এক টিকেটে বাস, ট্রেন ও লঞ্চ সব ধরনের পরিবহন সেবার নির্দেশ

মঙ্গলবার (২৯ জানুয়ারি) জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় এক টিকেটে যাত্রীরা যাতে সব ধরনের পরিবহনে চলাচল করতে পারে সে জন্য একটি সমন্বিত যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। একই সঙ্গে দেশের সব মিটারগেজ রেলপথকে ব্রডগেজে উন্নীত করার কথাও জানিয়েছেন তিনি। সভায় ‘৭০টি মিটারগেজ ডিজেল ইলেক্ট্রিক লোকোমোটিভ সংগ্রহ প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়।

এছাড়া রাজধানীর শেরেবাংলানগরে এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এই সভায় মোট ১৬ হাজার ৪৩৩ কোটি টাকা ব্যয়সাপেক্ষ ৯টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়। সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর এসব নির্দেশনার কথা জানান পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান।

এব্যাপারে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, দেশের রেল, সড়ক ও নৌপরিবহনের জন্য একটি সমন্বিত যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। উদ্দেশ্য, জনসাধারণ যেন এক টিকিটে সব পরিবহনে যাতায়াত করতে পারে।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ রেলওয়ের আওতায় সব মিটারগেজ রেলপথকে পর্যায়ক্রমে ব্রডগেজে রূপান্তর করতে হবে। ব্রডগেজে রূপ দিতে পরিকল্পনা গ্রহণে রেলপথ মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেন তিনি। রেলের যন্ত্রাংশ তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় জনবল এবং অবকাঠামো তৈরিরও নির্দেশ দেওয়া হয় সভায়।

এছাড়া ইন্টারনেটের গতি বাড়িয়ে বিটিসিএলকে আরো শক্তিশালী করার তাগিদ দেন প্রধানমন্ত্রী।

একই সঙ্গে হাওর অঞ্চলের উন্নয়নে প্রকল্প হাতে নেওয়ার কথা বলেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, সব আবাসন ও শিল্প কারখানায় বর্জ্য ব্যবস্থাপনা থাকতে হবে।

পরিকল্পনামন্ত্রী আরো জানান, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন যে তিন ফসলি জমি ও চর যাতে নষ্ট না করা হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। ভূমি ব্যবহারে সবাইকে সর্বোচ্চ সাশ্রয়ী হতে হবে। স্থাপনা নির্মাণ করতে কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিতে হবে। এ জন্য একটি জাতীয় নীতিমালা তৈরি করতে ভূমি মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

গতকাল সোমবার সভায় অনুমোদন পাওয়া প্রকল্পগুলোর অন্যতম একটি হলো পল্লী বিদ্যুতায়ন সম্প্রসারণের মাধ্যমে সাড়ে ১৯ লাখ গ্রাহককে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া। ২০২১ সালের মধ্যে ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি রয়েছে সরকারের। এ লক্ষ্যে চলমান একটি প্রকল্পের আওতায় অতিরিক্ত আরো সাড়ে চার লাখ ঘরে বিদ্যুৎ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ফলে প্রকল্পের মেয়াদ ২০২০ সালের জুন মাস পর্যন্ত আরো এক বছর বাড়ানো হয় গতকালের সভায়। এ জন্য প্রকল্পের ব্যয় বাড়ছে এক হাজার ৭৭৫ কোটি টাকা বলে জানান পরিকল্পনামন্ত্রী।

পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, একনেকে অনুমোদন পাওয়া ৯টি প্রকল্পে মোট ব্যয়ের মধ্যে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে ১৩ হাজার ৬২০ কোটি টাকা, সংস্থাগুলোর তহবিল থেকে ২৮৬ কোটি টাকা এবং প্রকল্প সহায়তা হিসেবে দুই হাজার ৫২৭ কোটি টাকা জোগান দেওয়া হবে।