‘পাওনাদারের অত্যাচার সহ্য করে এই মিউজিয়াম বানাতে হয়েছে’

মৃণাল হকের উদ্যোগে গুলশানে স্থাপিত হয় ‘সেলিব্রিটি গ্যালারি’ নামের একটি জাদুঘর। সেখানে বিশ্বের নানা অঙ্গনের বিখ্যাত সব ব্যক্তিত্বের প্রতিকৃতি ভাস্কর্য আছে। শাহরুখ খান, মেসি, বব মারলি, উস্তাদ জাকির হোসেন, কাজী নজরুল ইসলাম, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, ক্ষুদিরামের মতো মানুষের ভাস্কর্য।

সবগুলো ভাস্কর্যই মৃণালের হাতে তৈরি। তবে সম্প্রতি তার এই ভাস্কর্যগুলো নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়েছে। তার শিল্পকর্মের মান নিয়ে অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন।

মৃণাল হক বলেন, ‘এগুলো যদি সরকারি সহায়তায় হতো, প্রচুর টাকা খরচ করে তাহলে একভাবে বানানো যেত। ধার-বাকি-লোন করে পাওনাদারের অত্যাচার সহ্য করে এই মিউজিয়াম বানাতে গিয়ে অনেক ঝড়-ঝাপটা গেছে। পাওনাদাররা তিন বেলা এসে বসে থাকে। যারা না জেনে সমালোচনা করছেন তারা ভাবতেই পারবেন না কোন অবস্থার মধ্য দিয়ে এগুলো বানাতে হয়েছে। কাজেই শান্তিতে কাজ করা এক জিনিস, আর যন্ত্রণার ভেতরে কাজ করা এক জিনিস। তবে একটা-দুইটার মান নিয়ে কথা হতে পারে। এছাড়া বাকিগুলো সবগুলোই ঠিক আছে বলে আমার মনে হয়। শত্রুতা করে এটার মান নিয়ে কথা বলছে অনেকে। আমি সেলিব্রিটি মিউজিয়াম করেছি, সবাই পছন্দ করছে। এটা সমালোচকদের সহ্য হচ্ছে না। সমালোচনার মূল কারণ এটাই।

তিনি বলেন, ‘যখন হাইকোর্টে আমার ভাস্কর্যটা ভাঙল, তখন বললো একটা অপকর্ম চোখের সামনে থেকে চলে গেলো। যখন ঘোড়ার গাড়ি বানালাম, তখন বললো একটা আজব জিনিস বানিয়েছে। এরকম ঘোড়ার গাড়ি কখনই বাংলাদেশে ছিল না। অথচ নবাব সলিমুল্লাহ হাসানুল্লাহর বই খুঁজলে এই ঘোড়ার গাড়ীর ছবি অনেকগুলো দেখা যাবে। সেটা অনুসরণ করে বানিয়েছিলাম। তবে যাই করি না কেন সমালোচকরা সব সময় কথা বলেই আসছে। এ নতুন কিছু নয়।’

মৃণাল আরও বলেন, ‘তবে সাধারণ মানুষ এই মিউজিয়ামের ভাস্কর্য নিয়ে অনেক এক্সাইটেড। আমার শত্রু বেশি এ দেশে, আর্টিস্ট মহলে তো আরো বেশি। তারা জোর করে আমাকে পচানোর চেষ্টা করলে আমার তো কিছু করার নাই। তারা নিজেরা কাজ করবে না, কিন্ত তারা আমি কাজ করলে পিছে লাগবে। এটা তো খারাপ। কেউ কাকে ঠেকিয়ে রাখতে পারে না।

এই শিল্পি আরো বলেন, আমি পকেটের টাকা খরচ করে ঢাকার রাস্তা-ঘাট সাজিয়েছি। ভাস্কর্যকে মানুষের কাছে পরিচিত করেছি। ‘সেলিব্রিটি গ্যালারি’ বানানো সাধারণ মানুষের জন্য।’

প্রসঙ্গত তার সেলিব্রিটি গ্যালারিতে জাদুঘরে শাহরুখ খান, মেসি, বব মারলি, উস্তাদ জাকির হোসেন, কাজী নজ্রুল ইসলাম, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, ক্ষুদিরামের মতো মানুষের ভাস্কর্য। সবগুলো ভাস্কর্যই মৃণাল হকের হাতে তৈরি। তবে সম্প্রতি তার এই ভাস্কর্যগুলো নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়েছে। তার শিল্পকর্মের মান নিয়ে অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন।

সুপ্রিতি ধর নামের একজন লিখেছেন, ‘মৃণাল হকের খুঁটির জোরটা আসলে কোথায়? সেও কী বাংলা একাডেমির পুরস্কার অথবা একুশে পদক পেয়ে যাবে? নাকি পেয়েই গেছে?’

আরিফ হোসেন নামে একজন লিখেছেন, ‘মৃণাল হক শাহরুখ খানের যে প্রতিকৃতি বানিয়েছে সেটা দেখার পর আমাদের ভারতীয় দূতাবাস স্বপ্রনদিত হয়ে উনাকে কিডন্যাপ করে নিয়ে বিএনপির সালাউদ্দিনের মতো আসামের ঘন জঙ্গলে যে এখনও কেন ছেড়ে দেয়নি, এটাই বুঝতে পারছি না। এই আলট্রা মেগা গামা ক্রিয়েটিভ মানুষটা শুধু শাহরুখ খানকে মাও সে তুং এর ছেলেবেলার সাথে গুলিয়ে ফেলেননি, উনি মেসিকে ফরশাগঞ্জ ক্রীড়াচক্রের প্যান্ট পড়িয়ে দিয়েছেন। বব মারলির হাতে বেইজ গিটার ধরিয়ে দিয়েছেন। উস্তাদ জাকির হোসেনের হাতে তবলা রেখে ড্রামস ধরিয়ে দিয়েছেন। কাজী নজরুলকে দেখলে মনে হচ্ছে ওমর সানি। ফাঁসির মঞ্চে দাঁড়ানো ক্ষুদিরামকে দেখলে মনে হচ্ছে উনি চোখটিপ দিচ্ছেন। আর রবি ঠাকুরের তো গলাই বাদ দিয়ে দিয়েছেন, বডির উপর ডাইরেক্ট মাথা। তাও উনি থামছেন না, আজ শুনলাম উনি নাকি এখন বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি বানাতে চলেছেন।’

জেরি জ্যাকব নামের একজন লিখেছেন, ‘জনাব মৃণাল হক, নায়ক মারুফের আদলে শাহরুখ খান, পার্থ বড়ুয়ার আদলে কাজী নজরুল ইসলাম, মেসিকে বানাতে গিয়ে হতাশাগ্রস্ত এলিয়েন এবং রবীন্দ্রনাথকে বানাতে গিয়ে যেন নিজেকে খুঁজে পেয়েছেন। তাকে স্যালুট জানাই।’

মোঃ রামিজ লেখেন, ‘শ্রদ্ধেয় মৃণাল হক স্যারের কাছে অনুরোধ, বাংলাদেশের লিজেন্ড- সোলায়মান সুখন, সালমান মুক্তাদির, জেসিয়া ইসলাম, আয়মান সাদিক, কান হেলাল, ওমর সানী, জায়েদ খান, বাপ্পী চৌধুরী, রহমান মতি এবং অন্য আরো যারা লিজেন্ড আছেন সকলের ভাস্কর্য তিনি যেন তৈরী করেন। বাংলাদেশ যেমন উন্নয়নে এমেরিকাকে ছাড়িয়ে যাচ্ছে, মৃণাল হক যেন তেমনি মাদাম তুসোকে ছাড়িয়ে যেতে পারেন।’