কুমিল্লায় ১৩ ঘুমন্ত শ্রমিক নিহতের ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন

কুমিল্লায় শুক্রবার ভোরে জেলার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার গোলপাশা ইউনিয়নের নারায়ণপুর এলাকায় কয়লার ট্রাক উল্টে ১৩ ঘুমন্ত শ্রমিক নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ৫ জন। ইউনিয়নের কাজী অ্যান্ড কোং নামক ইট ভাটার পাশে এ ঘটনা ঘটে। কুমিল্লায় ট্রাক উল্টে ১৩ শ্রমিক নিহতের ঘটনা তদন্তে চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা প্রশাসন। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) কাইজার মোহাম্মদ ফারাবীকে আহ্বায়ক করে শুক্রবার এ কমিটি গঠন করা হয়েছে।

দুর্ঘটনার খবর পেয়ে কুমিল্লা জেলা প্রশাসক আবুল ফজল মীর ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে এ ঘোষণা দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করে তিনি জানান, আগামী ৭ কার্যদিবসের মধ্যে কমিটিকে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন- চৌদ্দগ্রাম উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) দীপন দেবনাথ, চৌদ্দগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল্লাহ আল-মাহফুজ এবং কুমিল্লা ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের সহকারী পরিচালক রতন কুমার নাথ।

জেলা প্রশাসক ছাড়াও ঘটনাস্থল পরিদর্শনে আসেন পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি ফয়েজ আহমেদ, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুস সোবহান ভূঁইয়া হাসান, কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবদুল্লাহ আল মামুন, পৌর মেয়র মিজানুর রহমান ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শেখ শহিদুল ইসলাম প্রমুখ।

নিহতরা হলেন- মো. সেলিম (২৮), কনক চন্দ্র রায় (৩৫), মোরসালিন (১৮), রনজিত চন্দ্র রায় (৩০), বিকাশ চন্দ্র রায় (২৮), মৃনাল চন্দ্র রায় (২১), অমৃত চন্দ্র রায় (২০), দীপ চন্দ্র রায় (১৯), শঙ্কর চন্দ্র রায় (২২), মনোরঞ্জন চন্দ্র রায় (১৯), বিপ্লব (১৯), অরুন চন্দ্র রায় (২৫) ও মাসুম (১৮)। এরা সবাই নীলফামারী জেলার বাসিন্দা।

এর আগে শুক্রবার ভোরে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে কয়লাবোঝাই ট্রাক উল্টে ঘুমন্ত অবস্থায় ১৩ শ্রমিক নিহত হন। আহত হন আরও পাঁচজন। উপজেলার গোলপাশা ইউনিয়নের নারায়ণপুর এলাকায় কাজী অ্যান্ড কোং নামক ইট ভাটার পাশে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত ১৩ শ্রমিকের সবার বাড়ি নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলায়।

এ ঘটনায় জুমার নামাজের পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন চট্টগ্রাম রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি (অপারেশন অ্যান্ড ক্রাইম) মোহাম্মদ আবুল ফয়েজ।