বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হলের ভারপ্রাপ্ত প্রভোস্ট শবনব জাহান বহিষ্কার

সোমবার সকাল ৮টা থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হয়। তবে স্বচ্ছ ব্যালট বাক্স দেখানোর দাবিতে ভোটগ্রহণ শুরু করতে দেয়নি হলের সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হল থেকে ছাত্রলীগ প্যানেলের প্রার্থীদের পক্ষে সিল মারা একবস্তা ব্যালট পেপার উদ্ধার হওয়ার পর বাংলাদেশ কুয়েত মৈত্রী হলের ভোটগ্রহণ স্থগিত করা হয়েছে। এ নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেছেন শিক্ষার্থীরা। এ ঘটনায় তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর গোলাম রব্বানীকে অবরুদ্ধ করে রেখেছে।

বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হলে আগেই ব্যালটে সিল মারার অভিযোগ তুলে সেখানে বিক্ষোভ করছেন শিক্ষার্থীরা। এ ঘটনায় ভারপ্রাপ্ত প্রভোস্ট শবনব জাহানকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

সোমবার (১১ মার্চ) সকাল ৯টায় বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হলের সামনে দেখা যায়, আগে থেকে সিল মারা ব্যালট পেপার নিয়ে শিক্ষার্থীরা হলের গেটের সামনে বিক্ষোভ করছেন।

বিক্ষোভরত শিক্ষার্থীরা ‘ভোট চুরির জবাব চাই’সহ বিভিন্ন স্লোগান তুলছেন। এ সময় শিক্ষার্থীরা প্রভোস্ট শবনব জাহানকে বহিষ্কার, ছাত্রলীগ প্যানেল বাতিল ও খোলা মাঠে ভাট গ্রহণের দাবি তুলেন শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থীরা জানান, সকাল ৮টায় ভোটাররা ভোট দিতে লাইনে দাঁড়ান। প্রক্টর গিয়ে সেখানে কথা বলে সময় কাটানোর চেষ্টা করেন। পরে শিক্ষার্থীরা জোর করে ঢুকলে সিল মারা ব্যালট উদ্ধার করা হয়। শিক্ষার্থীরা বলছেন, এসব ব্যালট পেপারে ছাত্রলীগের প্রার্থীদের সিল মারা ছিল। সেজন্য তারা এখন ছাত্রলীগের প্যানেল বাদ দিয়ে নির্বাচনের দাবি করছেন।

শিক্ষার্থীরা আরও বলছেন, আগের রাতেই সিল মারা হয়ে গেছে। এ নির্বাচন আমরা বয়কট করেছি। আমাদের তত্ত্বাবধানে সুষ্ঠু ভোট না হলে এখানে আর ভোট হবে না। আমরা ভোট কারচুপির জবাব চাই। তাছাড়া আমাদের হল প্রভোস্ট, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ফোন দিয়ে সরে যাওয়ার জন্য বলছেন। আমরা তাদেরও পদত্যাগ চাই। আমাদের এসব দাবি মেনে নেওয়া না হলে আমরা অবস্থান ত্যাগ করবো না। এরপর শিক্ষার্থীরা হলের সামনের রাস্তায় অবস্থান নিয়ে বসে পড়েন।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর গোলাম রব্বানী বলেন, অভিযোগ শুনেই আমরা এখানে এসেছি। একটা সমাধান করবো। ড. সামাদ শিক্ষার্থীদের বোঝানোর চেষ্টা করছেন। এখানে উপস্থিত হচ্ছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের আরও শিক্ষকরা। ইতোমধ্যে ছাত্রলীগ মনোনীত প্রার্থীদের পোস্টার-ব্যানার হলের সামনে থেকে ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে।