বেসরকারি বাস চলে ২০ বছর, ১০ বছরেই অচল বিআরটিসি!

রাষ্ট্রীয় পরিবহন সংস্থা বিআরটিসির বাসগুলোর বয়স ১০ বছর হওয়ার আগেই সেগুলো ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে। অথচ বেসরকারি বাসগুলো চলে এক অন্তত দ্বিগুণ সময়। ২০ বছর ধরেও চলে বহু বাস। ২০১১ সালে সংস্থাটি ২৫৫টি দাইয়ু বাস কেনে কোরিয়া থেকে। খরচ হয় প্রায় তিন কোটি ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় আড়াইশ কোটি টাকা। এগুলো সরবরাহ করা হয় ২০১২ থেকে ২০১৩ সালে। এরই মধ্যে ১০৭টি চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে।

সব মিলিয়ে বিআরটিসির এক হাজার ৪৪৫টি বাসের মধ্যে ৫২৪টি নষ্ট হয়ে আছে। এর মধ্যে বড় ধরনের মেরামত করলে ৩৬০টি চালানো যাবে। বাকি ১৬৪টি বাস একেবারেই চলাচলের অযোগ্য।

এই পরিস্থিতি তৈরির পেছনে দক্ষ মেকানিক, যন্ত্রাংশের স্বল্পতা, সময় মতো রক্ষণাবেক্ষণ না করা, ভুল সিদ্ধান্ত এবং দুর্নীতিকে দায়ী করছেন খোদ সংস্থাটির কর্মীরাই।

বিআরটিসির একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ করে বলেছেন, কোনো যন্ত্র নষ্ট হলে সেটি মেরামতের জন্য তাৎক্ষণিক টাকা পাওয়া যায় না। চাহিদা দিলে টাকা আসতে আসতে গাড়ি ততদিনে বসে যায় এবং যে অর্থ আসে, তখন সে টাকায় আর মেরামত করা যায় না।

আবার মেরামতের ক্ষেত্রে দুর্নীতিও রয়েছে। নতুন যন্ত্রাংশের বিল দেওয়া হলেও অনেক ক্ষেত্রেই পুরনো যন্ত্র দেওয়া হয়। আর এটি কোনো গোপন বিষয় নয়।

এর পাশাপাশি যে বাস আনা হয় তার মান নিয়েও আছে কর্মীদেরই আপত্তি। তরা বলছে চীন থেকে যেসব বাস আনা হয়েছে সেগুলো বছর দুয়েক ঘুরতে না ঘুরতেই লক্কর ঝক্কর হয়ে যায়।

বিআরটিসির চেয়ারম্যান ফরিদ আহমেদ ভুইয়া এর জন্য যন্ত্রাংশের অভাবকে দায়ী করেছেন। তিনি বলেন, ‘মেরামতের জন্য যন্ত্রাংশ জরুরি। যদি এটা না হয় তাহলে আপনি সমস্যায় পড়বেন। চীন থেকে আনা বাসের ক্ষেত্রে এই ঘটনাটিই ঘটেছে।’

২০১২-১৩ সালে চীন থেকে আনা ২৮৯টি আসের মধ্যে ১১৪টি এরই মধ্যে চলাচলের অযোগ্য হয়ে গেছে। কারণ, এগুলো মেরামতের জন্য যন্ত্রাংশ নেই স্থানীয় বাজারে।

কোরিয়া থেকে আনা দাইয়ু বাসের ক্ষেত্রেও এই সমস্যা রয়েছে। এই বাসের সঙ্গে মাত্রা চার শতাংশ যন্ত্রাংশ আনা হয়েছিল। আর বাংলাদেশে একটি মাত্র কোম্পানি এই বাসগুলোর যন্ত্রাংশ আমদানি করে আর তারা অতিরিক্ত দাম হাঁকে।

দুর্নীতি ও সময় মতো রক্ষণাবেক্ষণের অভিযোগের বিষয়ে বিআরটিসি প্রধান বলেন, তারা একটি সফটওয়্যারভিত্তিক ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলেছেন। আপাতত এটি গাবতলী ও কল্যাণপুর ডিপোতে ব্যবহার করা হচ্ছে। এর সুফল মিললে অন্যগুলোতেও তা চালু হবে।

এর মধ্যে সরকার নতুন করে ৬০০ বাস কিনছে এবং নগরবাসীর পরিবহন চাহিদা মেটাতে এই বাস ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। এর মধ্যে ভারতীয় ঋণে ৫০০টি বাস কেনা হয়েছে সে দেশ থেকেই। কিছু বাস এরই মধ্যে দেশে এসে পৌঁছেছে, বাকিগুলোও আসবে এপ্রিলের মধ্যে।

নতুন এই বাস মেরামরে যন্ত্রাংশের সমস্যা যেন না হয়, সে জন্য ১০ শতাংশ যন্ত্রাংশ বাসের সঙ্গেই আনা হচ্ছে। এ দিয়ে বাসগুলো ছয় বছর চালানো যাবে।