শহীদ মিনারে কবি আল মাহমুদের মরদেহ নেওয়ার দাবি বিএনপির

বাংলা সাহিত্যের অন্যতম কবি আল মাহমুদের মরদেহ শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য শনিবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) বাংলা একাডেমিতে আনা হয়েছে।সকাল ১১টা ৪৮ মিনিটে একাডেমির নজরুল মঞ্চে তার মরদেহ রাখা হয়েছিল।

সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবে জানাজার পর কবির বড় ছেলে শরীফ মাহমুদ জানান, বায়তুল মোকাররমে দ্বিতীয় এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মৌরাইল গ্রামে কবির তৃতীয় জানাজা হবে।

শরীফ মাহমুদ জানিয়েছেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মৌরাইল গ্রামে রোববার তার বাবাকে সমাহিত করার প্রস্তুতি নিয়েছেন তারা।

এর আগে শুক্রবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) দিনগত রাত ১১টা ৫ মিনিটে রাজধানীর ধানমন্ডির ইবনে সিনা হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন কবি আল মাহমুদ। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮২ বছর

এদিকে সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য কবি আল মাহমুদের কফিন কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে নিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে বিএনপি।

বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী সকালে দলীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “আমরা বিশ্বাস করি, স্বাধীনতা সংগ্রামী এই মুক্তিযোদ্ধার লাশ জাতীয় শহীদ মিনারে সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা জানানোর জন্য নিয়ে আসা হোক। সেই অনুমতি সরকারের দেওয়া উচিৎ।”

তিনি বলেন, “তার মরদেহ শহীদ মিনারে যদি আনতে না দেওয়া হয়, তখন এটাই প্রমাণিত হবে এই সরকার তাদের ভিন্ন মতাবলম্বী, তারা মুক্তিযোদ্ধাই হোক, আর যত বড় স্বাধীনতা সংগ্রামী হোক, তাদের কোনো মূল্য নেই তাদের কাছে। তাদের (ক্ষমতাসীন) চেতনার বাইরে হলেই তারা স্বাধীনতাবিরোধী, তারা মুক্তিযোদ্ধাবিরোধী।”

মত প্রকাশের স্বাধীনতার জন্য লড়াই করতে গিয়ে কবি আল মাহমুদ কারারুদ্ধও হওয়ার কথাও তুলে ধরেন রিজভী। 

কবির প্রতি দলের শ্রদ্ধা জানিয়ে  এই বিএনপি নেতা বলেন, “আধুনিক বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রধান ও আমাদের চেতনার অক্ষয়জ্যোতি কবি আল মাহমুদের ইন্তেকালে গোটা দেশবাসীর সাথে আমরাও গভীরভাবে শোকভুত। কিংবদন্তিতুল্য কবির প্রতি বিএনপি গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করছে।”

কবির রচনা স্মরণ করে রিজভী বলেন, “এদেশের প্রগতিশীল আন্দোলন থেকে শুরু করে আমাদের বায়ন্নোর ভাষা আন্দোলন, স্বাধীনতা সংগ্রাম, স্বাধিকারের লড়াই, মুক্তিযুদ্ধ- কোথায় নেই কবি আল মাহমুদের কাব্য প্রতিভা? 

“আমরা যখন ২১ ফেব্রুয়ারিতে যাই প্রভাতফেরিতে, তখন আমার ভাইয়ের রক্ত রাঙানো গানের পরেও আমরা আরও যে সমস্ত কবিতা আবৃত্তি করি, গান গাই- ‘ফেব্রুয়ারির ২১ তারিখ দুপুর বেলার অক্ত’ এই যে কবিতাগুলো আমাদেরকে কবি আল মাহমুদকে স্মরণ করিয়ে দেয়।”