সন্ধান মিলেছে বৃষ্টির, এখনো নিখোঁজ রয়েছে দোলা!

চকবাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নিখোঁজ গার্হস্হ্য অর্থনীতি কলেজের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ফাতেমা তুজ জোহরা বৃষ্টির সন্ধান মিললেও তার বান্ধবি ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের আইনে পড়ুয়া রেহনুমা তারান্নুম দোলার এখনও কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।

দোলার বাবা দলিলুর রহমান দুলাল জানিয়েছিলেন, দোলা আর বৃষ্টি ওই রাতে শিল্পকলা একাডেমি থেকে অনুষ্ঠান শেষে তাদের লালবাগ এবং হাজি রহিম বক্স লেনের বাসায় ফেরার পথে নিখোঁজ হন।

এদিকে চকবাজারের চুড়িহাট্টায় আগুনে পুড়ে মারা যাওয়াদের মধ্যে আজ শনাক্ত হওয়া ১১ জনের মরদেহের ১টি বৃষ্টির। ডিএনএ টেস্টের মাধ্যমে তার মরদেহ শনাক্ত করেছে সিআইডি। শনাক্ত হওয়াদের মধ্যে দুইজন নারী ও ৯ জন পুরুষ রয়েছেন।

এর আগে দুই বান্ধবী চুড়িহাট্টার অগ্নিকাণ্ডের শিকার হয়েছেন ধারণা করে ঢাকা মেডিকেলেও ছুটে গিয়েছিলেন তাদের স্বজনরা। কিন্তু আগুনে পোড়া মৃতদেহ থেকে বৃষ্টি ও দোলাকে শনাক্ত করতে পারেনি তারা।

বুধবার দুপুরে সিআইডি কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ১১ মরদেহ শনাক্তের বিষয়টি জানিয়েছেন সিআইডির অতিরিক্ত ডিআইজি শেখ মোহাম্মদ রেজাউল হায়দার।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যে দুই নারীর পরিচয় মিলেছে তারা নিখোঁজ দুই বান্ধবী কিনা সেটি বলতে পারব না। তবে দাবিদার পরিবার যে নাম দিয়েছে সেই নাম আমরা প্রকাশ করেছি।

তিনি বলেন, নিহতের পর ১৯ জনের মরদেহ ও একটি বিচ্ছিন্ন হাত পাওয়া যায়। এর বিপরীতে ৪৮ জন দাবিকারীর ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়। সব পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে ২৩ জনের সঙ্গে ১১টি মরদেহের নমুনা মিলে যায়। বাকি ৮ বা ৯টি মরদেহের বিপরীতে ২৫ জন দাবিদার থাকল। যা শনাক্ত করতে ১০ থেকে ১২ দিন সময় লাগতে পারে। শনাক্তকৃত ১১টি মরদেহের পরিচয় মামলার তদন্ত কর্মকর্তার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

মরদেহ হস্তান্তরের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যেহেতু ঘটনাটি নিয়ে মামলা হয়েছে। তাই আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে পুলিশ মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করবে। আমরা প্রতিবেদনটি সংশ্লিষ্ট থানার তদন্ত কর্মকর্তার কাছে পাঠিয়েছি। ওই কর্মকর্তা আদালতের অনুমতি সাপেক্ষে মরদেহগুলো হস্তান্তরের প্রক্রিয়া গ্রহণ করবেন।

এর আগে চকবাজারের ঘটনার পর ঘটনাস্থলে নিহত ৬৭টি মরদেহের বিপরীতে মোট ২৫৭টি নমুনা (রক্ত, টিস্যু, হার ও বাক্কাল সোয়াব) সংগ্রহ করা হয়।