অগ্নিকাণ্ডে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮১ জন

চকবাজারে মর্মান্তিক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় সর্বেশষ খবর পাওয়া পর্যন্ত জানা গেছে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৮১ জনে দাঁড়িয়েছে। ৭ জন নারী ও ৪ জন শিশুসহ পুরুষ নিহত হয়েছেন ৭০ জন। উদ্ধার অভিযানের নেতৃত্বে থাকা ফায়ার সার্ভিস সুত্র জানায় ঘটনাস্থল থেকেই ৭০ টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

এছাড়া আরও বিভিন্ন যায়গা ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় নিহতের ঘটনা ঘটেছে আরও ১১ জন। সংশ্লিষ্টসুত্রগুলো বলছে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও নিহতের আশঙ্কা রয়েছে।

দেশের শীর্ষ স্থানীয় একটি সংবাদ মাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে দুর্যোগ ব্যাবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. মো. এনামুর রহমান জানান, ‘ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধারকৃত অগ্নিদগ্ধ ৯ জনকে ইতিমধ্যে ভর্তি করা হয়েছে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ণ ইউনিটে। এদের মধ্যে একজন রয়েছেন বার্ণ ইউনিটের আইসিইউতে’।

এর আগে সকালে আগুন নেভানোর পর তল্লাশি চালিয়ে ৭০টি লাশ উদ্ধারের কথা জানায় ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স। লাশগুলো ব্যাগে পুরো তারা পাঠায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে। এছাড়াও আহত হয়েছেন ৪১ জন। এর মধ্যে ৩২ জন ঢাকা মেডিকেলসহ বিভিন্ন হাসপাতাল থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। বাকি ৯ জন ঢামেকের বার্ন ইউনিটে ভর্তি রয়েছেন। ময়নাতদন্তের পর শনাক্তকরণের ভিত্তিতে নিহতদের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে। পরবর্তীতে দুপুরে উদ্ধার অভিযান আনুষ্ঠানিকভাবে সমাপ্তের ঘোষণা দেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপরেশনের মেয়র সাঈদ খোকন।

বুধবার রাত ১০টার পর রাজধানীর চকবাজার এলাকার নন্দকুমার দত্ত সড়কের চুরিহাট্টা মসজিদ গলির রাজ্জাক ভবনে আগুন লাগে। রাত ১টা ৫ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। পরে আগুন ভয়াবহ আকারে আশপাশের ৫টি বিল্ডিংয়ে ছড়িয়ে পড়ে। ফায়ার সার্ভিসের ৩২টি ইউনিট রাত ৩টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। আগুনে পুড়ে ৭০ জনের মৃত্যু হয়েছে।

এ সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। পুড়ে যাওয়া লাশগুলো শনাক্ত করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। এখনো অনেকে নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজদের সন্ধানে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভিড় করেছেন স্বজনরা।

উল্লেখ্য, সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে পুলিশের আইজিপি জানান, সময় বাড়ার সাথে সাথে এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বাড়তে পারে।