শাহনাজের দুই মেয়ের এক বছরের বৃত্তির দায়িত্ব নিয়েছে উবার

আলোচিত সেই উবার চালক শাহনাজ আক্তার পুতুলের মেয়েদের এক বছরের বৃত্তির দায়িত্ব নিয়েছে উবার। মঙ্গলবার উবারের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। মূলত রাইড শেয়ারিং উবারের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করে দুই সন্তানের পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছে শাহনাজ।

উবার কর্মকর্তারা বলেছেন, শাহনাজের ঘটনাটি তাদের হৃদয় ছুঁয়ে গেছে। শাহনাজের যে সাহসিকতা দেখিয়েছেন তাতে তারা মুগ্ধ। শাহনাজ তার দুই মেয়েসহ নিজ পরিবারের দেখাশোনা করেন। দুই মেয়েকে স্বাধীন ও স্বাবলম্বী করে বড় করে তোলার স্বপ্ন দেখেন শাহনাজ।

উবার এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, ‘জেনারেশন নেক্সট’ শুরু হতে যাচ্ছে শাহনাজ আক্তারকে দিয়ে, তার দুই মেয়ের জন্য অন্তত এক বছরের বৃত্তির ব্যবস্থা করা হয়েছে। উবার সবসময়ই ড্রাইভার-পার্টনারদের আরও উন্নত জীবন দেয়ার জন্য সচেষ্ট। উবারের চালকরা যেন তাদের পরিবারের জন্য আরও নিশ্চিত ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে পারেন, এই লক্ষ্যে জেনারেশন নেক্সট উদ্যোগটি গ্রহণ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা দেয়ার পাশাপাশি নির্বাচিত চালক ও পার্টনারদের পরিবারের জন্য স্কুল বৃত্তির ব্যবস্থা করবে উবার।

এ ব্যাপারে শাহনাজ সাংবাদিকদের বলেন, কয়েকদিন আগে উবার আমার দুই মেয়ের আগামী এক বছরের পড়াশোনার দায়িত্ব নেবে। উবার কর্তৃপক্ষ মিরপুর বাংলা উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয় ও আরবান প্রিপারেটরি স্কুলের সঙ্গে কথা বলে বৃত্তির ব্যবস্থা করে ফেলেছে। আমার খুব ভালো লাগছে যে উবার আমার উপার্জনের মাধ্যম হবার পাশাপাশি সহযোগিতার হাত বাড়াল।

উল্লেখ্য, পার্ট-টাইম কাজ পাইয়ে দেবার ফাঁদে ফেলে শাহনাজের বাইক ছিনতাই করে জনি নামে এক যুবক।

গত ১০ জানুয়ারি মিরপুরের শ্যামলী এলাকায় জনির সঙ্গে শাহনাজের পরিচয় হয়। এ সময় জনি নিজেকে পাঠাও চালক বলে পরিচয় দেয়। সে শাহনাজকে একটি স্থায়ী চাকরির ব্যবস্থা করে দিতে পারবে বলে জানায়। তার কথায় আশ্বস্ত হলে সে ১৫ জানুয়ারি দুপুর ১২টার সময় শাহনাজকে খামারবাড়ি এলাকায় আসতে বলেন। তার কথামতো স্কুটি নিয়ে যথাসময়ে সেখানে এলে হঠাৎ সে শাহনাজের স্কুটিতে উঠে বসে। এরপর তার অনুরোধে বিমানবন্দর এলাকাসহ রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে ঘোরাঘুরি করে ফের মানিক মিয়া এভিনিউয়ের রাজধানী উচ্চবিদ্যালয়ের সামনে আসে তারা। এরপর একটি টং দোকানে জনির সঙ্গে চা খান শাহনাজ। এ সময় জনি স্কুটি চালানোর ইচ্ছা প্রকাশ করলে শাহনাজ তাকে অনুমতি দেন। এরপর চালানোর নামে কৌশলে জনি স্কুটিটি ছিনতাই করে পালিয়ে যায়। তবে পুলিশের দ্রুত তৎপরতায় বাইকটি ফিরে পান তিনি।