ধর্মের নামে নারীদেরকে ঘরে বন্দি করে রাখেঃ প্রধানমন্ত্রী

শনিবার (৯ মার্চ) সকাল ১১টায় বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আন্তর্জাতিক নারী দিবসের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নারীদের অন্ধকার যুগ থেকে আলোতে এনেছেন বেগম রোকেয়া। দেশের প্রতিটি ক্ষেত্রে এখন নারীরা দক্ষতার সঙ্গে কাজ করছে। অর্থনৈতিক স্বাধীনতা অর্জন করলে সমাজে প্রতিষ্ঠা পাবে নারীরা। আর ক্ষমতার অর্জন করতে হবে নিজেদেরকেই।

প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, ‘সবসময় আমাদের নারী সমাজ বৈষম্যের শিকার হয়েছে। একটা সময় বলা হতো নারীরা আবার কি করবে। ঘরে বসে ভাত রান্না করবে আর সন্তান জন্ম দেবে, এটা তাদের কাজ। মাঝে মাঝে আমরা দেখি আমাদের ধর্মের নামে এই নারীদেরকে ঘরে বন্দি করে রাখে। শিক্ষা গ্রহণে বিরোধীতা করে। তাদের উদ্দেশ্যে বলতে চাই, প্রথম ইসলাম ধর্ম গ্রহণকারী একজন নারী। তিনি হলেন বিবি খাদিজা। তিনি একজন ব্যবসায়ীও ছিলেন। তার অধিনে চাকরি করতেন আমাদের প্রিয় নবী হযরত মোহাম্মদ (স.)। পরবর্তীতে তারা বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। তিনি প্রশ্ন করে বলেন, প্রথম মুসলিম বিবি খাদিজা যদি ব্যবসা করতে পারেন তাহলে আজকের মেয়েরা কেন ব্যবসা করতে পারবেন না।

তিনি বলেন, আমাদের মেয়েরা আজ অনেক দূর এগিয়েছে। সংসদ সদস্য, বিচারপতি, শিক্ষক, পাইলট, মেজর জেনারেল, পুলিশ, বিমান বাহিনীসহ প্রত্যেকটি স্থানে মেয়েরা কাজ করছে। এ কারণেই দেশ এগিয়ে যাচ্ছে।

‘আমাদের দেশে দেখেছি নারীর প্রতি বৈষম্য। পাকিস্তান আমলে আইন ছিলো জুডিসিয়াল সার্ভিসে কোনো নারী প্রার্থী হতে পারবে না। স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধু সে আইন বাতিল করে সেখানে নারীদের সুযোগ করে দেন। প্রথম যিনি পরীক্ষায় পাস করে জুডিসিয়াল সার্ভিসে চাকরি পান তিনি ছিলেন একজন নারী। বঙ্গবন্ধু যদি আমাদের স্বাধীনতা না দিয়ে যেতেন তাহলে নারী এই সুযোগ নারীরা কখনো পেত না।’

আওয়ামী লীগের সভানেত্রী বলেন, ‘আমাদের কোনো মহিলা সচিব ছিলো না এবং কোনো প্রমোশনও দিত না। যিনি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ছিলেন তাকে সচিব করি। রাষ্ট্রপতির ১০ পার্সেন্ট কোটায় আরো ১০ জনকে বেছে নিয়ে সচিবের পদ মর্যাদা দেয়া হয়। তবে প্রতিটি জায়গায় জোর করে আমাদের পদায়ন করতে হয়। স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধুই আমাদের শক্তি দিয়ে গেছেন।’