নিজের জন্য জমা হওয়া পুরো অর্থ নিউজিল্যান্ডে নিহতদের পরিবারকে দান করবেন সেই কিশোর

অস্ট্রেলিয়ার সিনেটর ফ্রেজার অ্যানিংয়ের মাথায় ডিম ভেঙে ওই কিশোর এখন রীতিমতো তারকা। ওই কিশোরের নাম উইল কনোলি। তার বয়স ১৭ বছর। কনোলি অস্ট্রেলিয়ারই বাসিন্দা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাকে উপাধি দেওয়া হয়েছে ‘এগ বয়’ বা ‘ডিম বয়’ নামে। বিশ্বব্যাপী কনোলির প্রশংসা থামছেই না। এছাড়া আরো ডিম কিনতে তহবিলে জমা পড়েছে বাংলাদেশি মুদ্রায় ২৫ লাখের বেশি টাকা।

এই তহবিলের পুরো অর্থ মসজিদে নিহত মুসল্লিদের দান করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এই বীর তরুন। মুসলিমরা কখনো জংগীহয় না বরং শেতাঙ্গরাই বড় সন্ত্রাসী এমন মন্তব্য করে এই কিশোর বলেন,নিহত-আহত মুসলিম পরিবারের সাহায্যে সবাই এগিয়ে আসুন।

শনিবার এক অনুষ্ঠানে অস্ট্রেলিয়ার সিনেটর ফ্রেজার অ্যানিংয়ের মাথায় ডিম ভাঙে উইল কনোলি। নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে মসজিদে অস্ট্রেলীয় খ্রিস্টান শ্বেতাঙ্গ জঙ্গি হামলার ঘটনার পর মুসলমানদের নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করেন সিনেটর ফ্রেজার অ্যানিং। এর পরই তিনি তোপের মুখে পড়েন। এরই প্রতিক্রিয়ায় ওই কাণ্ডটি ঘটান কিশোর কনোলি। ঘটনার পর এক টুইট বার্তায় কনোলি জানান, কেন তিনি ওই ঘটনা ঘটান।

টুইটে কনোলি লিখেছে, ‘ওই মুহূর্তে মানুষ হিসেবে আমি গর্বিত। আপনাদের বলতে চাই, মুসলমানরা সন্ত্রাসী নয় এবং সন্ত্রাসবাদের কোনো ধর্ম নেই। যারা মুসলমানদের সন্ত্রাসী সম্প্রদায় মনে করে, তাদের মাথা অ্যানিংয়ের মতোই শূন্য।’

গত শুক্রবার জুমার নামাজের সময় নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের দুটি মসজিদে অস্ট্রেলীয় খ্রিস্টান শ্বেতাঙ্গ জঙ্গি ব্রেন্টন ট্যারান্টের হামলায় ৫০ জন নিহত হন। এরপরই অস্ট্রেলিয়ার সিনেটর ফ্রেজার অ্যানিং মুসলিমদের অভিবাসন নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করেন। ক্রাইস্টচার্চের আল নূর মসজিদে নামাজ আদায়ের কথা ছিল বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের। গোলাগুলির শব্দ পেয়ে দ্রুত হোটেলে ফিরে যান তারা।

ক্রাইস্টচার্চে মসজিদে হামলার পর মুসলমানদের নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করেন সিনেটর ফ্রেজার অ্যানিং। টুইট বার্তায় ওই সিনেটর বলেন, ‘নিউজিল্যান্ডের রাস্তায় ওই ঘটনার প্রকৃত কারণ হচ্ছে অভিবাসন কর্মসূচি, যা উগ্র মুসলিমদের নিউজিল্যান্ডে থাকার অনুমোদন দিচ্ছে।’

এদিকে ডিম ভাঙার ঘটনার পরেই ইনস্টাগ্রাম ও টুইটারে কনোলির অনুসারীর সংখ্যা হু হু করে বাড়ছে। এই প্রতিবেদন লেখার সময় ইনস্টাগ্রামে তার অনুসারী ছিল তিন লাখ ৩০ হাজারের মতো।

রবিবার কনোলি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও বার্তা প্রকাশ করে। ওই ভিডিও বার্তায় সে হাসতে হাসতে বলে, ‘কখনো রাজনীতিবিদদের মাথায় ডিম ভাঙবেন না। ডিম ভাঙলেই ৩০ জন বোগোন্সকে (নিম্ন শ্রেণির ব্যক্তি) মোকাবিলা করতে হবে আপনাকে। আমার কঠিন শিক্ষা হয়ে গেছে।’

কনোলি আসলে ৩০ জন ব্যক্তি বলতে সিনেটর ফ্রেজার অ্যানিংয়ের নিরাপত্তারক্ষীদের বোঝাতে চেয়েছে। তবে কনোলি তাদের একটু ব্যঙ্গাত্মকভাবে সম্বোধন করেছে; বলেছে ‘নিম্ন শ্রেণির লোক’।

পরে কনোলি তার অনুসারীদের উদ্দেশে লেখে, ‘আপনাদের ভালোবাসা ও সমর্থনের জন্য অনেক ধন্যবাদ জানাই।’

শনিবার এক ভিডিওতে দেখা যায়, সিনেটর ফ্রেজার অ্যানিং সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছেন। হঠাৎ করেই সিনেটরের পেছনে থাকা কিশোর কনোলি তার হাতে থাকা একটি ডিম ফ্রেজারের মাথায় ভেঙে দেয়। অন্য হাত দিয়ে মোবাইল ফোনে এই ঘটনা ভিডিও করছিল সে নিজেই। সিনেটর ফ্রেজার ঘুরে গিয়ে কনোলিকে চড় মারেন। মারধরের সময়ও কনোলি তা মোবাইল ফোনে ভিডিও করছিল। ঘটনার পরই কনোলিকে আটক করে নিরাপত্তী কর্মীরা। পরে অবশ্য তাকে ছেড়ে দেয় পুলিশ।

এদিকে কনোলিকে হামলা ও তাকে নোংরা কথা বলার জন্যে সিনেটর ফ্র্যাসারের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের ও বহিষ্কারের দাবি তুলছে অস্ট্রেলিয়ার জনগণ। অ্যানিংয়ের মাথায় ডিম ফাটানোর ঘটনা সারাবিশ্বে দ্রুত ভাইরাল হয়ে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যে সামাজিক মাধ্যমে হিরোর তকমা পায় সেই কিশোর।

সেইসঙ্গে ফ্র্যাসার অ্যানিংয়কে বহিষ্কারের দাবিতে চার্জডটঅর্গের মাধ্যমে অন্তত ৫ লাখ ব্যক্তি আবেদন করেছেন। এছাড়া ফ্র্যাসার অ্যানিংয়ের কঠোর সমালোচনা করছেন দেশটির অনেক রাজনৈতিক নেতা। অ্যানিংয়ের সমালোচনা করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসনও।

স্কট জানান, ওই কিশোরকে লাঞ্চিত করার অভিযোগে অ্যানিংয়ের বিরুদ্ধে আইনত ব্যবস্থা নেয়া হবে। ওই কিশোরের পক্ষে আইনি লড়াই ও আরো ডিম কেনার জন্য অর্থ সংগ্রহ করতে শুরু করে একটি তহবিল সংগ্রহকারী সংস্থা।

জানা যায়, গত ২৪ ঘণ্টায় ‘গো ফান্ড মি’ প্রচারণার মাধ্যমে সংস্থাটি ৩৫ হাজার মার্কিন ডলার সংগ্রহ করেছে। উল্লেখ্য, নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে গত শুক্রবার দুই মসজিদে ভয়াবহ হামলা হয়। সেই হামলায় রক্তাক্ত হয়ে উঠে মসজিদ।

হামলায় নিহত হন ৫০ জন। আর এই হামলার দায় মুসলিম অভিবাসীদের উপর চাপিয়ে বিতর্ক উসকে দেন অস্ট্রেলিয়ার সিনেটর ফ্রেজার অ্যানিং। এর প্রতিবাদ জানিয়ে সিনেটরের মাথায় ডিম ভেঙে দেন এক তরুণ। সিনেটরের ডিম ভাঙার সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার গণমাধ্যম নেল সেভেনে প্রচারিত এই ভিডিও ৫০ লাখের বেশিবার দেখা হয়েছে। সাধারণ জনগণ তাকে শুভেচ্ছা জানিয়েছে। অনেক তাকে অস্ট্রেলিয়ার সেরা নায়ক বলে মন্তুব্য করেছে| ইনস্টাগ্রামে একজন মন্তুব্য করেন, ‘আপনি একটি দেবদূত’। কেউ লিখেন, ‘পরম কিংবদন্তি’। কেউ লিখেন, ‘আপনার মতো আরো প্রয়োজন।’