ওবায়দুল কাদেরের শরীরে ধরা পড়েছে ইনফেকশন সহ কিডনি সমস্যা

সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের চিকিৎসা শুরু হয়েছে। গতকাল  (০৪ মার্চ) হাসপাতালে পৌঁছানোর পরপরই সেখানকার চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে তার চিকিৎসা শুরু হয়। তার (ওবায়দুল কাদের) শরীরে কিছু ইনফেকশন ও কিডনির সমস্যা পাওয়া গেছে। তবে ডায়ালাইসিসের প্রয়োজন নেই বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের উপ-দফতর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া।

আজ মঙ্গলবার (০৫ মার্চ) সকালে তিনি জানান, হাসপাতালে নেওয়ার পরপরই ওবায়দুল কাদেরের চিকিৎসা শুরু করেছেন সেখানকার চিকিৎসকরা। কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়েছে। পরীক্ষায় কিছু ইনফেক শন ধরা পড়েছে। পরীক্ষা-নিরীক্ষাগুলোর প্রতিবেদন দুপুরের পর পাওয়া যাবে

তিনি বলেন, প্রতিবেদন পাওয়ার পর ওবায়দুল কাদেরের পরবর্তী চিকিৎসা শুরু হবে। তবে তার অবস্থা আগের তুলনায় কিছুটা ভালো।

এদিকে সিঙ্গাপুরে বাংলাদেশ দূতাবাস ওবায়দুল কাদেরের চিকিৎসার সার্বক্ষণিক তদারকি করছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও দূতাবাসের সঙ্গে তার চিকিৎসার বিষয়ে প্রতি মুহূর্তে খোঁজখবর নিচ্ছেন।

মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালের ইন্টারভেনশনাল কার্ডিওলোজি বিভাগের সিনিয়র কনসালট্যান্ট ও প্রিন্সিপাল ডক্টর ফিলিপ কোহ’র তত্ত্বাবধানে (আইসিইউ ৩০০৮) ওবায়দুল কাদেরের চিকিৎসা চলছে বলে জানা গেছে।

এর আগে উন্নত চিকিৎসার জন্য এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরকে সিঙ্গাপুর পাঠানো হয়। সোমবার (০৪ মার্চ) বাংলাদেশ সময় রাত ৮টা ১৫ মিনিট নাগাদ তাকে বহনকারী এয়ার অ্যাম্বুলেন্সটি সিঙ্গাপুর পৌঁছায়।

ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে সিঙ্গাপুর গিয়েছেন তার স্ত্রী ইশরাতুন্নেসা কাদের ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) নিউরোলজিস্ট অধ্যাপক ডা. আবু নাসের রিজভী।

এর আগে সোমবার ওবায়দুল কাদেরের চিকিৎসার জন্য ভারতের ব্যাঙ্গালুরু থেকে কলকাতা হয়ে দুপুর ১টার দিকে ঢাকায় পৌঁছান প্রখ্যাত হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. দেবী শেঠী। মূলত তার পরামর্শে ওবায়দুল কাদেরকে সিঙ্গাপুর নেওয়া হয়। হাসপাতালে তিনি কাদেরের শারীরিক বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার রিপোর্ট দেখেন। এ সময় শেঠী ওবায়দুল কাদেরের স্ত্রীকে বলেন, ইউ আর ভেরি লাকি।

উল্লেখ্য, গত রবিবার (০৩ মার্চ) ভোরে ফজরের নামাজের পর হঠাৎ শ্বাস-প্রশ্বাসে সমস্যা দেখা দিলে ওবায়দুল কাদেরকে বিএসএমএমইউতে ভর্তি করা হয়। প্রথমে নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে (আইসিইউ) নেওয়া হলেও পরে হাসপাতালের করোনারি কেয়ার ইউনিটের (সিসিইউ) ২ নম্বর বেডে রাখা হয়েছিল তাকে।