রান্না করা গরম তরকারি গায়ে লেগে পাঁচজন মুসল্লী আহত!

ইজতেমায় প্রথম পর্বের শুরুর দিনে মুসল্লিদের উপস্থিতি আশানুরূপ না হলেও জনসমাগম ছিলো চোখে পড়ার মতো। তবে শুক্রবার থাকায় পার্শ্ববর্তী এলাকার মানুষজন মূলত ব্যাপকভাবে অংশগ্রহণ করেন ইজতেমার জুম্মার নামাজে।

তবে সংশ্লিষ্টদের দাবি আজ প্রথমদিন হওয়ায় উপস্থিতি কিছুটা কম। এছাড়া বহু বিদেশি মেহমানও উপস্থিত হয়েছেন টঙ্গীর ইজতেমায়। যদিও ইজতেমা অনুষ্ঠান নিয়ে অনিশ্চয়তা ও বারবার তারিখ পরিবর্তনের কারণে তাদের সংখ্যা কম বলে মনে করছেন ইজতেমার শীর্ষ মুরব্বিরা। তাদের দাবি, শেষ মুহূর্তে অল্প সময়ের নোটিশে এবারের ইজতেমা আয়োজন করায় ভিসা জটিলতায় অনেকেই যোগ দিতে পারেননি।

আজ শুক্রবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০ টা থেকেই ইজতেমা ময়দানে মুসল্লিদের জুমার নামাজের প্রস্তুতি নিতে দেখা যায়। এর আগে ফজরের নামাজের পর থেকে আম বয়ান শুরু করেন পাকিস্তানের মাওলানা জিয়াউল হক। তরজমা করেন বাংলাদেশের নূরুর রহমান। এরই মধ্যে ইজতেমা ময়দানে লাখো মুসল্লি উপস্থিত হতে শুরু করেন। ময়দানের ভিতরে চলে বয়ান, জিকির, তালিম আর মাশোয়ারা।

প্রসঙ্গত, জোবায়েরপন্থীদের ইজতেমা আজ ১৫ ফেব্রয়ারি শুরু হয়ে আগামীকাল ১৬ ফেব্রুয়ারি আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হবে। এর পরদিন ১৭ ফেব্রুয়ারি শুরু হবে সাদপন্থীদের ইজতেমা, আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হবে ১৮ ফেব্রুয়ারি। এদিকে এখন পর্যন্ত শারীরিক অসুস্থ্যতার কারণে চার মুসল্লির মৃত্যু হয়েছে। মৃতরা হলেন, ফেনীর শফিকুর রহমান (৫৮), কুষ্টিয়ার মো. সিরাজুল ইসলাম, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মো. আব্দুল জব্বার ওরফে রাজ্জাক (৪২) ও একই জেলার মোহাম্মদ আলী (৫৫)।

এছাড়া ইজতেমার ময়দানে নিরাপত্তা বাহিনীর নজরদারি ছিলো ব্যাপক, সার্বক্ষনিক র‍্যাবের একটি হেলিকপ্টারকে টহল দিতে দেখা যায়। অপরদিকে স্থানীয় প্রশাসন পুলিশ, সাদা পোশাকের পুলিশ, গোয়েন্দা নজরদারিসহ নিরাপত্তা বলয়ে ছিলো গোটা ইজতেমার মাঠ।

তুরাগ নদীর ওপার থেকে যোগাযোগ নিরবিচ্ছিন্ন রাখতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে আসা-যাওয়ার জন্য তিনটি পৃথক অস্থায়ী ব্রীজ নির্মাণ করা হয়েছে। পানি ও স্যানিটেশনের ব্যাবস্থা বরাবরের মতো তবলীগ জামায়াতের নিজস্ব ব্যাবস্থাপনাতেই করা হয়েছে।

তবে আজ নামাজের আগে একাধিক স্থানে পানি সরবরাহ বিঘ্ন ঘটায় ওযু-গোসলের সময় বিরম্বনায় পড়তে হয় দূর-দুরান্ত থেকে আগত মুসল্লীদের। খাবারের ব্যবস্থা প্রত্যেক গ্রুপের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় করা হচ্ছে। হঠাৎ অসুস্থ হয়ে যাওয়ায় মুসল্লীদের তাৎক্ষণিকভাবে প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যাবস্থা ইজতেমা প্রাঙ্গনেই রাখা হয়েছে।

শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত, রান্না করা গরম তরকারি গায়ে লেগে পাঁচজন মুসল্লী আহত হয়েছেন যাদের মধ্যে একজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে হাসপাতলে পাঠানো হয়েছে। এদিকে এই ঘটনা কেউ কিছু বুঝে ওঠার আগেই মুসল্লিরা দিগ্বিদিক ছোটাছুটি শুরু করেন। অনেকেই সিলিন্ডার বিস্ফোরণের গুজব শুনে আতঙ্কে হুড়োহুড়ি করতে গিয়ে পড়ে যান। অনেক মুসল্লিকে মাঠের পাশের তুরাগ নদের পানিতে ঝাঁপ দিতে দেখা গেছে।