে। ভারতের ১৭ জনসহ ইতালি ও অষ্ট্রেলিয়াসহ বেশ কটি দেশের নাগরিকরা আসবে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল প্রধান অতিথির বক্তব্যে বলেন, এই ক্রুজ সার্ভিস উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে পৃথিবীর এই অঞ্চলের যোগাযোগ শুধু মাত্র সহজই হবে না বরং বাংলাদেশ ভারতের মধ্যকার সম্পর্ক আরো গভীর হবে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশ এখন আর ৫/১০ কোটি টাকার প্রকল্প নিয়ে পড়ে থাকে না। এখন নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মাসেতুর মতো হাজার হাজার কোটি টাকার প্রকল্প  নিজস্ব অর্থায়নে পরিচালনা করে।

তিনি বলেন, ভারতের সাথে আমাদের সম্পর্ক রক্তের, ভাই-ভাই। এই ক্রজ সার্ভিস এর মাধ্যমে আমাদের সাথে তাদের সম্পর্ক আরো দৃঢ় হবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বেসরকারি বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুব আলী বলেছেন, ক্রুজ সার্ভিস এটা আমাদের না বলা কথা আমাদেরই না বলা কাজ। বঙ্গবন্ধু যে সু-সম্পর্ক শুরু করেছিলেন তারই প্রতিফলন এটা।

এসময় নৌপরিবহন মন্ত্রনালয়ের সচিব আব্দুস সামাদ বলেন, এই নদী পথে কলকাতা যাওয়া আপনারা উপভোগ করবেন, বাংলাদেশের নদীমাতৃক সৌন্দর্য। শুধু আনন্দই নয় এটা জিডিপিতে অবদান রাখবে এবং ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করবে।