স্বাধীন হয়েও রাজাকার পরিবারের হাতে জিম্মি সাধারণ মানুষ!

দেশ স্বাধীন হলেও এখনও ৭১’এর পরাজিত শক্তি ও গোষ্ঠী দ্বারা অত্যাচারিত হচ্ছে প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষ, এমনটাই বলেছেন কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার কুটিপয়ড়াডাঙ্গা এলাকার গ্রামবাসী। এমনি কুখ্যাত রাজাকার মৃত. শাহজাহান আলীর ব্যাপারী ছেলে মো: হাফিজুর রহমান (বাবু) গংদের বিরুদ্ধে অত্যাচারিত এলাকার গ্রামবাসী উপজেলা নির্বাহী অফিসার, পুলিশ সুপার, জেলা প্রশাসক, মানবাধিকার ইউনিটি, বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়সহ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বরাবর তাদের উপর বিভিন্নভাবে নির্যাতন, মিথ্যা মামলা, প্রাণনাশের হুমকি, চাঁদা দাবিসহ বিভিন্ন ধরনের অপকর্ম তুলে ধরে অভিযোগ ও স্মারক লিপি প্রদান করেন।

ইতোমধ্যে, প্রশাসন ও গণমাধ্যমের পক্ষ থেকে হাফিজুর রহমান বাবুর বিরুদ্ধে তদন্ত করতে গেলে গ্রামবাসী কিছুটা আশ্বস্ত হয় যে; এবার তারা সুবিচার পাবে। কিন্তু হাফিজুর রহমান বাবু ও তার ভগ্নিপতি আবুল হাশেম (অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ) সহ তাদের পরিবারের লোকজন হুমকি প্রদান করেন যে, গ্রামবাসী যারা যারা অভিযোগ করেছেন তাদেরকে বিভিন্নভাবে হামলা-মামলা, আর্থিক ক্ষতিসহ জানে মেরে ফেলা হবে। সেই সাথে উচ্চস্বরে এখনও বলে বেড়ায় যে, প্রশাসন আমাদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে কিছু করতে পারবে না, তোরা অভিযোগ করেছিস এবার তোদেরকে কে বাঁচাবে? আমি দেখে নিব তোরা কিভাবে গ্রামে শান্তিতে গ্রামে বসবাস করিস। আমার বাপ মুক্তিযুদ্ধের সময় থেকে এই গ্রাম শাসন করছে আমরাও শাসন করব। আরও বলে যে আমার বাপকে সবাই রাজাকার বলে কিন্তু রাজাকার বলেও কিছু করতে পারে নাই, কারণ প্রশাসন আমাদের হাতে জিম্মি।

এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উক্ত হাফিজুর রহমান বাবু গ্রামবাসীকে শায়েস্তা করার উদ্দেশ্যে গ্রামের ৩০-৩৫ জন লোকের বিরুদ্ধে ৩/৪টি কোর্ট পিটিশন মামলা দায়ের করে অত্র গ্রামবাসীকে মিথ্যাভাবে হয়রানির শিকার করেছে। কোর্ট পিটিশনের মামলা গুলো দেখে এটাই প্রতীয়মান হয় যে, প্রত্যেকটি মামলার স্বাক্ষী তার ভগ্নিপতি আবুল হাশেম (পুলিশ), মোঃ আব্দুল লতিফ মিয়া, শফিকুল ইসলাম সরু, আব্দুল হাকিম, সাজু সহ একই ব্যক্তিই যারা সবাই তার আত্মীয়-স্বজন।

সরেজমিনে গেলে ভূক্তভোগী গ্রামবাসী শহিদুল ইসলাম বাচ্চু, নুর মোহাম্মদ, মালেক, মোস্তফাসহ আরও অনেকে অভিযোগ করে বলেন, আমরা হাফিজুর রহমান বাবুর কারণে বিভিন্ন হয়রানীসহ অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছি। তারা আরও বলেন, আমাদেরকে প্রতিনিয়ত থানা-পুলিশ ও কোর্টে যাতায়াত করতে হচ্ছে। ফলে আমরা নিরীহ গ্রামাবাসী নি:স্ব হয়ে যাচ্ছি। ক্ষোভ প্রকাশ করে তারা বলেন, আমাদের গ্রামে অনেকবার পুলিশ তদন্ত করে গেলেও হাফিজুর রহমান বাবুর অত্যাচারের মাত্রা দিন দিন বেড়েই চলছে। আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তায় উক্ত অত্যাচারী হাফিজুর রহমান বাবুর শাস্তি কামনাসহ সুবিচার দাবি করছি।

হাফিজুর রহমান বাবু ও তার পরিবারের লোকজনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে একাধিক পত্র-পত্রিকায় তার অপকর্মের চিত্র প্রকাশিত হয় এবং স্থানীয় প্রশাসন সে বিষয়ে অবগত আছেন।

জানতে চাইলে নাগেশ্বরী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করে বলেন, উক্ত বিষয়টি উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে তদন্ত চলছে।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার শংকর কুমার বিশ্বাস আমাদের প্রতিনিধিকে বলেন, বিষয়টি নিয়ে আমরা একাধিক অভিযোগ পেয়েছি এবং তদন্ত চলছে।

মোঃ মনিরুজ্জামান, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি