মিতুকে রিমান্ডে নেয়া হবে কিনা, জানা যাবে আগামীকাল

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক মোস্তফা মোরশেদ আকাশের আত্মহত্যার ঘটনায় গ্রেফতার স্ত্রী তানজিলা হক চৌধুরী মিতুকে রিমান্ডে নেয়ার শুনানি হবে আগামীকাল সোমবার। শুনানির এই দিন ধার্য করেছেন চট্টগ্রামের মুখ্য মহানগর হাকিম আদালত।

শনিবার ৭ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পাঁচলাইশ থানার এসআই আবদুল কাদের।

চট্টগ্রাম নগর পুলিশের সহকারী কমিশনার (প্রসিকিউশন) কাজী মো.শাহাবুদ্দিন আহমেদ জানান, সোমবার মিতুর রিমান্ড শুনানি হবে।এদিন পূর্বনির্ধারিত জামিন আবেদনেরও শুনানি আছে। তবে আগে রিমান্ড হলে জামিন শুনানি আর হবে না। আর রিমান্ড নামঞ্জুর হলে তখন জামিন শুনানি হবে।

মোস্তফা মোরশেদ আকাশ চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার বাংলাবাজার বরকল এলাকার মৃত আব্দুস সবুরের ছেলে। তিনি এমবিবিএস শেষ করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগে কর্মরত ছিলেন। সঙ্গে এফসিপিএস পড়ছিলেন।

বৃহস্পতিবার ভোরে নগরীর চান্দগাঁও থানা এলাকায় নিজবাসায় নিজের শিরায় বিষ প্রয়োগ করে আত্মহত্যা করেন আকাশ।

এদিকে এ ঘটনায় শুক্রবার বিকালে মিতুসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে চান্দগাঁও থানায় মামলা করেছেন আত্মহত্যাকারী চিকিৎসকের মা জমিরা খানম। মামলায় মিতু, তার বাবা আনিসুল হক চৌধুরী, মা এবং আমেরিকা প্রবাসী এক বোন ও মিতুর দুই বয়ফ্রেন্ডকে আসামি করা হয়েছে।

এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে নগরীর নন্দনকানন এলাকায় তানজিলা হক চৌধুরী মিতুকে তার খালাতো ভাইয়ের বাসা থেকে গ্রেফতার করে সিএমপির কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট। এরপর মিতুর স্বীকারোক্তি অনুযায়ী আমানত শাহ (র.) মাজার এলাকা থেকে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি উদ্ধার করে পুলিশ। এর আগে আকাশের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি জব্দ করে পুলিশ।

জানা যায়, সাত বছরের প্রেমের সূত্র ধরে তিন বছর আগে ২০১৬ সালে পারিবারিকভাবে মিতুর সঙ্গে আকাশের বিয়ে হয়। বিয়ের পর মিতু বেশি সময় কাটিয়েছেন মা-বাবার সঙ্গে আমেরিকায়। মাঝেমধ্যে মিতু স্বামীর কাছে আসতেন। দেশে আসার পরও মিতু স্বামীর বাসায় নয়, বেশির ভাগ সময় থাকতেন তার বাবার চান্দগাঁও এলাকার বাসায়। মিতুও পেশায় একজন ডাক্তার। ২০১৪ সালে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাস করেন।

আত্মহত্যার আগে ফেসবুকে দুটি স্ট্যাটাস দিয়ে মৃত্যুর জন্য স্ত্রী মিতুকে দায়ী করেন এবং বিস্তারিত ঘটনার আবেগঘন বর্ণনা দেন আকাশ।

ফেসবুকে শেষ পোস্ট দেন ভোর ৪টা ৫২ মিনিটে। তাতে স্ত্রীর সঙ্গে তোলা একটি সেলফি পোস্ট দিয়ে আকাশ লিখেন, ভালো থেকো আমার ভালোবাসা তোমার প্রেমিকদের নিয়ে।

এর প্রায় আধ ঘণ্টা আগে (৪টা ২৬ মিনিটে) কয়েকটি ছবি, সামাজিকমাধ্যমের মেসেজের স্ক্রিনশট ও একটি ভিডিও পোস্ট করেন আকাশ। সেখানে তার স্ত্রীর সঙ্গে সম্পর্কের বিস্তারিত বর্ণনা করেন তিনি। আকাশ লিখেন, ‘আমার সাথে তানজিলা হক চৌধুরী মিতুর ২০০৯ সাল থেকে পরিচয়। প্রচণ্ড ভালবাসি ওকে। ও নিজেও আমাকে অনেক ভালবাসে। আমরা ঘুরে বেড়াই, প্রেম করে বেড়াই। আমাদের ভালোবাসা কম বেশি সবাই জানে। অনেকে বউ পাগলাও ডাকত। ২০১৬ সালে আমাদের বিয়ে হয়, বিয়ের কয়েকদিন আগে জানতে পারি কিছুদিন আগে শোভন নামে চুয়েটের ০৮ ব্যাচের এক ছেলের সাথে ও হোটেলে রাত কাটায়, আর কত কি লজ্জা লাগছে সব লিখতে। ততদিনে সবাইকে বিয়ের দাওয়াত দেওয়া শেষ, আমাকে যেহেতু চট্টগ্রামের সবাই চিনে তাই বিয়ে ক্যানসেল করতে পারিনি লজ্জাতে।’

কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের একজনের সঙ্গে মিতুর ‘শারীরিক সম্পর্কে’র কথা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ভাইবারে থাকা স্ত্রীর অ্যাকাউন্ট থেকে জানতে পারেন বলে দাবি করেন আকাশ। বিষয়টি নিয়ে তাদের মধ্যে কথা হলে মিতু কান্নাকাটি করে ক্ষমা চেয়েছে বলেও ফেসবুক স্ট্যাটাসে জানান আকাশ।

তিনি জানান, এই ঘটনার পর এক বছর ভালোভাবেই সংসার করেন তারা। পরে মিতু যুক্তরাষ্ট্রে যান, এই ফেব্রুয়ারিতে আকাশেরও যাওয়ার কথা। জানুয়ারিতে আকাশ জানতে পারেন, বিদেশে গিয়েও মিতুর অন্য একজনের সঙ্গে সম্পর্কের কথা। আকাশ ফেসবুক স্ট্যাটাসে বলেছেন, ‘…আমি বারবার বলছি, আমাকে ভালো না লাগলে ছেড়ে দাও কিন্তু চিট করো না, মিথ্যা বলো না। আমার ভালবাসা সবসময় ওর জন্য ১০০% ছিল। আমি আর সহ্য করতে পারিনি। আমাদের দেশে তো ভালবাসায় চিটিং-এর শাস্তি নেই। তাই আমিই বিচার করলাম, আর আমি চির শান্তির পথ বেঁচে নিলাম।’

‘তোমাদেরও বলছি কাউকে আর ভালো না লাগলে সুন্দরভাবে আলাদা হয়ে যাও, চিট করো না, মিথ্যা বলো না। আমি জানি অনেকে বিশ্বাস করবে না, এত অমায়িক মেয়ে আমিও এসব দেখে ভালোবেসেছিলাম। ভিতর-বাহির যদি এক হতো। সবাই আমার দোষ দিবে সবকিছুর জন্য তাই ব্যাখ্যা করলাম। আমার শাশুড়ি দায়ী এসবের জন্য, মেয়েকে আধুনিক বানাচ্ছে। একটু বেশি বানিয়ে ফেলেছে। উনি চাইলে সমাধান হতো। আমি শেষ পর্যন্ত চাইছি সব চুপ রেখে সমাধান করে মিতুকে নিয়ে থাকতে। আমার শ্বশুর আর শাশুড়িকে বারবার বলছি, উনারা সমাধান করতে পারত! আমার মৃত্যুর জন্য দায়ী আমার বউ, যাকে ৯টা বছর যাকে ১০০% ভালোবাসছি। আমি বোকা ছিলাম তুমি সুখে থেকো। মরার আগে কেউ মিথ্যা বলে না, আর বাইরে থেকে মানুষের ভিতরের চেহারা বুঝা যায় না। ও সুন্দরী, পড়ায় ভালো, গান পারে সত্য কিন্তু সে ভালো অভিনেত্রী, ভালো চিটার। যাদের ইচ্ছা বিলিভ করবে, আর যাদের ঈচ্ছা নাই করবে না। তবে কাউকে ভালোবেসে চিটারগিরি করো না।’