মিরপুর থেকে ১০ মিনিটেই পৌঁছে যাওয়া যাবে বিমানবন্দর

মিরপুর থেকে মাত্র ১০ মিনিটেই পৌঁছে যাওয়া যাবে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে। আর কালশী রোড হয়ে উত্তরা, বনানী ও গুলশানগামী যাত্রী, যারা সকাল-সন্ধ্যায় এই পথ দিয়ে আসা-যাওয়ায় দীর্ঘ যানজটে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন তাদের স্বস্তি দিতে এই রোডে তৈরি করা হচ্ছে ইংরেজি ওয়াই অক্ষরের মতো দেখতে ২ হাজার ৩৩৫ মিটার দৈর্ঘ্যরে একটি উড়ালসড়ক।

এর সঙ্গে একই সড়কে যাত্রীদের যাতায়াতের স্বস্তি আনতে চার লেনের সড়কগুলো প্রশস্ত করে ছয় লেনে উন্নীত করা হচ্ছে। তৈরি করা হচ্ছে ছয়টি বাস-বে এবং একটি পৃথক সাইকেল ট্র্যাক। এ ছাড়া মিরপুর ডিওএইচএস এলাকা থেকে ৩.৭ কি.মি. দৈর্ঘ্যরে একটি নতুন সড়ক নির্মাণ করা হচ্ছে যা উত্তরার নতুন নির্মাণাধীন অংশ হয়ে বিমানবন্দর এলাকায় গিয়ে মিলবে। এর ফলে মিরপুরবাসী দ্রুততম এবং স্বল্প সময়ের মধ্যে বিমানবন্দরে পৌঁছাতে পারবেন।

সংশ্লিষ্ট প্রকল্পটির পরিচালকের অফিস কর্তৃপক্ষ গতকাল জানান, প্রকল্প অর্থায়নে কোনো সমস্যা না হলে এবং সবকিছু ঠিক থাকলে ২০২০ সালের জুন মাসেই এসব অবকাঠামোর নির্মাণকাজ শেষ হবে এবং ঢাকাবাসী রাজধানীতে নির্মিতব্য ৭ম ফ্লাইওভারটি ব্যবহার করতে পারবেন।

সব মিলিয়ে ঢাকার যোগাযোগে যুক্ত হবে নতুন মাত্রা। আর এর ফলে আশা মিরপুর, পল্লবী, ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট, উত্তরা ও মহাখালীর মধ্য দিয়ে সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা হবে আরও সহজ ও উন্নত। ২০১৮ সালের জানুয়ারি মাসে এই প্রকল্পটি একনেকে পাস হওয়ার পর সে বছরের মার্চ মাসে প্রকল্পের দৃশ্যমান কাজ শুরু হয়। যদিও প্রকল্পের সমীক্ষার কাজ ২০১৬ সালে করা হয়। ইসিবি চত্বর থেকে শুরু হওয়া ফ্লাইওভারটি কালশী মোড়ে এসে এর একদিক কালশী কবরস্থানের দিকে এবং আরেকদিক মিরপুর ১২ নম্বরের সাগুফতা হাউজিং হয়ে মিরপুর ডিওএইচএস এলাকার আগে গিয়ে শেষ হবে। প্রসঙ্গত কালশী সড়কটি নির্মাণের মাত্র পাঁচ বছরের মধ্যেই সকাল-সন্ধ্যায় দুবার ঢাকার পূর্বদিকে উত্তরা-গুলশানগামী যাত্রীবাহী যানবাহনের মাত্রাতিরিক্ত চাপে কালশী মোড় থেকে শুরু করে প্রধান সড়কটির উল্লেখযোগ্য সংখ্যক অংশে যানজট তৈরি হয়। সর্বশেষ ২০১৮ সালের এপ্রিলের হিসাবে এই সড়ক দিয়ে বছরে ৮৬ হাজার যাত্রীবাহী গাড়ি যাতায়াত করে।

তবে ভবিষ্যতে ডিওএইচএস এবং তার আশপাশে সরকারি আবাসন প্রকল্প, সাগুফতা হাউজিং গড়ে ওঠার পর যানজট আরও বৃদ্ধি পাবে। এসব বিবেচনায় এই এলাকার যানজট নিরসনে ‘ইসিবি চত্বর হতে মিরপুর পর্যন্ত সড়ক প্রশস্তকরণ ও উন্নয়ন এবং কালশী মোড়ে ফ্লাইওভার নির্মাণ’ প্রকল্পটি গ্রহণ করা হয়। একই কারণে ফ্লাইওভারের নিচে দিয়ে যাওয়া সড়কটি চার লেন থেকে প্রশস্ত করে ছয় লেনে পরিণত করা হচ্ছে। আবার উত্তরার নতুন অংশে বসবাসকারীদের সুবিধার্থে ডিওএইচএস-এর পাশেই নতুন একটি ৩.৭ কি.মি. দৈর্ঘ্যরে সড়ক নির্মাণ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে কালশী ব্রিজটিও সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। প্রকল্পের অংশ হিসেবে এখানে আরও নির্মাণ হবে দুটি পাবলিক টয়লেট ও দুটি পুলিশ বক্স। স্থানীয় সরকার বিভাগের আওতায় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রকল্পটি যৌথভাবে বাস্তবায়ন করছে। এর মধ্যে সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ প্রকল্পের কারিগরি ও পরিকল্পনা অংশের কাজ করছে।

কিন্তু সেনাবাহিনীর ১৭ (ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন ব্যাটালিয়ন) ইসিবি কর্তৃপক্ষ পুরো কাজ পরিচালনা করছে। ১৭ ইসিবি-এর কমান্ডিং অফিসার লে. কর্নেল মোহাম্মদ জাহিদুল কারিম গতকাল বাংলাদেশ প্রতিদিনকে তার কার্যালয়ে বলেন, প্রকল্প এলাকার মাটি শক্তিশালীকরণের কাজটি করতে সময় লাগছে। এতে ব্যয়ও বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ জন্য প্রকল্প ব্যয় বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ৯৮৬ কোটি টাকায়। আশা করছি প্রকল্পের অর্থায়ন ঠিক থাকলে ২০২০ সালের জুনেই এর নির্মাণ কাজ শেষ হবে। আর এটি শেষ হলে এই এলাকায় যানজট আর থাকবে না বলে বিশ্বাস করি।

সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, মিরপুরের ইসিবি চত্বর থেকে মিরপুর ডিওএইচএস আবাসিক এলাকার প্রধান ফটক শুরুর আগ পর্যন্ত প্রধান সড়ক এবং এর দুই পাশে ফ্লাইওভার ও রাস্তা সম্প্রসারণের কাজ চলছে। বিশেষ ফ্লাইওভার নির্মাণের জন্য কালশী মোড় এবং তার আশপাশের এলাকায় এখন দিন-রাত কাজ চলছে। প্রধান সড়কের পাশে যে স্থান দিয়ে ফ্লাইওভার যাবে সেখানে গত এক মাস ধরে বিশাল ও ভারী সব যন্ত্রপাতি বসানো হয়েছে। এরই মধ্যে এসব স্থানের বিভিন্ন অবকাঠামো সরানোর পর সেখানে মাটি খুঁড়ে বড় পিলার স্থাপনের কাজ শুরু করা হয়েছে। আর ডিওএইচএস থেকে ইসিবি চত্বর পর্যন্ত যে স্থানগুলোতে সড়ক সম্প্রসারণ করা হবে সেখানে মাটি ফেলে সড়ক সমান করার কাজ করছেন ১৭ ইসিবি-এর লোকজন ও নির্মাণ শ্রমিক। যেহুতু কালশী মোড় হয়ে ইসিবি চত্বর পর্যন্ত সড়কটি নিচু জমি ও জলাশয় ভরাট করে তৈরি করা হয়।

এ জন্য অতিরিক্ত যানবাহনের চাপে এর অনেক অংশ নিচু ও আঁকাবাঁকা হয়ে যায়। এ জন্য নতুন প্রকল্পটির অবকাঠামো নির্মাণের আগে সংশ্লিষ্টরা এ এলাকার মাটি দৃঢ়করণের কাজ করছেন। যা বেশ সময়সাপেক্ষ ও ব্যয়বহুল কাজ। এ ছাড়া প্রকল্প নির্মাণের পথে কালশী মোড়ে থাকা ৪৭৯টি পরিবারের যারা বৈধভাবে সেখানে ঘর বানিয়েছিলেন তা উচ্ছেদ করা হয়েছিল। তবে গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের জমিতে কাছেই এসব পরিবারের লোকজনদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।