সাতদিনের আল্টিমেটাম রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কর্মরত এনজিওগুলোকে

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে স্থানীয়দের চাকরিতে অগ্রাধিকারের তোয়াক্কা না করায় এনজিওগুলোর বিরুদ্ধে অবস্থান ও প্রতিরোধ কর্মসূচি পালন করেছে ‘অধিকার বাস্তবায়ন কমিটি উখিয়া’। সোমবার (৪ মার্চ) সকাল থেকে শান্তিপূর্ণ অবস্থান ও প্রতিরোধ কর্মসূচি পালন করে স্থানীয়রা।

কক্সবাজার-টেকনাফ মহাসড়কের কোটবাজার চৌরাস্তার অবস্থান নেন চাকরিবঞ্চিত শত শত বেকার যুবক। এ সময় তাদের সমর্থনে উখিয়ার হাজার হাজার জনতাও রাস্তায় শান্তিপূর্ণ অবস্থান গ্রহণ করেন। কর্মসূচি পালনকালে রাস্তার ধারে হাজার হাজার যানবাহন আটকে পড়ে।

এ দিকে শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচিতে পুলিশ বাধা প্রদানের চেষ্টা করলে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনাও ঘটে। পরে উপজেলা প্রশাসনের শীর্ষ কর্তাদের আশ্বাসের ভিত্তিতে এক সপ্তাহের আল্টিমেটাম দিয়ে শান্তিপূর্ণ অবস্থান স্থগিত করার ঘোষণা দেন যুবনেতা সাংবাদিক ইমরুল কায়েস চৌধুরী।

অবস্থান কর্মসূচি পালনকালে অধিকার বাস্তবায়ন কমিটি উখিয়ার নেতৃবৃন্দরা বলেন, এক মাস আগে জেলা প্রশাসক মোঃ কামাল হোসেন ও নির্বাহী কর্মকতা নিকারুজ্জামান চৌধুরী রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কর্মরত এনজিওদের সমন্বয় সভায় আন্দোলনরত স্থানীয়দের চাকরিতে অগ্রাধিকার দেওয়ার জন্য বিভিন্ন মেয়াদে সময় বেধে দেয়। তবুও এনজিওগুলো বিভিন্ন অজুহাতে তার কোন গুরুত্বারুপ করেনি। যার পরিপ্রেক্ষিতে আন্দোলনকারীদের অহিংস আন্দোলনকে সহিংসতার দিকে নিয়ে যেতে বাধ্য করা হচ্ছে। যার সমস্ত দায়ভার এনজিওগুলোকে নিতে হবে বলে নেতারা কঠোর হুশিয়ারী দেন।

তারা আরো জানান, সাম্প্রতিক সময়ে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কর্মরত এনজিওগুলোতে স্থানীয়দের গণহারে ছাটাই করা হয়েছে। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ঠেকাতে দেশি-বিদেশি এনজিওগুলো পরিকল্পিতভাবে স্থানীয়দের চাকরি থেকে ছাটাই করছে। এ ছাড়াও রোহিঙ্গা ক্যাম্পে নতুন নতুন চাকরির ক্ষেত্রে স্থানীয়দের বাদ দিয়ে এনজিও’র কর্তারা বিশেষ সুবিধা নেয়ার মাধ্যমে তাদের স্বজনদের চাকরি দিচ্ছে।

অবস্থান কর্মসূচি পালনকালে উখিয়া উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফখরুল ইসলাম বলেন, আপনাদের আন্দোলন ও দাবির যৌক্তিকতা রয়েছে। আপনাদের সব দাবি মেনে নেওয়া হবে। ইতিমধ্যে আপনাদের বার্তা জেলা প্রশাসক ও ইউএনও মহোদয়ের মাধ্যমে শীর্ষ পর্যায়ে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। তিনি অবস্থান কর্মসূচি স্থগিতের অনুরোধ জানান আন্দোলনকারীদের।

প্রশাসনের আশ্বাস পেয়ে যুবনেতা সাংবাদিক ইমরুল কায়েস চৌধুরী অবস্থান কর্মসূচি স্থগিতের ঘোষণা দিয়ে বলেন, আমাদের যৌক্তিক দাবি আদায়ে আমরা শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছি। আপনাদের আশ্বাসের ভিত্তিতে আমাদের শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচি স্থগিত করা হচ্ছে। দাবি আদায়ে আরো এক সপ্তাহ সময় দেওয়া হচ্ছে এনজিওগুলো।