ধানের শীষের বিজয়ী প্রার্থীরা শপথ নেবেন না বলে সিদ্ধান্ত

নির্বাচনের ক্ষমতাসীনদের কাছে ভরাডুবি হয়েছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের। ফলে এখন প্রশ্ন উঠছে, আন্দোলনের অংশ হিসেবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও এ অবস্থায় তাদের জয়ী প্রার্থীরা সংসদ সদস্যের শপথ গ্রহণ করবেন কি না? অবশেষে ধানের শীষের বিজয়ী প্রার্থীরা শপথ নেবেন না বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি। একই সঙ্গে নির্বাচনে ‘ভোট ডাকাতি’ হয়েছে অভিযোগ করে ঘোষিত ফলাফল বাতিল ও অবিলম্বে পুনঃনির্বাচনের দাবি জানিয়েছে দলটি।

গতকাল রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়। এ ছাড়া ‘গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠায়’ আগামী দিনে আন্দোলন কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়।

সদ্য অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি ও জোটের সাতজন প্রার্থী জয়লাভ করেছেন। তাদের মধ্যে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে ছয়জন ও গণফোরামের উদীয়মান সূর্য প্রতীক নিয়ে একজন রয়েছেন।

এর আগে স্থায়ী কমিটির সদস্যরা বিকাল ৪টা থেকে  দেড় ঘণ্টা বৈঠক করেন। বৈঠক শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে অবশ্য বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, নির্বাচনে নজিরবিহীন রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের মাধ্যমে ভোট ডাকাতি করা হয়েছে। এই কলঙ্কজনক নির্বাচন বাতিল করে পুনরায় নির্বাচন করতে হবে। এটা অনতিবিলম্বে নির্দলীয়-নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে করতে হবে। দাবি আদায়ে আইনি লড়াইয়ের পাশাপাশি আন্দোলনের কর্মসূচি থাকবে বলেও জানান বিএনপি মহাসচিব।

সূত্র জানায়, নির্বাচনে যাওয়া না যাওয়া নিয়ে এবং নির্বাচনের আগে ও নির্বাচনের দিন প্রার্থী ও নেতা-কর্মীদের ওপর হামলার পরও কেন্দ্র থেকে সঠিক নির্দেশনা না পাওয়া নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। একপর্যায়ে এসব বিষয় নিয়ে স্থায়ী কমিটির সদস্যদের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ের ঘটনাও ঘটে। তবে নির্বাচনের শেষ পর্যন্ত থাকা সঠিক সিদ্ধান্ত বলে একাধিক নেতা মত দেন।

তারা বলেন, নির্বাচনের মধ্য দিয়ে সরকার ও নির্বাচন কমিশনের আসল চেহারা উন্মোচিত হয়েছে। বৈঠকে স্থায়ী কমিটির এক সদস্য বলেন, অনেকে ২০১৪ সালের নির্বাচনে বিএনপি অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্তকে ভুল বলেছিলেন। আমার বিশ্বাস এখন তারাই বলবে ওই নির্বাচনে বিএনপি অংশ না নিয়েই সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। দলীয় সরকারের অধীনে যে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব নয়, তা একাদশ সংসদ নির্বাচনে প্রমাণ হয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য বলেন, বৈঠকে ধানের শীষের বিজয়ীদের প্রসঙ্গ উঠলে এ নিয়ে সব নেতাই কথা বলেন। স্থায়ী কমিটির সদস্যদের মধ্যে যারা নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন তারা সবাই তাদের নির্বাচনী এলাকার পরিস্থিতি তুলে ধরেন। পরে ধানের শীষের বিজয়ীদের শপথ গ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত হয়।