প্রধান দলের আসনে বসতে পারে জাতীয় পার্টি

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ এককভাবে ২৫৯ আসনে জয়লাভ করে চতুর্থবারের মতো প্রধানমন্ত্রী হতে যাচ্ছেন জননেত্রি শেখ হাসিনা। তারই নেতৃত্বে টানা তৃতীয়বারের মতো বিশাল জয় পেল মহাজোট। এখন সর্বত্র আলোচনা চলছে একাদশ সংসদের বিরোধী দল নিয়ে। কারা হচ্ছে সংসদের প্রধান বিরোধী দল এবং কে হচ্ছেন বিরোধীদলীয় নেতা?

এবার সমীকরণটা একটু ভিন্ন। কারণ দশম সংসদ নির্বাচনে অংশ না নিলেও একাদশ সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়েছে দেশের অন্যতম রাজনৈতিক দল বিএনপি, যদিও এরই মধ্যে তারা শপথ না নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।

তবে দশম সংসদের বিরোধী দল জাতীয় পার্টি এবারও মহাজোটের অংশ হয়ে নির্বাচন করেছে। জোটভুক্ত ও উন্মুক্ত মিলে মোট ২০ আসন পেয়েছে তারা। তাই দশম জাতীয় সংসদের মতো এবারও জাতীয় পার্টি বিরোধী দলের আসনে বসতে পারে। আইনবিদরা বলেছেন, সংসদের মোট আসনের মধ্যে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে জয়ীরা সরকার গঠন করবে। আর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আসনে বিজয়ীরা হবে প্রধান বিরোধী দল। সে ক্ষেত্রে প্রধান বিরোধী দলের মনোনীত সংসদ সদস্যই হবেন বিরোধীদলীয় নেতা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আবদুল বাসেত মজুমদার বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, সংসদে প্রধান বিরোধী দল হতে অন্তত কত আসনে জয়ী হতে হবে এমন কোনো বাধ্যবাধকতা দেশের কোনো আইনে নেই। তবে ভারতীয় সুপ্রিম কোর্টের একটি রায় রয়েছে, যেখানে ২০টি আসনে জয়ী হলে প্রধান বিরোধী দল হতে বাধা থাকবে না বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি বলেন, রবিবার অনুষ্ঠিত নির্বাচনে জাতীয় পার্টি ২০ আসন পেয়েছে। আর বিএনপি পেয়েছে ৫টি আসন। সে ক্ষেত্রে জাতীয় পার্টিই প্রধান বিরোধী দল হতে পারে।

আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোটগতভাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় প্রধান বিরোধী দল হতে কোনো বাধা হবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, জোটগতভাবে নির্বাচন কোনো সমস্যা নয়। জোট হয়েছে নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য, এ ছাড়া তারা পৃথক প্রতীকেও নির্বাচন করেছে।

এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের আরেক জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ও আওয়ামী লীগের সভাপতিম লীর সদস্য আবদুল মতিন খসরু বলেন, সংসদে বিরোধী দলের মোট আসনের ১০ শতাংশ থাকতে হবে। আর সংখ্যাগরিষ্ঠ দল সরকার গঠন করবে। সরকারের বাইরে যেসব দল বা স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যরা থাকবেন, তারা সবাই বিরোধী দলের সদস্য হিসেবে থাকেন। সে ক্ষেত্রে সরকারের বাইরে থাকা দল বা সংসদ সদস্যরা মিলেই ঠিক করবে প্রধান বিরোধী দল ও বিরোধীদলীয় নেতা।

জানতে চাইলে সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. শাহদিন মালিক বলেন, আওয়ামী লীগ এককভাবে সরকার গঠন করার মতো আসনে জয়লাভ করেছে। এখন তারা চাইলে তাদের জোটের সদস্যদেরও সরকারে রাখতে পারে। তিনি বলেন, এরপর যেসব এমপি বা দল থাকবে, তারা বিরোধী দল হিসেবে সংসদে থাকবে। প্রধান বিরোধী দল হতে, কত আসনে জয়ী হতে হবে? এমন কোনো বিধান রয়েছে কি না- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, এ ধরনের কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। যারা দ্বিতীয় সংখ্যাগরিষ্ঠ তারাই প্রধান বিরোধী দল হবে।

রবিবার অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফলে দেখা গেছে, সংসদের মোট ৩০০ আসনের মধ্যে একটি আসনের ভোটগ্রহণ স্থগিত হয়েছে একজন প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে। গতকাল পর্যন্ত পাওয়া গেছে ২৯৮ আসনের চূড়ান্ত ফলাফল। এ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ এককভাবে পেয়েছে ২৫৯ আসন। আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোটবদ্ধভাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়া জাতীয় পার্টি (চলতি সংসদের প্রধান বিরোধী দল) পেয়েছে ২০ আসন। আর বিএনপি নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট পেয়েছে ৭টি আসন। এর মধ্যে বিএনপি ৫ ও গণফোরাম ২টি আসনে জয়লাভ করেছে। আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে নির্বাচনে অংশ নেওয়া জাসদ ২টি ও ওয়ার্কার্স পার্টি ৩টি এবং তরীকত ফেডারেশন ও জেপি পেয়েছে একটি করে আসন। এ ছাড়া ৩ জন স্বতন্ত্র প্রার্থীও এ নির্বাচনে জয়ী হয়েছেন।