সরকারের অনুমতি ছাড়া বিদেশি চ্যানেলে বিজ্ঞাপন প্রচারে সতর্কতা!

আজ শুক্রবার সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) মিলনায়তনে এক অনুষ্ঠানে সরকারের অনুমতি ছাড়া ও কর না দিয়ে বিদেশি চ্যানেলে বিজ্ঞাপন প্রচারের ব্যাপারে দেশের কেবল অপারেটরদের সতর্ক করেছেন তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ। টেলিভিশন সাংবাদিকদের নবগঠিত প্ল্যাটফর্ম ‘সম্প্রচার সাংবাদিক কেন্দ্র’র উদ্বোধন ও সম্প্রচার সম্মেলন উপলক্ষে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের কেবল অপারেটরেরা ডাউনলিংক করে বিদেশি চ্যানেল প্রদর্শন করছেন। বিদেশি চ্যানেল প্রদর্শন কোনো অপরাধ নয়। কিন্তু সরকারের অনুমতি ছাড়া ও কর না দিয়ে বিদেশি চ্যানেলে বিজ্ঞাপন প্রচার করা আইনগতভাবে দণ্ডনীয় অপরাধ। যাঁরা এই কাজগুলো করছেন, তাঁরা আইন লঙ্ঘন করছেন ৷ তিনি আশা করছেন, সরকার কঠোরভাবে আইন প্রয়োগ করার আগেই তাঁরা এই কাজ থেকে বিরত হবেন।

দেশের গণমাধ্যম এখন যথেষ্ট স্বাধীনভাবে কাজ করছে বলে দাবি করেন তথ্যমন্ত্রী। আত্মপ্রত্যয়ী প্রজন্ম তৈরিতে গণমাধ্যমের ভূমিকা অনস্বীকার্য বলে উল্লেখ করেন হাছান মাহমুদ।

তিনি বলেন, টেলিভিশনের কন্টেন্ট তৈরির ক্ষেত্রে সমাজের অসংগতির পাশাপাশি দেশ গঠনের লক্ষ্য মাথায় রাখতে হবে। সমাজকে সঠিক পথে চালিত করার মাধ্যমে নতুন প্রজন্মকে স্বপ্নের বাংলাদেশের বার্তা দেওয়ার অনুরোধ জানান মন্ত্রী।

সম্মেলনের উদ্বোধন করেন জাতীয় সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী। উদ্বোধনকালে তিনি প্রত্যাশা করেন, কল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড, ঝুঁকি মোকাবিলা, পেশাগত ও অর্থনৈতিক সক্ষমতা বাড়ানো, গবেষণা ও নীতি সহায়তার লক্ষ্য সামনে রেখে সম্প্রচার সাংবাদিক কেন্দ্র কার্যকরভাবে এগিয়ে যাবে। সম্মাননা পর্বে সম্প্রচার সাংবাদিক কেন্দ্র গঠনে ভূমিকা রাখায় তিনজনকে সম্মাননা দেওয়া হয়।

মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক রেজোয়ানুল হক সংগঠনের চেয়ারম্যান ও একাত্তর টেলিভিশনের বার্তাপ্রধান শাকিল আহমেদ সদস্যসচিব হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন।

সম্মাননা পর্ব শেষে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল এটিএন নিউজের বার্তাপ্রধান মুন্নী সাহার সঞ্চালনায় শুরু হয় মূল আলোচনা। ‘সম্প্রচার শিল্প: একটি সম্ভাবনার সংকট’ শীর্ষক ঘণ্টাব্যাপী এই আলোচনায় অংশ নেন তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ, বাংলাদেশ প্রেস ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক শাহ আলমগীর, একাত্তর টেলিভিশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোজাম্মেল হক বাবু, বাংলাদেশ প্রতিদিনের সম্পাদক নঈম নিজাম, সাবেক সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর ও জিটিভির প্রধান সম্পাদক সৈয়দ ইশতিয়াক রেজা।