ফরিদপুর শহরতলীতে গড়ে উঠেছে নামে বেনামে ভেজাল ফুড ইন্ডাষ্ট্রিজ

শখ করে আমরা প্রতিদিনই দোকান থেকে নানান রকমের খাবার শিশুদের কিনে দিচ্ছি। এসব খাবারের মান কতটুকু স্বাস্থ্যসম্মত সেটার বিষয়ে আমরা কিন্তু সচেতন নই। দোকানে সাজানো রংচংয়ে প্যাকেটে পাওয়া যাচ্ছে চিপস, চানাচুর, বিস্কুট, চকলেটসহ নানান ধরনের প্যাকেট জাত খাবার। ফরিদপুর জেলা শহর ও শহরতলীতে গড়ে উঠেছে বেশ কিছু ফুড ইন্ডাষ্ট্রিজ। সেখানে নোংরা পরিবেশে ভেজাল কাচামাল ও বিভিন্ন ক্যামিকেলের সংমিশ্রণে তৈরী করা হচ্ছে এসব খাবার।

সরেজমিনে গিয়ে কয়েকটি কারখানায় এর সত্যতা খুঁজে পাওয়া যায়। ফরিদপুর জেলার শহরতলীর গেরদা ইউনিয়নের জোয়ারের মোড় এলাকায় গড়ে ওঠেছে এফ কে ফুড নামে একটি কারখানা। সেখানে চাতালে রোদ দেওয়া হচ্ছে চিপস । চাতালে কোনো পলিথিন না দিয়ে ময়লা ধুলার মধ্যেই কাঁচামাল শুকানো হচ্ছে। কারখানার ভিতরে তৈরী করছে চিপস, বিস্কুট, চানাচুরসহ নানান খাবার। সেখানে দেখা যায় আটার সাথে রং মিশিয়ে চিনির পরিবর্তে সেকারিন দিয়ে সাথে আনফুডগ্রেড কেমিক্যাল মিশিয়ে পুড়া তেল দিয়ে খাবার পক্রিয়াজাত করছে। যে সব শ্রমিক কাজ করছে তাদে নিয়মমাফিক কোনো লেবার বডি ফিটনেস সার্টিফিকেট নেই। খালি গাঁয়ে শরীরের ঘাম খাবারের মধ্যে পড়ছে। বি এস টি আই এর লোগো ব্যাবহার করছে। কিন্তু তাদের কোনো অনুমোদিত কাগজপত্র নাই।

এ বিষয়ে এফ কে ফুড এর ম্যানেজার রফিক জানালেন, আমরা যেভাবে পারছি সেভাবেই এখানে খাবার তৈরী করি। এখানে কোনো সাংবাদিকের কিছু করার নাই। আমাদের নিজস্ব সাংবাদিক আছে তিনিই ফরিদপুরের সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেন।
জানা যায়, ফরিদপুর জেলা ভোক্তা অধিকার সহকারী ও ভোক্তা অধিকার সহকারী পরিচালকসহ ফরিদপুর সিভিল সার্জন কার্যালয়ের বাজার মনিটরিং কর্মকর্তা ২ বার ঐ প্রতিষ্ঠাানে অভিযান চালিয়ে জরিমানা করেছে যথাক্রমে প্রথমবার অনিয়মের কারণে ২০,০০০টাকা এবং পরবর্তীকে সঠিক অনুমোদিক কাগজপত্র না থাকায় এবং ভেজাল কাঁচামাল ও নোংরা পরিবেশে খাবার তৈরী করার অপরাধে ১০,০০০ টাকা জরিমানা আদায় করেছে। কিন্তু তাতে ভেজাল কারবারে এস কে ফুডের টনক নড়েনি।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, এফ কে ফুড নামে সাইনবোর্ড টানানো কিন্তু কারখানার ভিতরে বিভিন্ন নামের প্যাকেটজাত খাদ্য উৎপাদন করছে। সাইন বোর্ডে উল্লেখ করেছে বিভিন্ন মোবাইল পাইকারী বিক্রয় প্রতিষ্ঠান।

এখানে বিভিন্ন নামিদামী কোম্পানীর খাবারে ফয়েল ভেজাল খাবার দিয়ে প্যাকেট জাত করে বাজারে সাপ্লাই করছে।

অপরদিকে ফরিদপুরের কানাইপুর বিসিক শিল্পনগরীর মধ্যে গড়ে উঠেছে একটি নারিকেল তেল ইন্ডাষ্ট্রিজ। সেখানে তৈরী করা হচ্ছে ভেজাল নারিকেল তেল।

স্থানীয়রা জানায়, ক্ষতিকর কেমিক্যাল র‍্যাপসিন আর কোকোনাট ফ্লেভার মিশিয়ে বিভিন্ন নামীদামী ব্রান্ডের নামে নকল তেল প্যাকেটজাত করা হচ্ছে। প্যারাডাইস, চ্যালেঞ্জার, দুই ডায়মন্ড,গন্ধরাজ,ভাটিকা, নিহার,ডাব মার্কাসহ নানান ব্যান্ডের তেলের প্যাকেট জাত করা হচ্ছে।

একটি নামে লাইসেন্স করে একাধীক নামিদামী কোম্পানীর বোতলজাত করা তেল কতটুকু মানসম্মত এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রতিষ্ঠানের কেউ কোনো কথা বলতে বাধ্য নয় বলে সাংবাদিকদের জানালেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কারখানার একজন শ্রমিক জানালেন, প্রতিদিন রাত ১০টার সময় এখানে তেল প্যাকেটজাত করার কাজ শুরু হয় আর ভোর রাতে সেই মাল পরিবহণে জেলার বিভিন্ন বাজারে এবং অন্য জেলায় ডিষ্ট্রিবিউশন করার জন্য আপলোড করা হয়।

দীর্ঘদিন ধরে এসব কারখানায় ভেজাল পণ্য উৎপাদন করা হচ্ছে। জেলা ভোক্তা অধিকার ও জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট মাঝে মাঝে অভিযান করলেও ভেজাল উৎপাদন বন্ধ করা যাচ্ছে না। এ বিষয়ে সচেতন মহল মনে করে ভেজাল খাবার উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর আইন প্রয়োগ না করলে সাধারণ মানুষ মারাত্বক স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে থাকবে।
প্রতিবেদক

 

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর প্রতিনিধি