সংরক্ষিত ৩টি আসনের এমপি পদ প্রত্যাশী চট্টগ্রামের ১৬ নারী

আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের তফসিল ঘোষণা করা হবে। তবে এরই মধ্যে ব্যস্ততা শুরু হয়ে গেছে সংরক্ষিত আসনে এমপি পদ প্রত্যাশীদের। সংরক্ষিত ৫০টি আসনের মধ্যে চট্টগ্রাম এবং পার্বত্য চট্টগ্রামের জন্য বরাদ্দ রয়েছে ৩টি আসন। এই ৩টি আসনের বিপরীতে আলোচনায় আছেন চট্টগ্রামের ১৬ নারী।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইতোমধ্যে ঘোষণা দিয়েছেন, গত সংসদগুলোতে সংরক্ষিত নারী এমপি পদে যারা নির্বাচিত হয়েছিলেন তারা এবার দলের মনোনয়ন পাবেন না। তাই গত মেয়াদে চট্টগ্রাম এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে নির্বাচিত তিন নারী সংসদ সদস্য ওয়াসিকা আয়েশা খান, সাবিহা মুছা এবং ফিরোজা বেগম চিনু এবার আলোচনার বাইরে আছেন।

নতুন করে আলোচনায় এসেছেন আওয়ামী লীগ, মহিলা আওয়ামী লীগ, যুব মহিলা লীগ, সাবেক ও বর্তমান কাউন্সিলর, পেশাজীবীসহ অনেকেই। এরই মধ্যে অনেকেই মনোনয়ন লাভের জন্য দল ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করে দিয়েছেন। তাদের অনেকে গণভবনে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার সঙ্গেও দেখা করছেন।

জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী ও দলের পক্ষ থেকে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে সংরক্ষিত নারী এমপি পদে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। এর ভিত্তিতে প্রধানমন্ত্রী নিজেই সংরক্ষিত নারী এমপি হিসেবে মনোনয়ন পাওয়ার উপযোগীদের নাম চূড়ান্ত করবেন।

চট্টগ্রাম থেকে সংরক্ষিত আসনে সম্ভাব্য সংসদ সদস্য প্রার্থী হিসেবে যাদের নাম উঠে এসেছে তারা হলেন- চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও সাবেক সংসদ সদস্য রফিকুল আনোয়ারের মেয়ে খাদিজাতুল আনোয়ার সনি, সুচিন্তা বাংলাদেশ চট্টগ্রাম বিভাগের সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট জিনাত সোহানা চৌধুরী, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাবেক নারী কাউন্সিলর ও নারী নেত্রী অ্যাডভোকেট রেহেনা বেগম রানু, দক্ষিণ জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শামীমা হারুন লুবনা, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাবেক কাউন্সিলর রেখা আলম চৌধুরী,চট্টগ্রাম উইম্যান চেম্বার অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মনোয়ারা হাকিম আলী, সাবেক সংসদ সদস্য হাসিনা মান্নান।

এ ছাড়াও আলোচনায় আছেন- চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী ও সাবেক সংসদ সদস্য চেমন আরা তৈয়ব, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর জেসমিন পারভিন জেসি, দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট কামরুন্নাহার বেগম, উত্তর জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট বাসন্তী প্রভা পালিত, দক্ষিণ জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ সভাপতি শাহিদা আকতার জাহান, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খালেদা আক্তার চৌধুরী, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের কাউন্সিলর আবিদা আজাদ, কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগ সাংগঠনিক সম্পাদক নাজনীন সরোয়ার কাবেরী এবং কক্সবাজার মহিলা আওয়ামী লীগ সভাপতি কানিজ ফাতেমা মোস্তাক।

তরুণ নারী নেত্রী সুচিন্তা বাংলাদেশের চট্টগ্রাম বিভাগীয় সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট জিনাত সোহানা চৌধুরী বলেন, ‘সুচিন্তা বাংলাদেশের উদ্যোগে পুরো চট্টগ্রামে জঙ্গিবাদবিরোধী প্রচরণা, মাদ্রাসায় জাতীয় সঙ্গীত চর্চাসহ বিভিন্ন ইতিবাচক কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত আছি। প্রধানমন্ত্রী তরুণদের অগ্রাধিকার দিচ্ছেন। সেজন্য মনোনয়নের ব্যাপারে আমি আশাবাদী।’

আরেক মনোনয়নপ্রত্যাশী চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাবেক নারী কাউন্সিলর অ্যাডভোকেট রেহেনা বেগম রানু বলেন, ‘২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের নির্বাচনে দল ক্ষমতায় আসার পরে সংরক্ষিত আসনে এমপি হচ্ছি- এটা প্রায় নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু একেবারে শেষ মুহূর্তে পাল্টে যায় সিদ্ধান্ত। তবুও দলের জন্য কাজ করে যাচ্ছি নির্মোহভাবে। পদ-পদবির লোভ আমাকে কখনও স্পর্শ করেনি। আশা করছি, এবার নতুনে আস্থা রেখে যোগ্য নারীদের বেছে নেবেন প্রধানমন্ত্রী।’

খাদিজাতুল আনোয়ার সনি বলেন, ‘এবারের সংসদ নির্বাচনে দল থেকে প্রার্থী হিসেবে চেয়েছিল ফটিকছড়িবাসী। তবে শেষ পর্যন্ত জোটকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। ফটিকছড়ি থেকে টানা দুইবার এমপি হয়েছেন আমার বাবা মরহুম রফিকুল আনোয়ার। এ উপজেলার মানুষের সঙ্গে যে আত্মার সম্পর্ক তৈরি হয়েছে, তা টেনে নিতে চাই। দলীয় সিদ্ধান্তকেও সম্মান করি। তাই এবার নিশ্চই আমাকে মূল্যায়ন করা হবে বলে প্রত্যাশা করছি।’