পাগল পথচারী বাঁচাতে গিয়ে ৫ ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতা নিহত

খুলনার রূপসা সেতুর বাইপাস সড়কে ভবঘুরে পাগল এক পথচারীকে বাঁচাতে গিয়ে ট্রাকচাপায় নিহত হন ৫ প্রাইভেটকার আরোহী গোপালগঞ্জের ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতা। রবিবার রাতে এক পাগল পথচারী বাঁচাতে গিয়ে ট্রাকের সঙ্গে প্রাইভেটকারটির সংঘর্ষ হয়।

লবণচরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম জানান, প্রাইভেটকারটি (ঢাকা মেট্রো গ ৩৫-০০২৫) মহানগরের জিরো পয়েন্ট এলাকা থেকে যাচ্ছিল। আর রূপসা সেতু থেকে আসছিল সিমেন্টবোঝাই ট্রাকটি (ঢাকা মেট্রো ট ১৮-২৫৮৪)। দুটি গাড়ি যখন খাজুর বাগান অতিক্রম করছিল, তখন এক ভবঘুরে পাগল প্রাইভেটকারের সামনে এসে পড়লে তাকে বাঁচাতে গিয়ে প্রাইভেটকার ও ট্রাকের এ সংঘর্ষ হয়।

এতে প্রাইভেটকারের ভেতরে থাকা পাঁচ ছাত্রলীগ ও যুবলীগ নেতাই প্রাণ হারান। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যায় পুলিশ। ট্রাকটি জব্দ করা হলেও চালকসহ অন্যরা পালিয়ে যায়।

নিহতরা হলেন- গোপালগঞ্জ শহরের সবুজবাগের অ্যাডভোকেট আবদুল ওয়াদুদ মিয়ার ছেলে ও গোপালগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুব হাসান বাবু, একই এলাকার মৃত আলাউদ্দিন শিকদারের ছেলে ও গোপালগঞ্জ সদর যুবলীগের সহ-সভাপতি সাদিকুল আলম, থানাপাড়ার গাজী মিজানুর রহমানের ছেলে ও জেলা ছাত্রলীগের উপ-সম্পাদক ওয়ালিদ মাহমুদ উৎসব, গেটপাড়া এলাকার আলমগীর হোসেন মোল্লার ছেলে ও জেলা ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক সাজু আহমেদ এবং চাদমারী এলাকার ওয়াহিদ গাজীর ছেলে ও জেলা ছাত্রলীগের সদস্য অনিমুল ইসলাম গাজী। এদের মধ্যে সাদিকুল গাড়ি চালাচ্ছিলেন।

এদিকে মরদেহগুলো রাতেই গোপালগঞ্জ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। রবিবার খুলনায় ওই পাঁচজন বেড়াতে এসেছিলেন। সোমবার বাদজোহর গোপালগঞ্জ স্টেডিয়ামে নামাজের জানাজা শেষে তাদের দাফন করা হবে।