আজ বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ৭১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী

আওয়ামী লীগের সহযোগি সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ দেশের একটি প্রাচীন ও প্রধান রাজনৈতিক ছাত্র সংগঠন। অবিভক্ত পাকিস্তানের সর্বপ্রথম ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হাতেগড়া সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ৭১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী শুক্রবার (৪ জানুয়ারি)। ১৯৪৮ খ্রিস্টাব্দের ৪ জানুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক মুসলিম হলে উপ-মহাদেশের বৃহৎ ছাত্র সংগঠনটি আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে।

১৯৪৮ সালের ৪ জানুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক হলের অ্যাসেম্বলি হলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পূর্ব পাকিস্তান মুসলিম ছাত্রলীগ প্রতিষ্ঠা করেন। অসাম্প্রদায়িক চেতনা জাগ্রত করতে ১৯৫৫ সালে নাম পরিবর্তন করে পূর্ব পাকিস্তান ছাত্রলীগ করা হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই ছাত্রলীগ এ ভূখণ্ডের ছাত্রদের অধিকার আদায়ের পাশাপাশি বিভিন্ন গণআন্দোলনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে। ১৯৫২’র ভাষা আন্দোলন, ১৯৫৪’র যুক্তফ্র্রন্টের নির্বাচন, ১৯৬২’র শিক্ষা আন্দোলন, ১৯৬৬’র ছয় দফা আন্দোলন, সর্বোপরি ১৯৬৯’র গণঅভ্যুত্থানে ছাত্রলীগ গৌবরোজ্জ্বল ভূমিকা পালন করে জনগণের আস্থার সংগঠন হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করে। এ দেশের মানুষের জাতীয়তাবোধ জাগ্রত করা এবং স্বাধিকার ও স্বায়ত্তশাসনের আন্দোলনে ছাত্রলীগের রয়েছে সংগ্রামী ইতিহাস। ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধকালে ছাত্রলীগের সাড়ে ১৭ হাজার নেতাকর্মী শহীদ হন। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর এ সংগঠনের নামকরণ করা হয় বাংলাদেশ ছাত্রলীগ।

ঐতিহ্যবাহী এই ছাত্র সংগঠনটির জন্ম আওয়ামী লীগের এক বছর আগে। শিক্ষা, শান্তি ও প্রগতির পতাকাবাহী সংগঠন, জাতির মুক্তির স্বপ্নদ্রষ্টা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হাতে গড়া, জীবন ও যৌবনের উত্তাপে শুদ্ধ সংগঠন, সোনার বাংলা বিনির্মাণের কর্মী গড়ার পাঠশালা বাংলাদেশ ছাত্রলীগ।

১৯৪৮ সালের ৪ জানুয়ারি সময়ের দাবিতেই বাংলাদেশ ছাত্রলীগ প্রতিষ্ঠা করেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। সময়ের প্রয়োজন মেটাতেই এগিয়ে চলা বাংলাদেশ ছাত্রলীগের। জন্মের প্রথম লগ্ন থেকেই ভাষার অধিকার, শিক্ষার অধিকার, বাঙালির স্বায়ত্তশাসন প্রতিষ্ঠা, দুঃশাসনের বিরুদ্ধে গণঅভ্যুত্থান, সর্বোপরি স্বাধীনতা ও স্বাধিকার আন্দোলনের ছয় দশকের সবচেয়ে সফল সাহসী সারথি বাংলাদেশ ছাত্রলীগ।