মায়েদের স্নেহ গায়ে জড়িয়ে রাজশাহী কিংসের ‘অবিস্মরণীয়’ এক জয়

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) চলতি আসরের সিলেট পর্বের তৃতীয় ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছে ঢাকা ডায়নামাইটস ও রাজশাহী কিংস। ঢাকা পর্বের প্রথম অংশে ঢাকা ডায়নামাইটসকে হারানোর মতো দল পাওয়া যায়নি একটিও। চারটি ম্যাচ খেলে সবগুলোতেই সহজ জয় পেয়েছিল শক্তিশালী ঢাকা। অবশেষে সিলেটে গিয়ে তাদের হারিয়ে দিলো মেহেদি হাসান মিরাজের রাজশাহী কিংস। আর আশ্চর্যজনক ভাবে মখে উড়ে এসেছে মায়েদের জন্য মিরাজদের ‘অবিস্মরণীয়’ এক জয়। 

এবারের বিপিএলে মাঠের ভেতরের পারফরম্যান্সের সঙ্গে বাইরের নানা পারফরম্যান্স দিয়েও ভক্ত-সমর্থকদের মাতিয়ে রাখতে চায় রাজশাহী কিংস। তবে, সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে আজ ঢাকা ডায়নামাইটসের বিপক্ষে মাঠে নামার সময় তারা যে অভিনব কাণ্ড ঘটাল, তা সত্যিই অতুলনীয়, অবিস্মরণীয়।

কর্মব্যাস্ত জীবনে মা’দের সময় দেয়া হয় খুবই কম। অথচ, প্রতিটি মানুষেরই জীবনটা ঘিরে থাকে মায়ের আদর-ভালোবাসা আর স্নেহে। অথচ, ক’জনের ভাগ্য হয়, সেই স্নেহের পরশ প্রতিদিন গায়ে মাখার! ক্রিকেটারদের জন্য বিষয়টা যেন আরও কঠিন। বিদেশ-বিভূঁইয়ে খেলতে যেতে হয়। মায়েদের কাছ থেকে থাকতে হয় অনেক দুরে।

এ কারণে, রাজশাহী কিংস অভিনব এক কৌশল অবলম্বন করলো। ঢাকা ডায়নামাটইটসের বিরুদ্ধে মাঠে নামার সময় দলটির ক্রিকেটাররা পরিধান করলো মায়েদের নামাঙ্কিত জার্সি। রাজশাহীর অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজের মায়ের নাম ‘মিনারা’। ম্যাচ সেরা ক্রিকেটার আরাফাত সানির মায়ের নাম, ‘নার্গিস’।

মায়েদের স্নেহ গায়ে জড়িয়ে দারুণ উজ্জীবিত রাজশাহী কিংস। ঢাকা পর্বে টানা চার ম্যাচ জেতা ঢাকা ডায়নামাইটসকে যখন মনে হচ্ছিল দুর্দান্ত অপরাজেয় একটি দল, তারাই কি না মায়েদের স্নেহের আলিঙ্গনে বদলে যাওয়া রাজশাহী কিংসের কাছে পেলো প্রথম পরাজয়ের স্বাদ! ঢাকাকে প্রথম পরাজয় উপহার দিয়ে অবিস্মরণীয় এক জয় পেলো রাজশাহী কিংস।

রাজশাহী প্রথম ব্যাট করতে নেমে যখন ১৩৬ রান করলো, তখন মনে হচ্ছিল, এই ম্যাচে অনায়াসেই হারতে যাচ্ছে তারা। ঢাকায় এই দুই দলের মুখোমুখিতে হজরতুল্লাহ জাজাইয়ের টর্নেডো ব্যাটিংয়ের কাছেই হারতে হয়েছিল রাজশাহীকে। কিন্তু এই ম্যাচে মায়ের ছোঁয়ায় উজ্জীবিত ইসুরু উদানার বলে বোল্ড হয়ে গেলেন জাজাই মাত্র ৬ রানে। ১৩৭ রানের লক্ষ্যে তখনই কঠিন হয়ে যায় ঢাকার সামনে।

তার আগেই আরেক বিধ্বংসী ব্যাটসম্যান সুনিল নারিনকে ফিরিয়ে দিয়েছিলেন ‘মিনারা’ নামক জার্সির মেহেদী হাসান মিরাজ। জাজাইও ফিরে গেলেন। এরপর ঢাকার বাকি উইকেটগুলো একে একে তুলে নিলেন রাজশাহীর বোলাররা। সবচেয়ে বিধ্বংসী এবং কৃপণ ছিলেন ‘নার্গিস’ নাম লেখা জার্সির আরাফাত সানি। ৪ ওভারে ১টি মেডেন, মাত্র ৮ রান দিয়ে ৩ উইকেট। ঢাকা তো এক ‘নার্গিসে’র কাছেই শেষ।

ম্যাচ শেষে সেরার পুরস্কার উঠলো গর্বিত মা ‘নার্গিসে’র ছেলে আরাফাত সানির হাতে। ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত হয়ে আরাফাত সানি নিজেও ঢাকার বিপক্ষে পাওয়া এই জয়কে উৎসর্গ করলেন মায়েদের জন্য। অধিনায়ক মিরাজ এই ম্যাচে ব্যাট হাতে কিছু করতে না পারলেও বল হাতে ছিলেন দুর্দান্ত। ৩ ওভারে ১৮ রান দেয় নিলেন ২ উইকেট। মোস্তাফিজুর রহমান ৪ ওভারে ১৯ রান দিয়ে নিয়েছেন ১ উইকেট। তবে শেষ ২ ওভারেই রাজশাহীকে জয় উপহার দেন তিনি।

সিলেটে এসে কাকতালীয় একটি ব্যাপার ঘটালো রাজশাহী কিংস। সিলেট পর্বের প্রথম দুই দিনে দুটি ম্যাচ খেলে ফেলেছে মেহেদী হাসান মিরাজের দল। এই দুই ম্যাচে এমন দুটি ঘটনা ঘটিয়েছে তারা, যা যে কাউকে অবাক করে দেবে। প্রথমদিন তারা হেরেছিল খুলনা টাইটান্সের কাছে। দ্বিতীয় দিন হারিয়েছে ঢাকা ডায়নামাইটসকে।