এ বছর একুশে বইমেলায় নতুন সংযোজন হিসেবে যা থাকছে

বছর ‍ঘুরে আবার আসছে ভাষার মাস ফেব্রুয়ারি, ঢাকার বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণ আর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে চলছে অমর একুশে গ্রন্থমেলার শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। আয়োজকরা জানাচ্ছেন, বইমেলা এবার পরিসরে বেড়েছে। সেইসঙ্গে বেড়েছে অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা। অমর একুশে বইমেলায় প্রতিবারই আয়োজক প্রতিষ্ঠান বাংলা একাডেমি অন্যবারের নিয়মিত বিভিন্ন দিক ছাড়াও কিছুটা নতুনত্ব দেয়ার চেষ্টা করে। এবারও তার ব্যত্যয় ঘটেনি। বইমেলায় বেশকিছু নতুন সংযোজন নিয়ে আসছে প্রতিষ্ঠানটি।

বৃহস্পতিবার বাংলা একাডেমির আব্দুল করিম সাহিত্য বিশারদ মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন থেকে এমন তথ্য জানানো হয়। এ বছর মেলায় নতুন সংযোজন হিসেবে যা থাকছে:

১. ডিজিটাল পদ্ধতিতে মেলার আবেদনপত্র বিতরণ-গ্রহণ এবং অনলাইনে ভাড়ার অর্থ পরিশোধের ব্যবস্থা করা হয়েছিল।

২. এবার একটি নতুন থিম নির্ধারণ করা হয়েছে। এই থিম ধারণ করে বইমেলার একটি পূর্ণাঙ্গ নকশা করা হয়েছে। স্থপতি এনামুল করিম নির্ঝর এই কাজ করেছেন। শিল্পী সব্যসাচী হাজরা ও মেহেদি হক শিশু চত্বর সাজানোর কাজ করেছেন। শিল্পী লিটন কর ‘লেখক বলছি’ মঞ্চ, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের তথ্যকেন্দ্র ও মোড়ক উন্মোচন মঞ্চের পরিকল্পনা করেছেন। এম এ মারুফ মূলমঞ্চের ডিজাইন করেছেন। পুরো প্রাঙ্গণ সাজানোর ব্যাপারে নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করেছে।

৩. এবার পরিকল্পনা এমনভাবে করা হয়েছে যাতে স্বাধীনতাস্তম্ভ ও স্তম্ভের সামনের জলাধার বইমেলার অংশ হয় এবং এটি ইতোমধ্যে সবার প্রশংসা অর্জন করেছে। মূল থিমের ধারণা তুলে ধরার জন্য মেলার উভয় অংশে পাঁচজন ভাষা শহীদ, বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ, বাংলা একাডেমি ও বইমেলা এবং স্বাধীনতাস্তম্ভ এসব বিষয়ে তথ্যসম্বলিত প্ল্যাকার্ড মেলায় স্থাপিত হয়েছে। ফলে গ্রন্থমেলার মূল থিম যেমন প্রতিফলিত হবে তেমনি নবপ্রজন্মের তরুণ-তরুণীরা মেলায় আরও বেশি করে নিজেদের যুক্ত হতে এবং বায়ান্ন ও একাত্তরের চেনায় ঋদ্ধ হওয়ার সুযোগ পাবে।

৪. মেলার একাডেমি ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যান উভয় অংশের মূল প্রবেশপথে বৃহৎ এলইডি মনিটর থাকবে। মেলার ম্যাপ, দিক-নির্দেশনা ও জরুরি তথ্য প্রদর্শিত হবে। ফলে পাঠক-ক্রেতা মেলার বিন্যাস সম্পর্কে প্রথমেই ধারণা পাবেন।

৫. ‘লেখক বলছি’ নামে নতুন একটি মঞ্চ থাকছে। এই মঞ্চে প্রতিদিন ৫ জন লেখক তাদের বই নিয়ে পাঠকের মুখোমুখি হবেন। প্রত্যেক লেখক ২০ মিনিট করে সময় পাবেন।

৬. শিশু-কিশোরদের মধ্যে যারা লেখালেখি করে সেই ক্ষুদ্র লেখকদের উৎসাহিত করার জন্য এবার বিশেষ ব্যবস্থা থাকবে।

৭. শিশু চত্বর বিশেষভাবে সাজানো হবে। পুরো প্রাঙ্গণ নতুনরূপে সেজে উঠবে। শিশুচত্বরে ‘তারুণ্যের বই’ নামে একটি বিষয় যুক্ত হবে। শিশুপ্রহরের দিনগুলোতে ‘তারুণ্যের বই’ ব্যানারে শিশু-কিশোরদের বইপাঠে উৎসাহিত করা হবে।

৮. নামাজের ঘর ও টয়লেট ব্যবস্থা সম্প্রসারিত ও উন্নত করা হয়েছে। মহিলাদের জন্য সম্প্রসারিত নামাজ ঘর থাকবে। স্থায়ী টয়লেট ছাড়া সিটি কর্পোরেশনের সহায়তায় ভ্রাম্যমাণ টয়লেট স্থাপিত হবে।

৯. শিশু চত্বরে বাংলা একাডেমির ব্যবস্থাপনায় ব্রেস্টফিডিং কর্ণার থাকবে। একই সঙ্গে পুলিশের পক্ষ থেকে পুলিশের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের কাছে আরেকটি ব্র্যাস্টফিডিং কর্ণার থাকবে।

১০. প্রতি বছরের মতো এবারও হুইল-চেয়ার সেবা থাকবে। তবে গতবারের চেয়ে বেশি সংখ্যায় স্বেচ্ছাসেবী এ কাজে নিয়োজিত থাকবেন। এবার হুইল চেয়ারের সংখ্যাও বাড়বে।