দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে দোহাজারী-রামু-কক্সবাজার রেললাইন

নির্বাচনে জয়লাভের পর বেশ কিছু প্রকল্প হাতে নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার। তার অগ্রাধিকার প্রকল্পগুলোর মধ্যে অন্যতম দোহাজারী-রামু-কক্সবাজার রেললাইন। এই রেললাইন প্রকল্পের কাজ এগিয়ে চলছে দ্রুতগতিতে। চট্টগ্রামের দোহাজারী থেকে রামু হয়ে কক্সবাজার রেললাইনের নির্মাণ কাজের প্রায় ২২ শতাংশ ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে। এরই মধ্যে চট্টগ্রাম-কক্সবাজারের বিভিন্ন উপজেলায় ভূমি অধিগ্রহণের কাজও শেষ হয়েছে। আগামী ২০২২ সালের মধ্যেই এ প্রকল্পটি চালু হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।

সামগ্রিকভাবে দৃশ্যমান হয়ে উঠছে দোহাজারী-রামু-কক্সবাজার রেললাইনের নির্মাণ কাজগুলো। প্রকল্পটি দ্রুত বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে কক্সবাজারবাসীর অপার সম্ভাবনার দ্বার খুলে যাবে বলেও জানান সংশ্লিষ্টরা। আগামী তিন বছরের মধ্যেই ট্রেনে চড়ে আসা যাবে বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকতের পর্যটন নগরী কক্সবাজারে।

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার-ঘুমধুম রেললাইনের প্রকল্প পরিচালক (পিডি) মো. মফিজুর রহমান বলেন, এ রেললাইনের রাস্তা নির্মাণ কাজ, ব্রিজ নির্মাণের কাজসহ প্রকল্পের আওতায় বিভিন্ন চলমান উন্নয়ন কাজ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে চট্টগ্রাম-কক্সবাজারের বিভিন্ন উপজেলার ভূমি অধিগ্রহণও শেষ হয়েছে। রেললাইনের রাস্তা নির্মাণসহ অনেক কাজ দৃশ্যমান হচ্ছে। তাছাড়া কক্সবাজার সদরেই ঝিনুক আকৃতির রেলওয়ে স্টেশন হচ্ছে। ঝিনুক আকৃতির এ স্টেশন দেখলেই বোঝা যাবে এটি সমুদ্রসৈকতের রেলওয়ে স্টেশন। প্রকল্পের কাজের অগ্রগতি নিয়ে ইতিমধ্যে একাধিকবার পরিদর্শন করেছেন রেলওয়ের বিভিন্ন পর্যায়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছে ১৮ হাজার ৩৫ কোটি টাকা।

২০১১ সালের ৩ এপ্রিল দোহাজারী-রামু-কক্সবাজার এবং রামু-ঘুমধুম পর্যন্ত মিটারগেজ রেলপথ নির্মাণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আইনি জটিলতায় ক্ষতিপূরণের টাকা দিতে কিছুটা ধীরগতি ও বন বিভাগের কিছু জায়গা না পাওয়ায় নির্মাণ কাজ পিছিয়ে গিয়েছিল। প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রাম হয়ে দোহাজারী-রামু-কক্সবাজার যাওয়ার পথে রামু হবে জংশন স্টেশন। সেখান থেকে একটি লাইন চলে যাবে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের পাশে। আরেকটি লাইন পূর্বদিকে মিয়ানমারের কাছে ঘুমধুম যাবে। এ রেলওয়ে নেটওয়ার্ক মিয়ানমার-বাংলাদেশ-ভারত-পাকিস্তান-ইরান হয়ে যাবে ইউরোপের তুরস্ক পর্যন্ত। সৈকতের স্টেশনটি হবে বিশাল ঝিনুক আকৃতির। এই ঝিনুকের ভিতরেই হবে প্লাটফর্ম এবং যাত্রী আসা-যাওয়া ও বসার লাউঞ্জ। প্রকল্পের কাজের মনিটরিং চলছে খোদ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকেই।

প্রকল্পের কাজ শেষ হবে ২০২২ সালের মধ্যে। চট্টগ্রাম-কক্সবাজার-ঘুমধুম রেললাইন স্থাপিত হলে যোগাযোগসহ দেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনার নতুন দ্বারও বিস্তৃত হবে। ব্রডগেজসহ ডুয়েল লাইনের মাধ্যমেই বাস্তবায়িত হতে যাচ্ছে এ প্রকল্পটি। এ প্রকল্পের মাধ্যমে পর্যটন শহর কক্সবাজার রেল নেটওয়ার্কের আওতায় আসবে। এতে পর্যটন শিল্পের যেমন বিকাশ ঘটবে, তেমনি বিস্তৃত হবে সেখানকার ব্যবসা-বাণিজ্যও।

প্রকল্পে যা আছে : দোহাজারী-কক্সবাজার রেলপথ প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে পর্যটক ও স্থানীয় জনগণের জন্য নিরাপদ, আরামদায়ক, সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব যোগাযোগ ব্যবস্থার প্রবর্তন হবে। সহজে ও কম খরচে মাছ, লবণ, কাগজের কাঁচামাল, বনজ ও কৃষিজ দ্রব্যাদি পরিবহন এবং ট্রান্স-এশিয়ান রেলওয়ে করিডর মিসিং লিংক নির্মাণ। দোহাজারী থেকে রামু পর্যন্ত ৮৮ কিমি রামু থেকে কক্সবাজার ১২ কিমি এবং রামু  থেকে ঘুমধুম পর্যন্ত ২৮ কিমি রেলপথ নির্মাণ হচ্ছে। ১২৮ কিমি রেলপথে স্টেশনের সংখ্যা থাকছে ৯টি। এগুলো হলো- সাতকানিয়া, লোহাগাড়া, চকরিয়ার সাহারবিলের রামপুর, ডুলাহাজারা, ঈদগাও, রামু, কক্সবাজার, উখিয়া ও ঘুমধুম। এতে কম্পিউটার বেইজড ইন্টারলক সিগন্যাল সিস্টেম থাকবে ৯টি, ডিজিটাল টেলিকমিউনিকেশন সিস্টেম থাকবে ৯টি। সাঙ্গু, মাতামুহুরী ও বাঁকখালী নদীর ওপর নির্মাণ করা হবে সেতু। এ ছাড়া ৪৩টি মাইনর সেতু, ২০১টি কালভার্ট, সাতকানিয়ার কেঁওচিয়া এলাকায় একটি ফ্লাইওভার, ১৪৪টি লেভেল ক্রসিং এবং রামু ও কক্সবাজার এলাকায় দুটি হাইওয়ে ক্রসিং নির্মাণ করা হবে। প্রকল্পটির কাজ শুরু হয়েছে ২০১০ সালের জুনে এবং আগামী ২০২২ সালের মধ্যে শতভাগ কাজ শেষ করার লক্ষ্য নিয়ে দ্রুত এগিয়ে চলছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে ট্রান্স-এশিয়ান রেলওয়ে করিডরের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন হবে। এতে আঞ্চলিক, উপ-আঞ্চলিক রেল যোগাযোগের ক্ষেত্রে সিল্ক রুট (চীন-মিয়ানমার-বাংলাদেশ) ও ট্রান্স-এশিয়ান রেলওয়ে বিদ্যমান রেলপথটি গুরুত্বপূর্ণ সেতুবন্ধ হিসেবে কাজ করবে।