নির্বাচনে হেরে পুনঃনির্বাচনের দাবিতে বিএনপির নানা কর্মসূচি

সীমাহীন অনিয়ম ও কারচুপির অভিযোগ এনে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করার পাশাপাশি নিরপেক্ষ নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি জানিয়ে আন্দোলনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। পুনঃনির্বাচনের দাবিতে আগামী ৩ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার জাতীয় ঐক্যফ্রন্টসহ সব বিরোধী দলের প্রার্থীরা নির্বাচন কমিশনে স্মারকলিপি প্রদান করবেন এবং এখান থেকেই তারা পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করবেন। 

গতকাল (সোমবার) রাতে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেনের মতিঝিলের চেম্বারে অনুষ্ঠিত ঐক্যফ্রন্টের স্টিয়ারিং কমিটির বৈঠক শেষে ড. কামাল হোসেন একথা জানান।

অন্যদিকে নতুন সংসদে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট থেকে নির্বাচিত সদস্যদের শপথ নেওয়ার ব্যাপারেও কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি গতকাল। তবে এ প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, আমরা এ নির্বাচনের ফলাফল পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করেছি। কাজেই এর বাইরে আর কোনো কথা থাকতে পারে না। ‘দ্যাটস এনাফ’। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বিএনপি চায় শপথ না নিতে, কিন্তু গণফোরাম থেকে নির্বাচিত দুজন চান শপথ নিতে। এ অবস্থায় বিষয়টি অমীমাংসিত রাখা হয়।

বৈঠক থেকে ড. কামাল হোসেন একটি বিবৃতি দেন। এতে তিনি বলেন, ‘৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের নামে যে প্রহসনমূলক নাটক মঞ্চস্থ হলো, তা সমগ্র দেশবাসী প্রত্যক্ষ করেছেন এবং তা হাড়ে হাড়ে উপলব্ধি করেছেন। একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশের নির্বাচনী ব্যবস্থাকে কীভাবে ধ্বংস করা হয়েছে, তা এদেশের মানুষসহ সমগ্র বিশ্ববাসীকে দেখিয়ে দিয়েছেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এবং তাদের আজ্ঞাবহ প্রধান নির্বাচন কমিশনার। এই কথিত নির্বাচনে আওয়ামী লীগের দলীয় সরকারকে বিজয়ী দেখালেও প্রকারান্তরে হেরেছে বাংলাদেশ ও তার ১৭ কোটি মানুষ। এর মধ্যদিয়ে কবর রচিত হয়েছে আমাদের বহু আকাক্সিক্ষত গণতন্ত্রের। সার্বিক অবস্থা বিবেচনা করে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট কথিত নির্বাচনের ফলাফল ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করে নির্দলীয় সরকারের অধীনে অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের দাবি জানিয়েছে।’

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, দলের ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু, জেএসডি সভাপতি আ স ম আবদুর রব, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসীন মন্টু, জেএসডির সাধারণ সম্পাদক আবদুল মালেক রতন প্রমুখ বৈঠকে অংশ নেন।