নিউজিল্যান্ডের মসজিদে বন্দুকধারীর হামলায় অন্তত ৯-২৭ জন নিহত

নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে আজ শুক্রবার জুমার নামাজের সময় দুটি মসজিদে গোলাগুলির ঘটনায় নিহত হয়েছেন অনেক মুসুল্লি। প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত অনেকে মারা যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে, আর বহু লোক আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। বন্দুকধারীর হামলায় অন্তত ৯-২৭ জন নিহত হয়েছেন বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম নিউজিল্যান্ড হেরাল্ড জানিয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত বহুলোকজন মারা যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে, আর বহু লোক আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

ক্রাইস্টচার্চের হ্যাগলি ওভাল মাঠে শনিবার বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ডের তৃতীয় টেস্ট হওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে অবস্থান করছেন বাংলাদেশের জাতীয় দলের ক্রিকেটাররা। তারা সবাই নিরাপদে আছেন।

দলের ম্যানেজার খালেদ মাসুদ পাইলট বলেন, দলের প্রতিটি খেলোয়াড় নিরাপদে আছেন। তাদের কোনো ক্ষতি হয়নি। সবাই এখন হোটেলে অবস্থান করছেন।

দেশটির সাউথ আইল্যান্ডে আল নূর মসজিদে স্বয়ংক্রিয় রাইফেল দিয়ে অন্তত ৫০টি গুলি করা হয়েছে। মসজিদের ভেতর থেকে সামাজিকমাধ্যমে গোলাগুলির লাইভ ভিডিও সম্প্রচার করা হয়।

স্থানীয় সময় দুপুর দেড়টার দিকে যখন এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে, তখন শুক্রবারের জুমার নামাজ চলছিল। পার্শ্ববর্তী লিনউড মসজিদেও হামলায় নিহতের ঘটনা ঘটেছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

ঘটনার বর্ণনা দিয়ে এক প্রত্যক্ষদর্শী তরুণ বলেন, আমি গুলির শব্দ শুনে যতটা সম্ভব দৌড়ে পালিয়েছি। এ সময় আমি অনবরত শুধু গুলির শব্দ শুনেছি। বন্দুকধারীদের একজনকে আটক করে জেলে রাখা হয়েছে।

একজনের দেহ আল নূর মসজিদের মধ্যে পড়ে থাকতে দেখা গেছে। দ্বিতীয় আরেকজনের দেহ লিনউড মসজিদে পড়ে থাকতে দেখা গেছে।

বন্দুকধারীদের মধ্যে একজন অস্ট্রেলিয়ান বলে মনে করা হচ্ছে, তিনি তার ইচ্ছা জানিয়ে একটি লিখিত ইশতেহার পাঠ করছিলেন। তাতে তিনি বলছিলেন, এটি একটি সন্ত্রাসী হামলা।

পুলিশ কমিশনার মাইক বুশ এক বিবৃতিতে বলেন, “একজন সক্রিয় শ্যুটার সহ ক্রাইস্টচার্চে একটি গুরুতর ও ক্রমবর্ধমান পরিস্থিতি ঘটছে, শুক্রবার দক্ষিণ আইল্যান্ড শহরে শুক্রবার নামাজের পর লিনউড মসজিদে একটি দ্বিতীয় শুটিংয়ের ঘটনা ঘটেছে বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে, তবে কোনো তথ্য এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।

এদিকে এই ঘটনায় নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জাকিন্দ আর্মডেন বলেন, “আমরা পরিস্থিতি মোকাবেলা করছি।” “এটা নিউজিল্যান্ডের সবচেয়ে অন্ধকার দিনগুলির মধ্যে একটি।”