‘সাম্প্রতিক আন্দোলনে বিএনপির কার্মকাণ্ড এলোমেলো, লেজেগোবরে’

বৃহস্পতিবার (২৪ জানুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর একটি হোটেলে ‘এলেঙ্গা-হাটিকমরুল-রংপুর মহাসড়ক চারলেনে উন্নীতকরণ’ প্রকল্পের চুক্তি স্বাক্ষর শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও সাম্প্রতিক আন্দোলনে বিএনপির কার্মকাণ্ড এলোমেলো, লেজেগোবরে।

এক সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, ‘বিএনপি আজ সকালে অভিযোগ করেছে- সরকার নিরন্তরভাবে (বিএনপিকে) ভাঙার চক্রান্ত করেই যাচ্ছে। এর আগেও যেরকম সফল হয়নি, এবারও হবে না।’

এমন অভিযোগের বিষয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘দেখুন, বিএনপির যা পারফরমেন্স আন্দোলনে, নির্বাচনে; তাতে সরকারের এমন কী প্রয়োজন আছে? বিএনপির এখন যে নড়বড়ে, এলোমেলো অবস্থা, এরকম একটা দলকে ভেঙে দিতে হবে…। আমরা তো একটা স্ট্রং অপজিশন (শক্তিশালী বিরোধী দল) চাই। তারা সংসদে আসুক এটাও আমরা চাই। যে কজনই আছে, যে নম্বর সংসদ সদস্য তারা নির্বাচিত হয়েছে। আমরা তো তাদের স্বাগত জানিয়েছি সংসদে আসতে। বিএনপিকে অবশ্যই আমরা দুর্বল দল ভাবি না। কিন্তু তারা তাদের কর্মকাণ্ডে দলটিকে এলোমেলো, লেজেগোবরে করেছে।’

বিএনপি তাদের অভ্যন্তরীণ কোন্দলেই জন্যই ভাঙবে বলে মনে করেন ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, ‘এই অবস্থায় বিএনপি যদি ভাঙনের মুখে যায়, তাহলে বিএনপির ঘরোয়া কলহ-কোন্দলের জন্যই বিএনপি ভাঙবে। আমাদের কোনো প্রয়োজন নেই বিএনপিকে ভেঙে ফেলার।’

বিএনপির মধ্যে ভাঙন শুরুই ইঙ্গিত দিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘ইতোমধ্যে তাদের নেতারা ভিন্ন ভিন্ন সুরে কথা বলছে। তাদের নিজেদের মধ্যেই ভাঙনের সুর। যাদের নিজের ঘরেই শত্রু, তাদের সঙ্গে শত্রুতা করার জন্য বাইরের শত্রুর কোনো প্রয়োজন আছে বলে কেউ মনে করে না।’

ঐক্যফ্রন্ট থাকবে না বলেও মনে করেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, ‘ঐক্যফ্রন্ট একটা জগাখুচড়ি। এই জগাখিচুড়ি ঐক্য থাকবে না, এটা সবাই জানে।’

আরেক প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘নিত্যদিন যদি তাদের অফিসে লক্ষ্য করেন তাহলে দেখবেন, একে অপরে হাতাহাতি, একে অন্যকে সরকারের দালাল বলা- এসব তাদের নিত্যদিনের চিত্র। তারা নিজেরা কলহ-কোন্দলে জর্জরিত। এই অবস্থায় তাদের নিজেদের সঙ্গে শত্রুতা করার জন্য তারা নিজেরাই যথেষ্ট।’

জাতীয় পার্টির সিদ্ধান্ত ইতোমধ্যে হয়েছে, জাতীয় সংসদে তারা বিরোধী দলের ভূমিকায় অবতীর্ণ হবেন বলেও জানান ওবায়দুল কাদের।

ক্ষমতাসীদের দলের এই নেতা বলেন, ‘বিএনপি না আসলে ইতোমধ্যে তো জাতীয় পার্টি অপজিশনের ভূমিকায় চলে গেছে। ১৪ দলের যারা সংসদে আছেন, তারাও সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, স্ট্রং অপজিশনের ভূমিকায় তারা থাকবেন। কাজেই বিরোধী দল থাকবেই। তারপরও যদি বিএনপি আসে তাহলে আরও কণ্ঠ যোগ হবে। অপজিশনের কণ্ঠ সোচ্চার হবে। সেটা গণতন্ত্রের স্বাস্থ্যের জন্য ভালোতো।’

মহাজোট ও ১৪ দল, দুটোরই নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ। নৌকা প্রতীকে ভোট করেছে তারা। তাহলে তারা কীভাবে বিরোধী দলে যায়? এমন প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘দল তো ভিন্ন। একটা প্রতীক নিয়ে তারা নির্বাচন করেছে। কিন্তু তারা যদি এখন মনে করে, তারা অপজিশনের রোল প্লে করবে, এটা তাদের অপশন। দে ক্যান ডু ইট (এটা তারা করতে পারে)।’

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে বিএনপি যদি না আসে তাহেল প্রতিদ্বন্দ্বিতাহীন নির্বাচন হতে যাচ্ছে কি না? এক সাংবাদিকের এমন প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘অনেক প্রতিদ্বন্দ্বী থাকবে। বিএনপির জন্য নির্বাচনও থেমে থাকবে না, প্রতিদ্বন্দ্বিতার লোকও থাকবে। প্রতিদ্বন্দ্বিতাহীন নির্বাচন হবে না। অন্যান্য দল আছে না? শুধু কি বিএনপিই একমাত্র অপজিশন? আরও দল আছে।’