কর ফাঁকি বন্ধ করতে মোবাইলের আইএমইআই ডাটাবেস চালু

মোবাইল হ্যান্ডসেট চুরি প্রতিরোধে চালু হতে যাচ্ছে ইন্টারন্যাশনাল মোবাইল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি (আইএমইআই) নম্বর শনাক্তকরণ ব্যবস্থা। এ জন্য প্রত্যেক গ্রাহকের হ্যান্ডসেটের আইএমইআই নম্বর নিবন্ধনের বিষয়ে সেলফোন অপারেটরদের প্রতি নির্দেশনা জারি করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। গত সোমবার টেলিকম রেগুলেটর বলেছে, কর ফাঁকি বন্ধ করার জন্য আইএমইআই নম্বর ডাটাবেস চালু করেছে।

বর্তমানে বাংলাদেশে ব্যবহৃত ১০ কোটি মোবাইল হ্যান্ডসেটগুলির প্রায় ৩০ শতাংশ অবৈধভাবে আমদানি করা হচ্ছে। বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন রেগুলেটরি কমিশন (বিটিআরসি) এ বাংলাদেশ মোবাইল ফোন ইমপোর্টার অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমপিআইএ) সহায়তায় প্রতিষ্ঠিত ইন্টারন্যাশনাল মোবাইল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি (আইএমইআই) সংখ্যা ডাটাবেস উদ্বোধন করেন টেলিকম মন্ত্রী মুস্তাফা জব্বার। ফলে নকল হ্যান্ডসেটের বিক্রিও বন্ধ হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

তিনি বলেন, দেশে অনেক ডিজিটাল অপরাধ চলছে এবং এই ডাটাবেস আমাদের নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করবে।

২০১৮ সালে প্রায় ৩.৩৫ কোটি হ্যান্ডসেট আইনীভাবে আমদানি করা হয় এবং অবৈধ আমদানির সাথে বিভিন্ন সংস্থার মাধ্যমে ১ কোটি টাকা আমদানি করা হয়।

বিটিআরসি এর স্পেকট্রাম ম্যানেজমেন্ট বিভাগের মহাপরিচালক মোঃ নাসিম পারভেজ বলেন, অবৈধ আমদানির কারণে ১০০০ কোটি টাকা থেকে ১,২০০ কোটি টাকা কর ফাকি দেয়া হয়েছে। বিটিআরসি ডাটাবেস উন্নত করেছে যাতে গ্রাহকরা সহজেই একটি এসএমএস পাঠিয়ে একটি আমদানি করা হ্যান্ডসেটের বৈধতা যাচাই করতে পারেন।

প্রতিটি হ্যান্ডসেটে ১৫ সংখ্যার একটি নম্বর থাকে, যা আইএমইআই নামে পরিচিত। হ্যান্ডসেটে *#০৬# পরপর চাপলে আইএমইআই নম্বর জানা যায়।

এক হ্যান্ডসেটের আইএমইআই নম্বর অন্য হ্যান্ডসেটের আইএমইআই নম্বর থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। বর্তমানে আইএমইআই নম্বর নিবন্ধিত না হওয়ায় চুরি হলে হ্যান্ডসেট উদ্ধারে অনেক ক্ষেত্রে ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব হয় না। তা ছাড়া সেলফোনের মাধ্যমে সংঘটিত বিভিন্ন ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড শনাক্তকরণ ও হ্যান্ডসেট চুরি বা ছিনতাই রোধে ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (এনইআইআর) ব্যবস্থা চালু করতে যাচ্ছে বিটিআরসি। এনইআইআর বাস্তবায়ন করা হলে প্রতিটি গ্রাহকের ফোন কলের সঙ্গে তার ফোন নম্বর, হ্যান্ডসেটের মডেল নম্বর ও আইএমইআই নম্বরও অপারেটরের সার্ভারে যাবে।

ফলে সিম কার্ড বদলে ফেলা হলেও হ্যান্ডসেটের তথ্যের মাধ্যমে চুরি হওয়া হ্যান্ডসেট উদ্ধার বা অপরাধীকে শনাক্ত করা সম্ভব হবে। এ ছাড়া এনইআইআরকে সিইআইআর (সেন্ট্রাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার) ও টিআইএর (টেলিকমিউনিকেশন ইন্ডাস্ট্রি অ্যাসোসিয়েশন) সঙ্গে যুক্ত করা হবে। ফলে আন্তর্জাতিকভাবে হ্যান্ডসেট শনাক্তকরণের সুবিধা পাওয়া যাবে। গত ২০ মার্চ এ-সংক্রান্ত খসড়া নির্দেশনা প্রকাশ করে নিয়ন্ত্রণ সংস্থাটি। বর্তমানে এসব মতামত যাচাই করে দেখা হচ্ছে। এ প্রক্রিয়াশেষে চূড়ান্ত নির্দেশনা জারি করবে বিটিআরসি।

নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রতিটি সেলফোন অপারেটরকেই এনইআইআর স্থাপন করতে হবে। পাশাপাশি দেশের সব হ্যান্ডসেটের আইএমইআই নম্বর দিয়ে ডাটাবেজ তৈরির নির্দেশনা দিতে যাচ্ছে বিটিআরসি। এর মাধ্যমে হ্যান্ডসেট চুরি ও নকল হ্যান্ডসেট প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছে বিটিআরসি। এটি স্থাপন করা হলে আইএমইআই নম্বরবিহীন হ্যান্ডসেটের মাধ্যমে ফোন করা হলে তা বন্ধ করে দেয়া যাবে। আর নিবন্ধিত আইএমইআই নম্বরযুক্ত হ্যান্ডসেট চুরি হলে তা সহজেই উদ্ধার করা সম্ভব হবে।

বিটিআরসি-তে স্পেকট্রাম ম্যানেজমেন্টের কমিশনার মোঃ আমিনুল হাসান বলেন, বর্তমানে ডেটাবেস ব্যবহার করে শুধুমাত্র ব্যবহারকারীদের হ্যান্ডসেট বন্ধ করতে নয় বরং এটি গ্রাহকদেরকে অবৈধভাবে আমদানি করা হ্যান্ডসেট কিনছে কিনা তা নির্ধারণ করতে সহায়তা করবে।

বিএমপিআইএর সভাপতি রুহুল আলম আল মাহবুব বলেন, এই প্রক্রিয়া হল আমদানির হ্যান্ডসেট থেকে ট্যাক্স সংগ্রহ নিশ্চিত করা, সরকারের রাজস্ব বৃদ্ধিতে সহায়তা করবে।

ফেয়ার গ্রুপের চেয়ারম্যান মাহবুব এবং স্যামসাং ব্র্যান্ডের আমদানিকারক ডঃ মাহবুব বলেন, ডাটাবেসটি ব্যবহারযোগ্য হ্যান্ডসেটের ধরন এবং ৪ জি এবং ৩ জি-সক্ষম এবং মৌলিক ফোনগুলির মধ্যে কতগুলি তথ্য জানতে পারবে।

অপরদিকে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) কলপ্রতি ১০ সেকেন্ড পালস চালু করার জন্য রাষ্ট্রায়ত্ত সেলফোন অপারেটর টেলিটক ছাড়া বাকি পাঁচ অপারেটরকে নির্দেশনা বাস্তবায়ন করতে বলা হলেও এ নির্দেশ এখনো বাস্তবায়ন করেনি পাঁচ অপারেটর। এ প্রসঙ্গে বিটিআরসি চেয়ারম্যান বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এ ব্যবস্থা কার্যকর না করায় লাইসেন্সিং নীতিমালার শর্ত ও টেলিযোগাযোগ আইনের লঙ্ঘন করেছে অপারেটররা। কেন এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা হয়নি তার জবাব দিতে বলা হয়েছে তাদের। সন্তোষজনক জবাব দিতে না পারলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

বিটিআরসির এ নির্দেশনা কার্যকর হলে প্রতি ১০ সেকেন্ডের জন্য বিল দিতে হবে গ্রাহকদের। বর্তমানে প্রতি মিনিট হিসাবে বিল দিতে হচ্ছে গ্রাহকদের।