টিআইয়ের ধারণা সূচকে বেড়েছে বাংলাদেশের দুর্নীতি

গতকাল মঙ্গলবার জার্মানির বার্লিন ভিত্তিক ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল (টিআই) একটি সূচক প্রকাশ করেছে। আর দুর্নীতির এই ধারণা সূচকে বাংলাদেশের দুর্নীতি বেড়েছে বলে উল্লেখ্য করা হয়েছে। কিন্তু আজ বুধবার (৩০ জানুয়ারি) দুপুরে সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ এই প্রতিবেদনকে ত্রুটিপূর্ণ ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে উল্লেখ করেছেন।

বিশ্বের ১৮০টি দেশের ২০১৮ সালের দুর্নীতির পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে একটি সূচক তৈরি করা হয়েছে। সেখানে বলা হয় দুর্নীতির ধারণা সূচকে বাংলাদেশে দুর্নীতি বেড়েছে। আগের বছরের তুলনায় ২০১৮ সালে অবনতি হয়েছে ছয় ধাপ। টিআইএর প্রতিবেদনের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে আজ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সেখানে তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ‘রাষ্ট্র ও দেশের মানুষকে হেয় প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যে অন্ধ সমালোচনার মাধ্যমে নিজেদের টিকিয়ে রাখার জন্য, বিদেশি ফান্ড পাওয়ার জন্য তারা এই ত্রুটিপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। সরকার এটা প্রত্যাখ্যান করছে। আশা করছি দুদককে তারা ব্যখ্যা দেবে। তা না হলে দুদক তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘পদ্মাসেতু নিয়ে তাদের প্রতিবেদন ভুল প্রমাণিত হওয়ার পরও তারা আজ পর্যন্ত ক্ষমা চায়নি। সদ্য সমাপ্ত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে তারা একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিলো। অথচ তারা পর্যবেক্ষক ছিলো না।’

টিআই- এর সূচক অনুযায়ী, ১০০ নম্বরের মধ্যে বাংলাদেশ গতবার পেয়েছিল ২৮। এক বছরের ব্যবধানে এবার দুই পয়েন্ট কমে স্কোর হয়েছে ২৬। সূচকের স্কেলে শূন্য স্কোর সবচেয়ে বেশি দুর্নীতিগ্রস্ত এবং ১০০ স্কোরকে সবচেয়ে কম দুর্নীতিগ্রস্ত বা সর্বাধিক সুশাসনের দেশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

এবার স্কোর অনুযায়ী, ১৮০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ভালো থেকে খারাপের দিকে ১৪৯তম। গতবার ছিল ১৪৩তম। ফলে বাংলাদেশ ছয় ধাপ পিছিয়েছে। আবার নিচ থেকে ওপরের দিকে অবস্থান ১৩তম। বাংলাদেশের সঙ্গে একই অবস্থানে আছে আফ্রিকার দেশ মধ্য আফ্রিকা প্রজাতন্ত্র ও উগান্ডা। গত বছর বাংলাদেশ ছিল ১৭তম। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ চার ধাপ পিছিয়েছে। শুধু তাই নয়, বাংলাদেশ এবার এশিয়ায় চতুর্থ সর্বনিম্ন এবং দক্ষিণ এশিয়ায় দ্বিতীয় সর্বনিম্ন অবস্থানে রয়েছে। অর্থাৎ এশিয়ায় বাংলাদেশের চেয়ে দুর্নীতি বেশি তিনটি দেশে। আর দক্ষিণ এশিয়ায় দুর্নীতিতে বাংলাদেশের চেয়ে খারাপ অবস্থা একটি দেশে, আফগানিস্তানে।

উল্লেখ্য, এবারের সূচকে ব্যবহৃত তথ্যের মূল প্রতিপাদ্য হচ্ছে-ঘুষ আদান-প্রদান; স্বার্থের সংঘাত ও তহবিল অপসারণ; দুর্নীতিবিরোধী উদ্যোগ ও অর্জনে বাধা প্রদান; ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক দলের স্বার্থে সরকারি পদমর্যাদার অপব্যবহার; প্রশাসন, কর আদায়, বিচার বিভাগসহ সরকারি কাজে বিধি বহির্ভূত অর্থ আদায়; অনিয়ম প্রতিরোধে ও দুর্নীতিবাজদের বিচার করতে সরকারের সামর্থ্য, সাফল্য ও ব্যর্থতা।