‘কাজী নজরুলকে দেখলে মনে হচ্ছে ওমর সানি’

বিশ্বখ্যাত সব মানুষের প্রতিকৃতির জন্য লন্ডনের মাদাম তুসো জাদুঘরের খ্যাতি বিশ্বজুড়ে। এ জাদুঘরের বিশেষত্ব হচ্ছে, এখানে খ্যাতিমানদের প্রতিকৃতি তৈরি হয় মোম দিয়ে। ইউরোপ আমেরিকার বড় বড় শহরে এমন জাদুঘর তো আছেই, পাশের দেশ ভারতেই একাধিক শহরে এমন জাদুঘর আছে। শুধু লন্ডনেই না, পৃথিবীর আরও বড় অনেক শহরে মাদাম তুসো জাদুঘরের শাখা আছে। কিন্তু নেই ঢাকায়।

এবার ঢাকায় ‘জনপ্রিয়’ ভাস্কর মৃণাল হক তার জাদুকরি ভাস্কর্য-প্রতিভায় শুরু করেছেন ‘সেলিব্রেটি গ্যালারি’। এখানে দেশ বিদেশের ৩২ জন বিখ্যাত ব্যক্তিত্বের প্রতিকৃতি আছে বলে ‘দাবি’ করা হয়, কিন্তু তাদের অনেককেই ঠিক করে চিনতে পারছেন না দর্শনার্থীরা।

২০১৮ সালের ৭ ডিসেম্বর ঢাকার গুলশানে উদ্বোধন করা হয় মাদাম তুসো মিউজিয়ামের অনুকরণে নির্মিত এই গ্যালারি।

জানা যায়, জাদুঘরে শাহরুখ খান, মেসি, বব মারলি, উস্তাদ জাকির হোসেন, কাজী নজ্রুল ইসলাম, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, ক্ষুদিরামের মতো মানুষের ভাস্কর্য। সবগুলো ভাস্কর্যই মৃণাল হকের হাতে তৈরি। তবে সম্প্রতি তার এই ভাস্কর্যগুলো নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়েছে। তার শিল্পকর্মের মান নিয়ে অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন।

সুপ্রিতি ধর নামের একজন লিখেছেন, ‘মৃণাল হকের খুঁটির জোরটা আসলে কোথায়? সেও কী বাংলা একাডেমির পুরস্কার অথবা একুশে পদক পেয়ে যাবে? নাকি পেয়েই গেছে?’

আরিফ হোসেন নামে একজন লিখেছেন, ‘মৃণাল হক শাহরুখ খানের যে প্রতিকৃতি বানিয়েছে সেটা দেখার পর আমাদের ভারতীয় দূতাবাস স্বপ্রনদিত হয়ে উনাকে কিডন্যাপ করে নিয়ে বিএনপির সালাউদ্দিনের মতো আসামের ঘন জঙ্গলে যে এখনও কেন ছেড়ে দেয়নি, এটাই বুঝতে পারছি না। এই আলট্রা মেগা গামা ক্রিয়েটিভ মানুষটা শুধু শাহরুখ খানকে মাও সে তুং এর ছেলেবেলার সাথে গুলিয়ে ফেলেননি, উনি মেসিকে ফরশাগঞ্জ ক্রীড়াচক্রের প্যান্ট পড়িয়ে দিয়েছেন। বব মারলির হাতে বেইজ গিটার ধরিয়ে দিয়েছেন। উস্তাদ জাকির হোসেনের হাতে তবলা রেখে ড্রামস ধরিয়ে দিয়েছেন। কাজী নজরুলকে দেখলে মনে হচ্ছে ওমর সানি। ফাঁসির মঞ্চে দাঁড়ানো ক্ষুদিরামকে দেখলে মনে হচ্ছে উনি চোখটিপ দিচ্ছেন। আর রবি ঠাকুরের তো গলাই বাদ দিয়ে দিয়েছেন, বডির উপর ডাইরেক্ট মাথা। তাও উনি থামছেন না, আজ শুনলাম উনি নাকি এখন বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি বানাতে চলেছেন।’ জেরি জ্যাকব নামের একজন লিখেছেন, ‘জনাব মৃণাল হক, নায়ক মারুফের আদলে শাহরুখ খান, পার্থ বড়ুয়ার আদলে কাজী নজরুল ইসলাম, মেসিকে বানাতে গিয়ে হতাশাগ্রস্ত এলিয়েন এবং রবীন্দ্রনাথকে বানাতে গিয়ে যেন নিজেকে খুঁজে পেয়েছেন। তাকে স্যালুট জানাই।’

মোঃ রামিজ লেখেন, ‘শ্রদ্ধেয় মৃণাল হক স্যারের কাছে অনুরোধ, বাংলাদেশের লিজেন্ড- সোলায়মান সুখন, সালমান মুক্তাদির, জেসিয়া ইসলাম, আয়মান সাদিক, কান হেলাল, ওমর সানী, জায়েদ খান, বাপ্পী চৌধুরী, রহমান মতি এবং অন্য আরো যারা লিজেন্ড আছেন সকলের ভাস্কর্য তিনি যেন তৈরী করেন।
বাংলাদেশ যেমন উন্নয়নে এমেরিকাকে ছাড়িয়ে যাচ্ছে, মৃণাল হক যেন তেমনি মাদাম তুসোকে ছাড়িয়ে যেতে পারেন।’

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সামনে গ্রিক দেবী থেমিসের অনুকরণে ভাস্কর্য স্থাপন করে সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন মৃণাল হক। পরে ইসলামী সংগঠনগুলোর দাবিতে ভাস্কর্য সরিয়ে নিয়েছিলেন তিনি।