কাদেরের চিকিৎসায় ঢাকা আসছেন প্রখ্যাত হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. দেবী শেঠি

আজ সোমবার দুপুর ১টার আগে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে জানাবেন চিকিৎসকরা। তবে সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হয়েছে বলে জানা যায়। এখন তিনি আগের চেয়ে ভালো। ওবায়দুল কাদেরের চিকিৎসায় উপমহাদেশের প্রখ্যাত হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. দেবী শেঠিকে আনা হচ্ছে।

ভারতের এই চিকিৎসক আজ সোমবার (৪ মার্চ) বেলা ১২টায় একটি বিশেষ ফ্লাইটে রাজধানীর হযরত শাহজালাল (রহ.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামবেন।

সর্বশেষ খবরে বঙ্গবন্ধু মেডিকেলের উপাচার্য ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া জানান, ‘ওবায়দুল কাদেরের অবস্থা এখন আগের চেয়ে ভালো। তিনি চোখ খুলতে পারছেন। তবে কথা বলতে বা প্রতিক্রিয়া জানাতে পারছেন না। তাকে সুস্থ করে তুলতে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি।’

এদিকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন কাদেরকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নিতে একটি এয়ার অ্যাম্বুলেন্স গতকাল রবিবার রাতেই ঢাকায় পৌঁছায়। সেখান থেকে সিঙ্গাপুর মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালের দুজন চিকিৎসক ও দুজন সেবিকা এসেছেন।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ডা. দেবী শেঠিকে গ্রহণ করতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসকদের একটি প্রতিনিধিদল ইতিমধ্যে বিমানবন্দরের পথে রওনা হয়েছেন।

ওবায়দুল কাদেরের চিকিৎসায় সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে। প্রয়োজনে দেশের বাইরে নেয়া হবে। সেটি সম্ভব না হলে বিশ্বের নামকরা চিকিৎসককে বিএসএমএমইউতে এনে তার চিকিৎসা দেয়া হবে বলে বিএসএমএমইউর চিকিৎসক ও সরকারি পর্যায় থেকে গতকাল রোববারই (৩ মার্চ) জানানো হয়েছিল।

এরই পরিপ্রেক্ষিতে ডা. দেবী শেঠিকে আনার কথা উঠলে শেষ পর্যন্ত আজ ঢাকায় আনা হচ্ছে তাকে। এর আগে রোববার রাতে ওবায়দুল কাদেরের চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুর থেকে চিকিৎসকদের তিন সদস্যের একটি দল ঢাকায় পৌঁছে।

ওবায়দুল কাদেরের চিকিৎসায় গঠিক মেডিকেল বোর্ডের একজন সদস্য বলেন, সিঙ্গাপুর থেকে একজন হৃদ্‌রোগ বিশেষজ্ঞ, একজন পুষ্টি বিশেষজ্ঞ ও একজন টেকনিশিয়ান এসেছেন। তারা ওবায়দুল কাদেরের রিপোর্ট ও তার শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করছেন। ওবায়দুল কাদেরের অবস্থা একটু উন্নতি হয়েছে। এ কারণে আজ সকাল ১০টা পর্যন্ত দেখা হবে। যদি আরও উন্নতি হয়, তা হলে হয়তো এখনই দেশের বাইরে নেয়া হবে না। দেশের বাইরে নেয়া হবে কিনা, এ বিষয়ে আজ দুপুরের মধ্যে সিদ্ধান্ত নেয়া হতে পারে।

রোববার রাত সাড়ে ৯টায় বিএসএমএমইউর উপাচার্য কনক কান্তি বড়ুয়া জানান, ওবায়দুল কাদের চোখ খুলে তাকিয়ে দেখছেন৷ সিঙ্গাপুর থেকে মেডিকেল টিমের যারা এসেছেন, তারা তার সার্বিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছেন। তারাও মত দিয়েছেন আপাতত সিঙ্গাপুরে না নেয়ার জন্য। মেডিকেল বোর্ডের সদস্যরাও মত দিয়েছেন যেহেতু ওবায়দুল কাদেরের অবস্থা আগের থেকে উন্নতির দিকে তাকে আরো ২৪ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণে রাখা হবে। তাকে মুভ করানো ঝুঁকিপূর্ণ হবে। তাই এখনই সিঙ্গাপুরে নেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হচ্ছে না।

গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত ওবায়দুল কাদেরের শারীরিক অবস্থার এতটাই খারাপ ছিলো যে চিকিৎসকরা এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে সিঙ্গাপুরের পৌঁছানো পর্যন্ত তিনি বেঁচে থাকবেন কিনা তা নিয়ে শঙ্কায় ছিলেন। গতকাল সারাদিন অসুস্থ থাকলেও রাতে তার জ্ঞান ফিরেছে। উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে এসেছে।

এর আগে রোববার সকালে ম্যাসিভ হার্ট অ্যাটাকের পর আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদককে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালের কার্ডিওলজি বিভাগের ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। সিসিইউর ২ নম্বর বেডে লাইফসাপোর্টে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে তাকে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, ৭২ ঘণ্টা না গেলে কিছুই বলা যাচ্ছে না।

এই হাসপাতালের চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে আওয়ামী লীগের উপদপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া সোমবার সকালে জানান, সকালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক তাকে জানিয়েছেন- ওবায়দুল কাদেরের শারীরিক অবস্থার যথেষ্ট উন্নতি হয়েছে। তিনি সম্পূর্ণভাবে চেতনা ফিরে পেয়েছেন এবং তিনি চিকিৎসকদের প্রশ্নের জবাব দিতে পারছেন। শারীরিক অবস্থার উন্নতি হওয়ায় ওবায়দুল কাদেরের লাইফসাপোর্টের যন্ত্রাদি খুলে ফেলা হবে।

বিপ্লব বড়ুয়া আরও জানান, রাতে ওবায়দুল কাদেরের অবস্থার বেশ উন্নতি হয়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন- ওবায়দুল কাদেরের ব্লাড সার্কুলেশন, হার্টবিট এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তিনি এখনও নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন। অথচ গতকাল একপর্যায়ে ওবায়দুল কাদেরের রক্তচাপ ৩৫-এ নেমে আসে।

সিঙ্গাপুরে নেয়া হবে কিনা এমন প্রশ্নে ওবায়দুল কাদেরের চিকিৎসার সার্বক্ষণিক খোঁজখবর রাখা বিপ্লব বড়ুয়া জানান, দুপুরে চিকিৎসকদের ব্রিফিংয়ে এ বিষয়ে জানানো হবে। তদুপরি সিঙ্গাপুর থেকে আসা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সঙ্গে আনা এয়ার অ্যাম্বুলেন্সটি স্ট্যান্ডবাই রাখা হয়েছে। যে কোনো সময় যাতে তা কাজে লাগানো যায়।