নতুন বছরে নতুন বারিশ

বর্তমান ফ্যাশন জগতে নতুন প্রজন্মের মডেলদের মধ্যে বারিশ হক একটি সুপরিচিত নাম। তিনি শুধু মাত্র একজন মডেলই নন পাশাপাশি একজন ক্ল্যাসিকাল নৃত্যশিল্পী, একজন অভিনেত্রী এবং একজন উপস্থাপিকাও। তবে নিজেকে নৃত্যশিল্পী হিসেবেই পরিচয় দিতে বেশী স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন তিনি।

পুরনো বছরের বিদায় বেলায় কথা হয় এই মডেলের সাথে শুধু ফ্যাশন নিয়েই নয় মিডিয়ার নানা বিষয় নিয়ে এবং বছর শেষে তার অভিজ্ঞতা ও নতুন বছরের পরিকল্পনা নিয়ে।

প্রশ্নঃ কেমন আছেন? কেমন কাটলো আপনার ২০১৮?

বারিশঃ আলহামদুলিল্লাহ সকলের দোয়ায় ভালো আছি। ২০১৮ কেটেছে অনেক ব্যস্ততায়। অনেক গুলো কাজ করেছি। এ বছর দুটি নাটক ও একটি ধারাবাহিকে কাজ করেছি। ধারাবাহিকটির নাম ‘পাগলা হাওয়া’ যা সম্প্রচারিত হচ্ছে বাংলাভিশনে। পাশাপাশি ব্র্যান্ড শুট ছিল কিছু, ওয়েন্ড ব্র্যান্ডের ব্র্যান্ড এম্বাসিডর এবং মার্কেটিং সাইডে কাজ শুরু করেছি। আর বছরটা শেষ হয়েছে ই ভ্যালি এর উদ্ভোধনি অনুষ্ঠানের ফ্যাশন শো দিয়ে, যেটা সব চাইতে বেশি সাড়া ফেলেছে। এছাড়াও এবছরের সবচেয়ে বড় পাওয়া হল জনপ্রিয় নৃত্যশিল্পী সোহেল রহমানের সাথে আমার নাচের জুটি।

প্রশ্নঃ সম্প্রতি আমরা জানতে পেরেছি আপনি একটি গ্রুমিং স্কুলের সাথে যুক্ত হয়েছেন। সে ব্যাপারে কিছু বলুন?

বারিশঃ হ্যাঁ, এবছরই আমি ডুগডুগি গ্রুমিং ইন্সটিটিউটে একজন গ্রুমার হিসেবে জয়েন করলাম।

প্রশ্নঃ সম্প্রতি ফেইসবুকে আমরা সম্পূর্ণ নতুন রূপে ভিন্ন ভাবে বারিশকে দেখতে পাচ্ছি। বছর শেষে ভিন্ন রূপে নিজেকে উপস্থাপন করার পিছনে কি কোন কারণ রয়েছে?

বারিশঃ আসলে এটা পুরোপুরিই আমার নিজস্ব একটা পোর্টফোলিয়ো ফটোশুট ছিল। আমি মাঝে একটু মুটিয়ে গিয়েছিলাম। পরবর্তীতে আমি কঠোর পরিশ্রম করে নিজেকে আবার শেইপে আনি। এরপর ইন্ডাস্ট্রিতে আমার সিনিয়র যারা আছেন তারা সবাই আমাকে পরামর্শ দেন যে ভাল কাজ করতে হলে কিছু পোর্টফোলিয়ো তৈরি করা দরকার। তো সেখান থেকেই আমি এই ফটোশুট করিয়েছি।

আর আমি কখনই চাইনি কেউ বলুক বারিশ মিডিয়াতে কাজ করার জন্য অন্য কোন পথ অবলম্বন করেছে। নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য এবং এই মিডিয়াতে নিজের অবস্থান ধরে রাখার জন্য আমি অনেক অনেক বেশি পরিশ্রম করে যাচ্ছি। এতো বছর মিডিয়াতে কাজ করার পর আমার মনে হয়েছে যে আমি হয়তো ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করছি কিন্তু একজন ফ্যাশন আইকন হিসেবে এখনো আমি আমার নিজস্ব অবস্থান সেভাবে গড়ে তুলতে পারিনি। হয়তো সেটা আমারই ব্যর্থতা ছিল বা আমি যুগের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে পারিনি। আমি পারিনা তা না, আমি এতদিন নিজেকে সেভাবে উপস্থাপন করতে চাইনি। এখন সময় হয়েছে যুগের সাথে তাল মিলিয়ে আমার নিজেকে উপস্থাপন করার।

প্রশ্নঃ আপনার এই পরিবর্তন দর্শক কিভাবে নিবে বলে আপনি মনে করেন?

বারিশঃ প্রতিটা কাজেরই একটা ভালো দিক থাকে একটা খারাপ দিক থাকে। আমিই প্রথম মডেল না যে খলামেলা পোশাকে এভাবে সবার সামনে এসেছি। হ্যাঁ, সবাই আমাকে যেভাবে দেখতো তারচেয়ে একটু ভিন্ন রূপে দেখছে। এজন্য হঠাৎ করে হয়তো অনেকে মেনে নাও নিতে পারে। কিন্তু আমার মনে হয় যারা আমাকে ভালবাসে, আমার কাজকে ভালবাসে, আমাকে শ্রদ্ধা করে, যারা আমাকে চেনে জানে তাদেরকে আমার সাথে থাকার জন্যই আমি বলবো। যেহেতু ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করছি সুতরাং যুগের সাথে তাল মিলিয়ে এবং দর্শকের চাহিদা অনুযায়ী আমাকে নিজেকে বদলাতে হবে এবং গড়তে হবে।

প্রশ্নঃ নতুন বছর কেমন যাবে বলে আপনি মনে করেন বা নতুন বছরে আপনার পরিকল্পনা কি?

বারিশঃ নতুন বছরের পরিকল্পনা এখনো সেভাবে হয়নি। তবে মনে হচ্ছে নতুন বছর আমার অনেক ভালোই যাবে। আমার নতুন বছরটাই শুরু হতে যাচ্ছে খুব চমৎকার ভাবে। আমি প্রথমবারের মত কলকাতায় একটি ফ্যাশন শো করতে যাচ্ছি।

এর আগে আমি আমার ব্যক্তিগত কারণে আমার কাজে মনোযোগ দিতে পারিনি, নতুন বছর আমি শুধু আমার কাজে মনোযোগ দিব। আশা করি দর্শকদের ভালো কিছু কাজ উপহার দিতে পারব।

এজন্য আমি সকলের কাছে দোয়া চাচ্ছি, আমি আশা রাখছি আমার এই পরিবর্তনটাকে সকলে ভালো ভাবে নিবে। আসলে নিজে ভালো থাকলেই জগৎ ভালো। পোশাক দিয়ে কাওকে বিবেচনা করা উচিত না। সকলের দোয়া ও ভালবাসা থাকলে আমি অবশ্যই সফল ভাবে এগিয়ে যেতে পারব।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here