‘ওবায়দুল কাদেরের পদত্যাগ না করলে মৃত মানুষের আত্মা শান্তি পাবে না’

মঙ্গলবার দুপুর সোয়া ১২টার দিকে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে ওবায়দুল কাদেরের পদত্যাগ দাবি করে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ বলেছেন, ওবায়দুল কাদের সর্বকালের ব্যর্থ একজন সড়কমন্ত্রী। দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ তিনি।

রিজভি আরও বলেন, যেহেতু মন্ত্রণালয় চালাতে তিনি ব্যর্থ, তার নেতৃত্বের কারণে সড়কে শুধু লাশের ছবি, সেহেতু এই মুহূর্তে পদত্যাগ করে তাকে তার পদ থেকে সরে দাঁড়ানো উচিত। নইলে সড়কে মৃত মানুষের আত্মা শান্তি পাবে না।

ওবায়দুল কাদেরের সমালোচনা করে রিজভী আহমেদ বলেন, ‘প্রতিদিন দেখছি আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সাহেব সারাদেশে দৌড়াদৌড়ি করছেন। ওবায়দুল কাদের সাহেবের দৌড়াদৌড়ি কেবল ফটোসেশনে সীমাবদ্ধ, প্রতিদিন সড়কে লাশের সারি দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হচ্ছে। পত্রিকার পাতা খুললেই দেখা যায় সড়কে মৃত্যুর মিছিল। স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষের প্রাণ অকালে ঝরে পড়ছে। সড়ক দুর্ঘটনায় প্রতিদিন গড়ে নিহত হচ্ছে প্রায় ২০ জন মানুষ। দুঃশাসনের কবলে পড়ে নিয়ন্ত্রনহীন হয়ে পড়ছে সড়ক ব্যবস্থা।’

নিরাপদ সড়ক দাবিতে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সময় সরকার লোক দেখানো কিছু পদক্ষেপ প্রহসনে পরিণত হয়েছে বলে মন্তব্য করেন বিএনপির এই নেতা। তিনি বলেন, ‘রাজধানীতে একদিকে তীব্র ট্রাফিক জ্যাম অন্যদিকে পরিবহন নৈরাজ্যে অতিষ্ঠ মানুষ। সড়ক ও পরিবহনমন্ত্রী প্রতিদিন বিরোধীদলকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ করে থাকেন। তিনি গণপরিবহনে নৈরাজ্য ও অকালে হাজার হাজার প্রাণ ঝরে যাওয়া রোধ করতে ব্যর্থতার জবাব দেবেন কি?’

ভোট জালিয়াতি ধামাচাপা দিতে প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন পদ্ধতি অবলম্বন করছেন- এমন দাবি করে রিজভী আহমেদ বলেন, ‘মানুষের ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়ে, রাতের আধারে ভোট দিয়ে বিচার বিভাগ ধ্বংস করে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বেআইনি কাজে ব্যবহার করে, বিরোধী দলকে নির্মূল করে, গণমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণ করে, বাংলাদেশ ব্যাংকসহ আর্থিক প্রতিষ্ঠান হরিলুট করে এবং দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে অন্যায়ভাবে কারাগারে আটক রেখে শেখ হাসিনা সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে চান।’

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাতের আধারে ভোট ডাকাতির মাধ্যমে জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নিয়ে তিনি (প্রধানমন্ত্রী) গণতন্ত্রের সমাধিসৌধের ওপর কোন সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে চান, জানতে চান সাবেক এই ছাত্রনেতা।

রিজভী আহমেদের ভাষ্য, শেখ হাসিনার মুখে সুশাসন এর অর্থ হলো দেশব্যাপী মৃত্যুর দোলাচলে এক ধরনের অভিযান, গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যার মাত্রা বৃদ্ধি পাওয়া, বিরোধীদলীয় নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে অসংখ্য মিথ্যা মামলা দিয়ে কারাগারে ভরে রাখা। কারণ তিনি নাটকীয় ভঙ্গিতে যা বলেন তার উল্টোটাই বাস্তবায়ন করেন।

তিনি বলেন, ‘পৃথিবীতে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করার রেকর্ড একমাত্র শেখ হাসিনার। শেখ হাসিনা সাড়ম্বরে এখন ভালো উদ্যোগের কথা বলে মানুষের মন থেকে তার অপকৃতি মুছতে পারবেন না। সময় থাকতে ভোটাধিকার ফিরিয়ে দিতে হবে। নইলে সরকারের বিপজ্জনক অবতরণ হবে।’

প্রধানমন্ত্রীকে দ্রুত পদত্যাগ করে দেশে নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা ফিরিয়ে দেয়ার দাবি জানান তিনি।