কোটা আন্দোলন থেকে ভিপি নির্বাচিত, ছাত্রলীগ থেকে জিএস-এজিএস

দীর্ঘ আটাশ বছর পর অনিয়মের নানা অভিযোগ এবং অধিকাংশ প্যানেলের প্রার্থীদের বর্জনের মধ্যে অনুষ্ঠিত হলো ডাকসু নির্বাচন। এবারের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ-ডাকসু’র ভিপি নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম আহবায়ক নুরুল হক নুর। বাকি পদগুলোয় বিজয়ী হয়েছে ক্ষমতাসীন দল সমর্থিত ছাত্রলীগ প্রার্থীরা।

ডাকসু’র সাধারণ সম্পাদক-জিএস নির্বাচিত হয়েছেন সম্মিলিত শিক্ষার্থী সংসদ প্যানেল থেকে মনোনীত বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী। এজিএস পদে জয় লাভ করেছেন একই প্যানেলের প্রার্থী ও ছাত্রলীগের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসাইন।

১১ হাজার ৬২ ভোট পেয়ে ভিপি নির্বাচিত হন নুর। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দী ছাত্রলীগের সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন পেয়েছেন ৯ হাজার ১২৯ ভোট।

জিএস পদে ছাত্রলীগের রাব্বানী ১০ হাজার ৪৮৪ ভোট হয়ে বিজয়ী হয়েছেন। আর তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সাধারণ কোটা সংস্কার আন্দোলনের নেতা রাশেদ খান পান ৬ হাজার ৬৩ ভোট।

এছাড়া এজিএস পদে জয়ী হয়েছেন ছাত্রলীগের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন ১৫ হাজার ৩০১ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী কোটা সংস্কার আন্দোলনের নেতা ফারুক হোসেন পেয়েছেন ৫ হাজার ৮৯৬ ভোট।

এছাড়া সদস্য পদে বিজয়ী হয়েছেন চিবল সাংমা, রকিবুল হাসান ঐতিহ্য, তানভীর হাসান সৈকত, তিলোত্তমা শিকদার, নিপু ইসলাম তন্বী, রাইসা নাসের, সাবরিনা ইতি, মোহাম্মদ রাকিবুল হাসান রাকিব, নজরুল ইসলাম, ফরিদা পারভীন, মাহমুদুল হাসান, সাইফুল ইসলাম রাসেল ও রফিকুল ইসলাম সবুজ।

সোমবার দিবাগত রাত ৩টা ১৭ মিনিটে বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবন মিলনায়তনে ফলাফল ঘোষণা শুরু করেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. নাসরীন আহমেদ, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক সামাদ, চিফ রিটার্নিং কর্মকর্তা অধ্যাপক এস এম মাহফুজুর রহমান প্রমুখ।

ডাকসু নির্বাচনের ২৫টি পদের একটি বাদে অন্যগুলোতে ছাত্রলীগের প্যানেলের প্রার্থীরাই জয়ী হয়েছেন। শুধু সমাজসেবা সম্পাদক পদে কোটা সংস্কার আন্দোলনের আখতার হোসেন জয়ী হয়েছেন।

উপাচার্য বলেন, ডাকসু নির্বাচনে মোট ২৫ হাজার ৭৫০ টি ভোট পড়েছে। যা শতকরা ৫৯ দশমিক ৫ শতাংশ। তবে, উপাচার্যের ফলাফল প্রকাশের পর তাকে উদ্দেশ্য করে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ‘ভুয়া, ভুয়া’, বলে চিৎকার করতে থাকে।

এদিকে, ডাকসু নির্বাচনের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন ঢাবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান বলেন, ‘প্রথমে আমি শিক্ষার্থীদের ধন্যবাদ দিই। তারা শান্তিপূর্ণভাবে উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট দিয়েছে। আমি এটির ভূয়সী প্রশংসা করি।’ এ নির্বাচনের মাধ্যমে সামনের দিনগুলোতেও গণতান্ত্রিক রীতি-নীতি নতুন মাত্রায় এগিয়ে নেওয়ার অনুপ্রেরণা পাচ্ছেন বলে জানান তিনি।

তবে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে ছাত্রলীগ ছাড়া ডাকসু নির্বাচনে অংশ নেওয়া সবগুলো ছাত্র সংগঠনের প্যানেলই নির্বাচন বর্জন করেছে। দুপুর ১টায় মধুর ক্যান্টিনে এক সংবাদ সম্মেলনে বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রশাসনের প্রতি ‘ঘৃণা’ জানিয়ে ডাকসু নির্বাচন প্রত্যাখ্যানের ঘোষণা দেয় চার জোট। এসময় বাম ছাত্র সংগঠনগুলোর দুই জোট ‘প্রগতিশীল ছাত্র জোট’ ও ‘সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী ছাত্র ঐক্য’ লাগাতার ধর্মঘটের ডাক দেয়। বিভিন্ন প্যানেলের প্রার্থী ও তাদের সমর্থকরা ঢাবি উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে ভিসির পদত্যাগ ও ফের ডাকসু নির্বাচন চেয়ে বিক্ষোভ করেন।